খবর

অন্নপূর্ণায় বাতিল? ফের সুযোগ!

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন বাতিল হয়ে গেলেও এবার আর হতাশ হওয়ার কারণ নেই।
  • নথিপত্রে অসঙ্গতি, আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ না থাকা কিংবা তথ্যের ভুলের কারণে যাঁদের আবেদন বাদ পড়েছে, তাঁরা ফের আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
  • আগামী ২০ অগস্ট খুলে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন বাতিল হয়ে গেলেও এবার আর হতাশ হওয়ার কারণ নেই। নথিপত্রে অসঙ্গতি, আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ না থাকা কিংবা তথ্যের ভুলের কারণে যাঁদের আবেদন বাদ পড়েছে, তাঁরা ফের আবেদন করার সুযোগ পাবেন। আগামী ২০ অগস্ট খুলে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টাল। সেখানে ‘সোশ্যাল রেজিস্টার’ অংশে গিয়ে বাতিল হওয়া আবেদন সংশোধন করে ফের জমা দেওয়া যাবে।

রাজ্য সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। বাকি প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। বাতিল আবেদনগুলির মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষের ক্ষেত্রেই মূল সমস্যা ছিল আবেদনকারীর আধার নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যুক্ত না থাকা।

কিছু ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে দেওয়া নাম, জন্মতারিখ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা অন্য তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথির মিল পাওয়া যায়নি। সরকারি চাকরি, সরকারি পেনশন অথবা আয়করদাতা হওয়ার কারণেও কয়েকটি আবেদন বাতিল হয়েছে। তবে যোগ্য মহিলারা যাতে শুধুমাত্র নথিগত ভুলের কারণে প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই কারণেই পুনরায় আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সরকার।

কী ভাবে ফের আবেদন করবেন?

প্রথমে সরকারি পোর্টালে গিয়ে নিজের আবেদনের বর্তমান অবস্থা এবং বাতিল হওয়ার কারণ দেখতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন কিংবা অসম্পূর্ণ নথি আপলোড করে আবেদনটি ফের জমা দিতে হবে। আধারের সঙ্গে যুক্ত সচল মোবাইল নম্বর প্রয়োজন হতে পারে। নিজের নামে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে কি না এবং সেটি সরাসরি টাকা পাওয়ার উপযোগী কি না, তাও আগে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

তবে আবেদন ফের জমা দিলেই সরাসরি অনুমোদন মিলবে না। জেলা প্রশাসন নতুন করে আবেদনকারীর পরিচয়, বাসস্থান, আয়, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং ব্যাঙ্কের তথ্য যাচাই করবে। জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে এই পরীক্ষা হবে। কোনও অসঙ্গতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট মহিলাকে যোগ্য সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তার পর তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩,০০০ টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ নিয়ে সমস্যার সমাধানে ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকদের। প্রয়োজনে বিভিন্ন এলাকায় সহায়তা শিবিরও করা হবে। অনলাইনে আবেদন সংশোধন করতে সমস্যা হলে সেখান থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিডিও দফতর বা পুরসভাতেও যোগাযোগ করা যাবে।

বাতিল আবেদন নিয়ে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও থাকবে নতুন পোর্টালে। কোনও আবেদনকারী মনে করলে সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁর আবেদন ভুল করে বাতিল হয়েছে, তিনি পোর্টালেই অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রশাসন অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—বাতিল আবেদন ফের জমা দেওয়া আর নতুন করে আবেদন করা এক নয়। যাঁরা আগে আবেদন করেছিলেন কিন্তু তা বাতিল হয়েছে, তাঁদের জন্য পোর্টাল খুলবে ২০ অগস্ট। আর যাঁরা আগে একেবারেই আবেদন করেননি, তাঁদের নতুন আবেদন করার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে নবান্ন জানিয়েছে।

এ দিকে, ১০ জুলাই পর্যন্ত রাজ্য সরকারের কাছে মোট প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। ১১ থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে জমা পড়া আবেদনগুলির যাচাই এখনও চলছে। সেই প্রক্রিয়া ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। যাচাইয়ে যোগ্য বলে বিবেচিত আবেদনকারীদের পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে।

সোমবার থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩,০০০ টাকা করে, অর্থাৎ মোট ৪,৩৫০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, সরকারি অর্থের অপচয় ঠেকাতেই প্রতিটি আবেদন খুঁটিয়ে যাচাই করা হচ্ছে।

তবে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পেলেই সবাই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হলে বা পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে সুবিধা মিলবে না। সরকারি চাকরি, আয়কর প্রদান এবং জমির পরিমাণ নিয়েও রয়েছে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ।

অর্থাৎ, যোগ্যতা ঠিক থাকলে বাতিলের পরেও দরজা বন্ধ হচ্ছে না। আধার-ব্যাঙ্ক সংযোগের সমস্যা হোক বা নথির ছোটখাটো ভুল—সংশোধনের সুযোগ নিয়ে ফের আবেদন করা যাবে ২০ অগস্ট থেকে। The Statesman-এর প্রতিবেদন

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles