নিখোঁজ মুকুলের পুত্রবধূ, নিরাপদে সস্ত্রীক খরাজ

যা জানা জরুরি
- নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের ধাক্কা এসে পৌঁছেছে বাংলার বহু পরিবারে।
- নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের পুত্রবধূ, বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়।
- কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানের ধাক্কা এসে পৌঁছেছে বাংলার বহু পরিবারে। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুকুল রায়ের পুত্রবধূ, বীজপুরের প্রাক্তন বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, নেপালে ছবির কাজে গিয়ে আটকে পড়েছেন অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী প্রতিভা। তবে তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে। দুই পরিবারের পরিস্থিতি তাই আলাদা—একদিকে প্রিয়জনের অবস্থান জানতে উদ্বেগ, অন্যদিকে নিরাপদে দেশে ফেরার অপেক্ষা।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হন শর্মিষ্ঠা। তিনি প্রায় ৩০ জনের একটি তীর্থযাত্রী দলের সদস্য ছিলেন। নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁর খোঁজ মিলছে না। পরিবারের কাছে পৌঁছনো খবর অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে তিনি দুর্যোগস্থলের প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে ছিলেন।
শুভ্রাংশু জানিয়েছেন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে এগারোটায় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়েছিল। তখন শর্মিষ্ঠা সুস্থ ছিলেন এবং কিরং নামে একটি জায়গায় থাকার কথা জানিয়েছিলেন। তার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যায়নি। কৈলাসযাত্রীদের জন্য নেপাল থেকে তিব্বতে প্রবেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এই সীমান্তাঞ্চল। শুভ্রাংশু আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে ফোন করেছেন এবং যোগাযোগ রাখছেন। নিখোঁজদের খুঁজে বার করতে রাজ্য চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
শর্মিষ্ঠার মতো আরও বহু যাত্রীর পরিবার উৎকণ্ঠায় রয়েছে। ইকনমিক টাইমসের ২৮ আগস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলার ৩২ জনের একটি দলের একজনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি ৩১ জনের খোঁজ মেলেনি। তাঁদের মধ্যে মুকুলের পুত্রবধূও রয়েছেন। যাত্রীদের অধিকাংশ কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। নিখোঁজদের সম্পর্কে নিশ্চিত খবরের অপেক্ষা চলছে। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া বা খোঁজ না মেলার অর্থ মৃত্যুর নিশ্চয়তা নয়।
খরাজ ও তাঁর স্ত্রীর ক্ষেত্রে স্বস্তির খবর হল, পরিবারের সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছে। একটি বাংলাদেশের ছবির কাজের জন্য ২০ আগস্ট নেপালে যান অভিনেতা। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী এবং ছবির অন্য কলাকুশলীরা। দুর্যোগে যাতায়াত ব্যাহত হওয়ায় তাঁদের ফেরার পরিকল্পনা বদলাতে হয়েছে। খরাজের আত্মীয়া সরস্বতী মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, অভিনেতা ফোনে তাঁদের নিরাপদ থাকার কথা বলেছেন। গোটা দলের আটকে পড়ার খবর এলেও পরিবারের কাছে পৌঁছেছে তাঁদের সুস্থ থাকার আশ্বাস।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর অনুযায়ী, খরাজের সঙ্গে নেপালে আটকে রয়েছেন অভিনেতা রজতাভ দত্তও। তিনিও নিরাপদ বলে পরিবার জানিয়েছে। পরিস্থিতির কারণে কাঠমান্ডু থেকে বিমানে ফেরার পরিকল্পনা কার্যকর করা যায়নি। তাই সড়কপথে উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে পৌঁছে, সেখান থেকে বিমানে কলকাতায় ফেরার ব্যবস্থা করার কথা ভাবছেন তাঁরা। অর্থাৎ, তাঁদের প্রধান সমস্যা এখন ফেরার পথের অনিশ্চয়তা।
নেপালের বিপর্যয়ে বাংলার পর্যটক, তীর্থযাত্রী এবং অন্য কাজে যাওয়া মানুষদের সহায়তায় কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস ও নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রাখার কথা জানিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী প্রাণহানিতে শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। উদ্ধার ও ফেরানোর চেষ্টার মধ্যে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাও এখন বড় প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
আপাতত খরাজের পরিবার জানে, তাঁদের আপনজন নিরাপদে রয়েছেন। শর্মিষ্ঠার পরিবারের কাছে সেই নিশ্চয়তাটুকুও এখনও আসেনি। সীমান্তের ওপার থেকে একটি নির্ভরযোগ্য খবরই এখন তাঁদের সবচেয়ে বড় অপেক্ষা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



