খবর

নিম্ন দামোদর উপত্যকায় প্লাবন, ফরাক্কায় ধসে বিপর্যস্ত রেল চলাচল

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
  • বিশেষত নিম্ন দামোদর উপত্যকার হাওড়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় জল ঢুকেছে।
  • খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং উদয়নারায়ণপুরে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নিম্নচাপের প্রভাবে টানা ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিশেষত নিম্ন দামোদর উপত্যকার হাওড়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ নিচু এলাকায় জল ঢুকেছে। খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং উদয়নারায়ণপুরে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং দ্রুত জল নেমে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবার জলসম্পদ দফতরের কার্যালয়ে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিক ও সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছ থেকে তিনি বন্যা পরিস্থিতির বিস্তারিত খোঁজ নেন। বৈঠকের পরে শুভেন্দু বলেন, “কয়েকটি এলাকায় জল জমে থাকলেও উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনও কারণ নেই। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে।”

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিপজ্জনক ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মানুষকে উদ্ধারের পাশাপাশি গবাদি পশুগুলিকেও নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয়ের বন্দোবস্ত করতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, অসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মী এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে নেমেছে। জলস্তরের ওঠানামা এবং বাঁধের পরিস্থিতির উপর চব্বিশ ঘণ্টা নজর রাখছে প্রশাসন। ভারী বৃষ্টির জেরে নদীর জল বেড়ে বাঁধগুলির উপর চাপ সৃষ্টি হলেও এখনও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

দামোদর উপত্যকা নিগমের ভূমিকার প্রশংসাও করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিগম সুষ্ঠুভাবে জল ছাড়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং ইতিমধ্যেই সেই পরিমাণ কমানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিপুল বৃষ্টি ও জলের প্রচণ্ড চাপ সত্ত্বেও কোনও বাঁধে ফাটল ধরেনি। এই প্রসঙ্গে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, অতীতে বর্ষাকালে বহু বাঁধে ফাটল ধরত এবং বালির বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হত।

নিম্ন দামোদর উপত্যকার পাশাপাশি অতিবৃষ্টির ধাক্কা পড়েছে রাজ্যের রেল যোগাযোগেও। নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে রেললাইনের নীচের মাটি বসে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। নিউ ফরাক্কা থেকে বারহারওয়ার দিকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ২০ মিটার দীর্ঘ অংশে লাইনের নীচের মাটি কয়েক ফুট বসে যায়।

বুধবার রাত আড়াইটে নাগাদ নিয়মিত নজরদারির সময় রেলকর্মীরা প্রথম বিপদটি দেখতে পান। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। বড় দুর্ঘটনা এড়াতে আপ লাইনে ট্রেন চলাচল অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন স্টেশনে একাধিক ট্রেন আটকে পড়ে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে ডাউন লাইনে সীমিত সংখ্যায় ট্রেন চলাচল শুরু হলেও যাত্রী-নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে শুক্রবার অধিকাংশ পরিষেবা বাতিল রাখা হয়।

পূর্ব রেল জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য প্রায় ১৫০ জন কর্মী এবং পদস্থ প্রকৌশলী দিনরাত কাজ করছেন। ঝাড়খণ্ড থেকে মালগাড়িতে পাথরের টুকরো ও ব্যালাস্ট এনে ধসে যাওয়া অংশ ভরাট করা হচ্ছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে পাশের একটি পুকুরের পাড়ে নতুন করে ধস নামে। তার অভিঘাতে রেলের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়ায় মেরামতির কাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন, কাজ চলাকালীন ধসের পরিধি কিছুটা বাড়তে দেখা গিয়েছিল। আপাতত নতুন করে মাটি সরা বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট অংশ সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ধসমুক্ত বলে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপ লাইনে স্বাভাবিক পরিষেবা চালু করা হবে না। নতুন কোনও সমস্যা তৈরি না হলে শনিবারের মধ্যে পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছে রেল। পূর্ব রেলের মহাপ্রবন্ধক গীতিকা পাণ্ডে নিজে মেরামতির কাজের উপর নজর রাখছেন।

এই বিপর্যয়ের জেরে সরাইঘাট এক্সপ্রেস, উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস, কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস, গৌড় এক্সপ্রেস, দার্জিলিং মেল, পদাতিক এক্সপ্রেস, হামসফর এক্সপ্রেস, হাওড়া–নিউ জলপাইগুড়ি বন্দে ভারত এবং শতাব্দী-সহ ১৪টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। তবে হাওড়া–কামাখ্যা বন্দে ভারত শয়নযান এক্সপ্রেস এবং হাওড়া–ডিব্রুগড় কামরূপ এক্সপ্রেসের পরিষেবা ফের চালু হয়েছে।

রেল বিপর্যয়ের কারণে উত্তরবঙ্গমুখী যাত্রী ও পর্যটকেরা প্রবল দুর্ভোগে পড়েছেন। সরকারি বাসের আসন দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই বেসরকারি বাসের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন। সেই সুযোগে কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা রাতারাতি ভাড়া বাড়িয়েছে বলেও যাত্রীদের অভিযোগ। একদিকে নিম্ন দামোদরের প্লাবন, অন্যদিকে ফরাক্কার রেললাইনে ধস—টানা বৃষ্টির জোড়া আঘাতে রাজ্যের যোগাযোগ ও জনজীবন এখনও স্বাভাবিক হতে পারেনি।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles