বাংলাস্ফিয়ার: দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলনের আবহে ছাত্র-শিক্ষকদের উদ্দেশে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে আইআইটি রুরকি। সেখানে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ছাত্র, শিক্ষক, কর্মী এবং অন্যান্য কর্মচারীরা প্রশাসনের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না বা রাজনৈতিক বিষয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিতে পারবেন না।
সোমবার রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে জারি হওয়া ওই পরামর্শে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সম্প্রচার মাধ্যম, সংবাদপত্র, সাময়িকী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে রাজনৈতিক মন্তব্য বা মত প্রকাশ করবেন না। কারণ, এ ধরনের বক্তব্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ককে অস্বস্তিকর বা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে।
নির্দেশিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শিক্ষার্থীদের এমন কোনও কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা উচিত, যা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি বা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। রাজনৈতিক সভা, মিছিল বা প্রচারমূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রশাসনের অনুমতির কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকা প্রকাশের সময়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, দিল্লিতে সিজেপির নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভে হাজার হাজার ছাত্র-যুব অংশ নিচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং পুলিশি অভিযানের ঘটনাও সামনে এসেছে।
তবে আইআইটি রুরকি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা সিজেপির আন্দোলনের সঙ্গে এই নির্দেশিকার কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের দাবি, প্রতি শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এ ধরনের পরামর্শ জারি করা হয়। এবারের নির্দেশিকাও সেই নিয়মিত প্রক্রিয়ারই অংশ। তাই এটিকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার কোনও কারণ নেই।
প্রশাসনের বক্তব্য, নির্দেশিকাটি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের নীতির পুনরুল্লেখ মাত্র। এর উদ্দেশ্য শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং একাডেমিক পরিবেশ বজায় রাখা। কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল, আন্দোলন বা ঘটনাকে লক্ষ্য করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
তবু নির্দেশিকা প্রকাশের সময় নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সিজেপির আন্দোলন যখন জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, ঠিক তখনই দেশের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এমন সতর্কবার্তা স্বাভাবিকভাবেই নানা মহলে কৌতূহল ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও আইআইটি রুরকি প্রশাসন পুনরায় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক নির্দেশ এবং একে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।