Home খবর কাকলির ইস্তফা: তৃণমূলের অন্দরে ‘আইপ্যাক’ বনাম ‘পুরনো’ সংঘাত

কাকলির ইস্তফা: তৃণমূলের অন্দরে ‘আইপ্যাক’ বনাম ‘পুরনো’ সংঘাত

Authored By পার্বণ
59 views 1 minutes read
A+A-
Reset

বাংলাস্ফিয়ার: বারাসত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে কাকলি ঘোষ দস্তিদার আজ ইস্তফা দিয়েছেন মূলত তিনটি কারণে— রাজনৈতিক অপমানবোধ, সাংগঠনিক ক্ষোভ এবং আইপ্যাক-নির্ভর দল চালানোর বিরুদ্ধে গভীর অসন্তোষ।

ঘটনাক্রমটা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পান কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই কাকলি সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছিলেন— “চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।” এই পোস্ট থেকেই বোঝা যাচ্ছিল তিনি নিজেকে অপমানিত এবং সাইডলাইনড বলে মনে করছেন।

 

দ্বিতীয়ত, তাঁর পদত্যাগপত্রে কার্যত দলের বর্তমান সাংগঠনিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর শোনা গিয়েছে। তিনি নাম না করলেও স্পষ্টভাবে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের দিকে আঙুল তুলেছেন। কাকলির বক্তব্য, “ভুঁইফোড় সংস্থা” দিয়ে দল চালালে পুরনো কর্মীরা অপমানিত হন এবং সংগঠন দুর্বল হয়। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শ দিয়েছেন সৎ ও পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দিতে।

 

তৃতীয়ত, তিনি “প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি”-র কথাও উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তাঁর অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত পদ হারানো নয়; বরং দলের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি, লবিবাজি এবং বাইরের পরামর্শদাতাদের বাড়তি প্রভাব নিয়েও।

 

কিছু রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে যে নির্বাচনের আগে আইপ্যাকের তরফে তাঁকে কার্যত চাপ বা হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি, কিন্তু তাঁর ক্ষোভ যে দীর্ঘদিনের জমাট অসন্তোষ থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট।

রাজনৈতিকভাবে এই পদত্যাগের তাৎপর্যও কম নয়। কারণ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূলের “পুরনো ব্রিগেড”-এর মুখ। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের সময় থেকে দলে আছেন। ফলে তাঁর এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ আসলে তৃণমূলের অভ্যন্তরে পুরনো বনাম নতুন ক্ষমতাকাঠামোর সংঘাতকে সামনে এনে দিল। বিশেষ করে আইপ্যাক-কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে যে অস্বস্তি বহু পুরনো নেতার মধ্যে রয়েছে, কাকলি সেটাই প্রকাশ্যে বলে ফেললেন।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles