এফসিআরএ বিলে সংশোধনের ইঙ্গিত কেন্দ্রের, তবে অমিত শাহের বক্তব্যের দাবিতে অনড় বিরোধীরা
বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন বা এফসিআরএ সংশোধনী বিল ঘিরে তৈরি হওয়া সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে এবার কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিল কেন্দ্র। বিরোধীদের আপত্তির মুখে সরকার জানিয়েছে, প্রয়োজনে বিলের বিতর্কিত কয়েকটি ধারায় পরিবর্তন আনতে তারা প্রস্তুত। পাশাপাশি বিরোধীদের উদ্বেগ দূর করতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতেও আগ্রহী সরকার।
এই প্রেক্ষাপটেই সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন। লক্ষ্য ছিল চলতি অধিবেশনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সংসদকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরানো। তবে বৈঠক হলেও জট কাটেনি। বিরোধীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ছাত্র-যুব আন্দোলনে পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সংসদে বিবৃতি দিতেই হবে। সেই দাবি না মানলে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সরকার কী বার্তা দিল?
সরকারি সূত্রের দাবি, এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের বক্তব্য, এই বিলের উদ্দেশ্য কোনও ধর্মীয় বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের স্বাধীনতা খর্ব করা নয়; বরং বিদেশি অনুদানের ব্যবহারকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা।
সরকার এমনও ইঙ্গিত দিয়েছে যে, প্রয়োজনে বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো বা কয়েকটি ধারা সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। অর্থাৎ সংঘাতের বদলে আলোচনার পথেই এগোতে চাইছে কেন্দ্র।
কোথায় আপত্তি বিরোধীদের?
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সংশোধনের ফলে কেন্দ্রের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হবে। বিশেষ করে কোনও সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল বা মেয়াদ শেষ হলে, তাদের বিদেশি অনুদান পরিচালনার জন্য সরকারের মনোনীত কর্তৃপক্ষ নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আপত্তি সবচেয়ে বেশি।
তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ধর্মীয়, সমাজসেবী ও অলাভজনক সংগঠনগুলির কাজে অযাচিত সরকারি হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি হবে। তাই বিলটি আরও বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
পুলিশি পদক্ষেপও বড় ইস্যু
এফসিআরএ বিলের পাশাপাশি সংসদের অচলাবস্থার আরেকটি বড় কারণ সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন। বিরোধীদের অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর অপ্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগ করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সংসদে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানিয়েছে তারা।
সরকার অবশ্য বলছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বিরোধীরা।
রিজিজু–রাহুল বৈঠকের বার্তা
সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাতের আবহে কিরেন রিজিজু ও রাহুল গান্ধীর বৈঠককে ইতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এই বৈঠক কোনও তাৎক্ষণিক সমাধান এনে দিতে পারেনি।
এখনও বিরোধীরা তাদের অবস্থানে অনড়, আর সরকারও আলোচনার দরজা খোলা রাখার বার্তা দিচ্ছে।
সামনে কী?
এখন সরকারের সামনে দুই বড় চ্যালেঞ্জ—একদিকে এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে বিরোধীদের আস্থা ফেরানো, অন্যদিকে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা ঘিরে তৈরি রাজনৈতিক সংকটের সমাধান করা।
সরকার যদি সত্যিই সংশোধন বা সমঝোতার পথে এগোয়, তাহলে অচলাবস্থা কাটানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বিরোধীরা যদি অমিত শাহের বক্তব্যের দাবিতে অনড় থাকে, তাহলে অধিবেশনের বাকি সময়ও উত্তপ্ত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।