Home International ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে টাকা? উঠল স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ

ট্রাম্পের পোস্ট আগে দেখতে টাকা? উঠল স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
21 views 3 minutes read
A+A-
Reset

টাকা দিলেই সাধারণ ব্যবহারকারীর আগে দেখা যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট! নতুন পরিষেবা চালু হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে উঠেছে স্বার্থের সংঘাত, বাজারে প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির অভিযোগ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে দেখার সুযোগ এবার মিলবে অর্থের বিনিময়ে। নতুন এই পরিষেবা চালু হওয়ার পরই প্রশ্ন উঠেছে—প্রেসিডেন্টের প্রভাবশালী পোস্ট যদি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে ট্রেডিং সংস্থাগুলি, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগে পেয়ে যায়, তাহলে তা কি বাজারে অন্যায্য সুবিধা তৈরি করবে?

শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রুথ এপিআই’ (Truth API) নামে সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক পরিষেবা চালু করেছে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ। সংস্থার দাবি, এই পরিষেবার মাধ্যমে ব্যবসায়িক গ্রাহকেরা ট্রুথ সোশ্যালের নির্বাচিত পোস্টের লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েল-টাইম ফিড পাবেন।

এর জন্য মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

পোস্ট আগে, বাজারে সুবিধা পরে?

সংস্থার অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী কেভিন ম্যাকগার্ন জানিয়েছেন, গ্রাহকেরা প্ল্যাটফর্মের ‘সবচেয়ে বাজার-প্রভাবকারী’ পোস্টগুলির তাৎক্ষণিক ফিড পাবেন।

এক্স বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এমন তথ্য পরিষেবা রয়েছে। কিন্তু ট্রুথ সোশ্যালের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্য মাত্রা পেয়েছে।

কারণ, এই প্ল্যাটফর্মের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যবহারকারী স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সঙ্গে ট্রুথ সোশ্যালের মূল সংস্থা ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের অন্যতম প্রধান শেয়ারহোল্ডারও তিনি।

ফলে ট্রাম্পের পোস্ট থেকে তৈরি হওয়া নতুন পরিষেবার আর্থিক সাফল্যের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থেরও যোগ থাকতে পারে—আর সেখানেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।

ট্রাম্পের পোস্টেই কেন এত নজর?

সংস্থার ঘোষণায় ট্রাম্পের নাম আলাদা করে উল্লেখ করা না হলেও, @realDonaldTrump অ্যাকাউন্টই ট্রুথ সোশ্যালের সবচেয়ে বড় অ্যাকাউন্ট। প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ অনুসারী থাকা এই অ্যাকাউন্ট থেকেই ট্রাম্প প্রায়ই শুল্কনীতি, বিদেশনীতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সিদ্ধান্তের কথা প্রথমে জানান। পরে সেই খবর অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

ফলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ট্রাম্পের অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন পরিষেবাটি সেই তথ্য নির্দিষ্ট কিছু প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীকে সাধারণ মানুষের আগে পৌঁছে দিয়ে অন্যায্য বাজার-সুবিধা তৈরি করতে পারে।

এসইসির তদন্তের দাবি

পরিষেবাটি চালুর কয়েক দিন আগেই ডেমোক্র্যাট সেনেটর অ্যাডাম শিফ এবং এলিজাবেথ ওয়ারেন মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (SEC)-এর কাছে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানান।

এসইসি-র চেয়ারম্যান পল অ্যাটকিনসকে লেখা চিঠিতে দুই সেনেটর প্রশ্ন তোলেন, এই ব্যবস্থা আদৌ আইনসম্মত কি না এবং এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন কি না।

তাঁদের অভিযোগ, এই উদ্যোগ প্রেসিডেন্টের পদকে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের সঙ্গে যুক্ত করার নজির তৈরি করতে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এতে বাজারের স্বচ্ছতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সুবিধা পেতে পারেন মূলত ওয়াল স্ট্রিটের বড় বিনিয়োগকারীরাই।

তবে এই অভিযোগগুলি এখনও আইনগতভাবে প্রমাণিত নয় এবং পরিষেবাটি বেআইনি কি না, তা নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রক তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

ট্রাম্পের পোস্টে বাজার কাঁপে কেন?

ট্রাম্প অতীতেও শুল্কনীতি, ইরান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে একাধিক ঘোষণা করেছেন, যার পর শেয়ারবাজারে বড় ওঠানামা দেখা গেছে।

বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় পতনের সময় গত বছর একদিনেই ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ১০০টিরও বেশি পোস্ট করেছিলেন। তাঁর অর্থনৈতিক নীতি ঘিরে তখন ‘ট্রাম্প-সৃষ্ট মন্দা’র আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।

বিশেষ করে ইরান নিয়ে তাঁর পোস্টগুলির দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে তেলের দাম বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতি এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার নির্ধারণেও।

অর্থাৎ, প্রেসিডেন্টের একটি পোস্ট কখনও কখনও শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়—বাজারের জন্যও তাৎক্ষণিক সংকেত হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারেও ধাক্কা

এদিকে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর ফলে সংস্থাটির বাজারমূল্য প্রায় ৬০০ কোটি ডলার কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রাম্প পরিবারের বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রকল্প নিয়েও বিনিয়োগকারীদের বড় ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, গত বছর ট্রাম্প মিডিয়া এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোগগুলি থেকে তিনি ১০০ কোটিরও বেশি মার্কিন ডলার আয় করেছেন।

নতুন আয়ের রাস্তা খুঁজছে সংস্থা

‘ট্রুথ এপিআই’ চালুর আগের দিন, শুক্রবার, ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারের দাম ৫.৫ শতাংশ বেড়ে ১০.৩৯ ডলারে পৌঁছেছিল।

এতদিন মূলত বিজ্ঞাপনের আয়ের উপর নির্ভরশীল সংস্থাটি এখন সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক এই পরিষেবার মাধ্যমে নতুন রাজস্বের পথ খুলতে চাইছে।

কিন্তু নতুন ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে আরও বড় প্রশ্ন—

প্রেসিডেন্টের পোস্ট যদি টাকার বিনিময়ে বাজারের কিছু খেলোয়াড় সাধারণ মানুষের আগে দেখতে পান, তাহলে সেটি কি নিছক প্রযুক্তিগত পরিষেবা, নাকি ক্ষমতা ও তথ্যের বিনিময়ে তৈরি হচ্ছে এক নতুন আর্থিক সুবিধা?

এই প্রশ্নের উত্তরই এখন ট্রাম্প মিডিয়ার নতুন উদ্যোগকে ঘিরে সবচেয়ে বড় বিতর্ক।

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles