প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার হলেন রাজ্যস্তরের তরুণ শুটার দময়ন্তী সেন। শনিবার সকালে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকায় তাকে দেখার পর আশেপাশের লোকজন তার বাড়িতে খবর দেয়। তারপরই বাড়ির লোক এসে তাকে উদ্ধার করে।
পরিবার সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়ার সময় দময়ন্তী শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন। বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন প্রতিভাবান শুটার দময়ন্তী সেন। হাওড়ার উমাচরণ ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা দময়ন্তী বাড়ি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কিনতে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ পরেও তিনি বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়। তার মোবাইল ফোন বাড়িতেই পড়ে থাকায় তদন্তে বাড়তি জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
তদন্তে নেমে পুলিশ হাওড়া স্টেশন-সহ আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। ফুটেজে দেখা যায়, দময়ন্তী স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ৪ ও ৫-এর দিকে হাঁটছেন। এরপর তিনি কোথায় গিয়েছেন বা কোনও ট্রেনে উঠেছেন কি না, তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছিল পুলিশ।
দময়ন্তীকে খুঁজে বের করতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতেও অনুসন্ধান চালানো হয়। পাশাপাশি হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। কিন্তু প্রায় হঠাৎই শনিবার সকালে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর ঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে তার পরিবার।
দময়ন্তীর সন্ধান মিলতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তার পরিবার। সংবাদমাধ্যমকে দময়ন্তীর মা মৌমিতা রায় সেন জানান, মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পাওয়াই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য তিনি পুলিশ-প্রশাসন এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, কী পরিস্থিতিতে দময়ন্তী বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং নিখোঁজ থাকার সময় কোথায় ছিলেন, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনও অপরাধমূলক ঘটনার ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত মেলেনি।