খবর

বেআইনি গ্রেপ্তার, ফের ধরতে অনুমতি!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • কাউকে বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তার করে আদালত থেকে মুক্তি পেলে পুলিশ নিজের ইচ্ছেমতো তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করতে পারবে না।
  • দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তারের আগে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিতে হবে।
  • ২১ সেপ্টেম্বর এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

কাউকে বেআইনি ভাবে গ্রেপ্তার করে আদালত থেকে মুক্তি পেলে পুলিশ নিজের ইচ্ছেমতো তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করতে পারবে না। দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তারের আগে বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

লিখিত ভাবে গ্রেপ্তারের কারণ না-জানানো কিংবা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির না-করার মতো সাংবিধানিক ত্রুটিতে কোনও অভিযুক্ত মুক্তি পেলে এই নিয়ম কার্যকর হবে। পুলিশকে জানাতে হবে, প্রথম গ্রেপ্তারে কী ভুল হয়েছিল এবং নতুন করে হেফাজতে নেওয়া কেন জরুরি।

বিচারপতি উজ্জ্বল ভূঞা ও বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের বেঞ্চ পাঞ্জাবের জসকরণজিৎ সিং দেওলের মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে। যৌন অপরাধের তদন্তে তাঁকে ১৭ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু গ্রেপ্তারের লিখিত কারণ জানানো হয়নি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজিরও করা যায়নি। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদের সুরক্ষা লঙ্ঘিত হওয়ায় প্রথম গ্রেপ্তার বাতিল হয়।

এর পর পুলিশ তাঁকে ফের আটক করতে চাইলে প্রশ্ন ওঠে—প্রথম গ্রেপ্তারের বেআইনি ত্রুটি কি দ্বিতীয় গ্রেপ্তারে মুছে ফেলা যায়?

এ বার আগে আদালত

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, সাংবিধানিক ত্রুটির কারণে মুক্তি পাওয়া জামিন পাওয়ার সমান নয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত বা বিচার চলতে পারে। অপরাধের অভিযোগ সত্য কি না, সে বিষয়েও এই পর্যায়ে আদালত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

তবে একই তদন্তকারী দলের ইচ্ছেমতো পুনরায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিস্বাধীনতার সাংবিধানিক সুরক্ষাকে অর্থহীন করে দিতে পারে। তাই দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তারের আগে স্বাধীন বিচারিক পরীক্ষা জরুরি।

পুলিশকে যে নিয়মগুলি মানতে হবে—

  • আবেদন সংশ্লিষ্ট জেলার এক জ্যেষ্ঠ আধিকারিকের অনুমোদিত হতে হবে।
  • প্রথম গ্রেপ্তারের জন্য দায়ী আধিকারিককে বদলে অন্য তদন্তকারী নিয়োগ করতে হবে।
  • আগের আধিকারিক নতুন করে গ্রেপ্তার করতে পারবেন না।
  • প্রথম গ্রেপ্তারের ত্রুটি কীভাবে ঘটল, তা জানতে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে।
  • ম্যাজিস্ট্রেটকে হেফাজতের প্রয়োজন, তদন্তের অগ্রগতি এবং কম কঠোর বিকল্প রয়েছে কি না, তা বিচার করতে হবে।

শুধু পুলিশের বক্তব্য নথিবদ্ধ করে অনুমতি দিলেই চলবে না। ম্যাজিস্ট্রেটকে কারণযুক্ত আদেশ দিতে হবে।

গুরুতর অভিযোগ থাকলেও নিয়ম জরুরি

নির্দেশের অর্থ এই নয় যে গুরুতর মামলায় অভিযুক্তকে আর গ্রেপ্তার করা যাবে না। প্রমাণ নষ্ট করা, সাক্ষীকে প্রভাবিত করা, পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কিংবা জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনের মতো কারণ থাকলে আদালতের অনুমতি নিয়ে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব।

তবে পুলিশের আইনভঙ্গের দায় অভিযুক্তের উপর চাপানো যাবে না।

নির্দেশটি দেশের সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পুলিশপ্রধান, হাইকোর্ট এবং বিচারবিভাগীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে বলা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি রায়ের ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্ট আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, গ্রেপ্তারের লিখিত কারণ নিছক প্রশাসনিক কাগজ নয়। তা অভিযুক্তের আইনজীবীর সাহায্য নেওয়া এবং গ্রেপ্তারকে চ্যালেঞ্জ করার কার্যকর অধিকার রক্ষার অংশ।

কাগজে নয়, কাজে সুরক্ষা

এই নির্দেশের গুরুত্ব শুধু পুনরায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা কমানোয় নয়, রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে জবাবদিহির আওতায় আনার মধ্যেও। আগে প্রথম গ্রেপ্তার বাতিল হওয়ার পর একই সংস্থা প্রায় একই যুক্তিতে ফের ধরলে অভিযুক্তকে আবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হত। এখন পুলিশকেই আগে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া প্রয়োজন।

তবে বাস্তব ফল নির্ভর করবে ম্যাজিস্ট্রেটের বিচারিক পরীক্ষার মান এবং বিভাগীয় তদন্তের স্বচ্ছতার উপর। অনুমতির আবেদন যদি গতানুগতিক ফর্মে সীমাবদ্ধ থাকে এবং আদেশ যান্ত্রিক ভাবে মঞ্জুর হয়, তা হলে সুরক্ষা কাগজেই আটকে থাকবে।

কতগুলি আবেদন জমা পড়ল, কতগুলি প্রত্যাখ্যাত হল এবং প্রথম বেআইনি গ্রেপ্তারের ঘটনায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হল—পরিচয় গোপন রেখে সেই সমষ্টিগত তথ্য প্রকাশ করা যেতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা পরস্পরের শত্রু নয়। নিয়ম মেনে তদন্ত করাই শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের মামলাকে আরও শক্তিশালী করে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles