Table of Contents
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী বাণিজ্যনীতির পরবর্তী ধাপ কী হতে চলেছে, তা নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। বৃহস্পতিবারই নতুন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের ইঙ্গিত, বিশ্বজুড়ে আমদানি পণ্যের উপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপের পথে এগোতে পারে আমেরিকা।
চলতি সপ্তাহেই বিশ্বের অধিকাংশ দেশের উপর আরোপিত অস্থায়ী ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তার আগেই নতুন বাণিজ্য নীতির ঘোষণা ঘিরে আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বৃহস্পতিবারই ঘোষণা?
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, আমেরিকার বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বৃহস্পতিবার নতুন পদক্ষেপের বিস্তারিত ঘোষণা করবেন।
তবে সিদ্ধান্তের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা সম্পর্কে তিনি কোনও আগাম তথ্য দিতে চাননি।
লেভিটের কথায়, “আমি আগে থেকে কিছু বলতে চাই না। বিস্তারিত জানার জন্য অপেক্ষা করুন।”
ফলে নতুন শুল্কের হার, কোন কোন দেশের উপর তা কার্যকর হবে এবং কোন পণ্যে কতটা প্রভাব পড়বে—তা নিয়ে এখনই স্পষ্ট ছবি নেই।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা
ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি ইতিমধ্যেই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপ করা একাধিক শুল্ককে বেআইনি ঘোষণা করে। এরপর প্রশাসন অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক চালু করে।
এবার সেই অস্থায়ী ব্যবস্থার মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে নতুন নীতি ঘোষণা করতে চলেছে হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্পের দাবি, লাভ হবে আমেরিকারই
ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের যুক্তি, উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভরতা কমবে।
একই সঙ্গে আমেরিকার শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন বাড়বে, দেশীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হবে এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।
কিন্তু অর্থনীতিবিদ ও সমালোচকদের আশঙ্কা অন্য।
তাঁদের মতে, আমদানি পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক শেষ পর্যন্ত সেই পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে। আর সেই বাড়তি খরচের বোঝা সরাসরি এসে পড়তে পারে সাধারণ আমেরিকান নাগরিকদের উপর।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে পাল্টা দাবি
এমন সময়েই নতুন শুল্কনীতি আসতে চলেছে, যখন আমেরিকায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
চলতি বছরের শুরুতে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তবে বুধবার সিনেটের এক শুনানিতে জেমিসন গ্রিয়ার দাবি করেন, ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে মূল্যবৃদ্ধি ঘটেনি।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, শুল্কের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে কি না।
গ্রিয়ারের উত্তর ছিল, “না।”
তাঁর দাবি, খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে মূল মূল্যস্ফীতির হার বছরে ২.৬ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারির তুলনায় উন্নতি।
তবে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনও জো বাইডেনের প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার সময়কার তুলনায় কিছুটা বেশি।
সামনে আরও বড় বাণিজ্য সংঘাত?
নতুন শুল্কনীতির ঘোষণা শুধু আমেরিকার বাজারেই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতিমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নতুন করে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে পাল্টা শুল্ক আরোপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তাহলে কি ফের শুরু হতে চলেছে বড়সড় বাণিজ্য সংঘাত?
সেই উত্তর মিলবে বৃহস্পতিবার।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ট্যারিফ নীতি শুধু আমেরিকার অর্থনীতির জন্য নয়, গোটা বিশ্ববাজারের জন্যই হতে চলেছে পরবর্তী বড় পরীক্ষা।