Table of Contents
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দের কাজে লাগিয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্ক তৈরির চেষ্টা! পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-তে মামলা করেছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে তাঁদের মাধ্যমে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ, জনমতকে প্রভাবিত করা এবং ভবিষ্যতে আরও বড় একটি তথ্য সংগ্রহের নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
গোয়েন্দা কর্তাদের মতে, প্রচলিত গুপ্তচরবৃত্তির পাশাপাশি ডিজিটাল দুনিয়াও এখন তথ্য সংগ্রহ ও প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। সেই কারণেই বিপুল সংখ্যক অনুসারী থাকা ‘ইনফ্লুয়েন্সার’দেরও সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নজরদারির পর মামলা
এসটিএফ সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন নজরদারি চালানোর পরই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তে তাঁদের বিদেশে থাকা কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। অভিযোগ, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, ভিপিএন এবং একাধিক ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে এই যোগাযোগ চালানো হতো।
তবে এই যোগাযোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, তা এখনও তদন্তের বিষয়।
জনপ্রিয় মুখেরাই কেন লক্ষ্য?
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের লক্ষ্য ছিল এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, যাঁদের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং অনলাইন প্রভাব যথেষ্ট বেশি।
প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে ধীরে ধীরে তাঁদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য, গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির ছবি বা ভিডিও কিংবা নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, শুরুতে নিরীহ বলে মনে হওয়া এই যোগাযোগ পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হয়ে উঠতে পারত।
বাজেয়াপ্ত ফোন-ল্যাপটপ, খতিয়ে দেখা হচ্ছে লেনদেন
ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করেছে এসটিএফ।
সেগুলি থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে আরও কেউ এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তের আওতায় রয়েছে আর্থিক লেনদেনও। বিদেশ থেকে কোনও অর্থ, উপহার বা অন্য কোনও ধরনের সুবিধা অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছেছিল কি না, সেটিও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
কেন্দ্রীয় সংস্থার নজরেও তদন্ত
মামলাটি ইউএপিএ-র আওতায় নথিভুক্ত হওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
গুপ্তচরবৃত্তির নতুন হাতিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া?
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক গুপ্তচরবৃত্তি আর শুধু গোপন নথি বা সামরিক তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তথ্যযুদ্ধ এবং জনমতকে প্রভাবিত করার লড়াইও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ, বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়ানো কিংবা নির্দিষ্ট মতামতকে জনপ্রিয় করে তোলার চেষ্টা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও নতুন নয়।
তাই এই ধরনের অভিযোগকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
তদন্ত চলছে, অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা কোনও অভিযোগই আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের নথি এবং আর্থিক লেনদেনের বিশ্লেষণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পাশাপাশি এই কথিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও ব্যক্তি বা সংগঠনের যোগ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।