হাইলাইটস:
- টানা ১৭ দিনের অনশনে সোনম ওয়াংচুকের ওজন কমেছে প্রায় ৮ কেজি।
- সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবিতে অনড় ওয়াংচুক, এখনও কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেখা করেননি।
- ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের অভিযোগ, সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন।
- শুরুতে রাজনৈতিক দলগুলিকে দূরে রাখলেও পরে অবস্থান কিছুটা নরম করেছে সিজেপি।
- কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতিও প্রশ্ন তুলছে।
বাংলাস্ফিয়ার: টানা তৃতীয় সপ্তাহে পা দিয়েছে পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুকের অনশন। কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সংলাপের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন শুধু লাদাখের দাবি নয়, জাতীয় রাজনীতিরও এক অস্বস্তিকর প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। একদিকে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীরবতা, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরেরও কার্যত অনুপস্থিতি— এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে নিজেদের ‘অরাজনৈতিক’ বলে দাবি করা ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
অনশনের ১৭তম দিনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে জানান, ওয়াংচুকের ওজন ইতিমধ্যেই প্রায় ৮ কেজি কমে গিয়েছে। তাঁর শরীরে পেশির ক্ষয় শুরু হয়েছে এবং তিনি তীব্র শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছেন। দিপকে বলেন, তিনিও ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু ওয়াংচুক শান্তভাবে জবাব দেন, “আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। সরকারকে জিজ্ঞাসা করুন, তারা আলোচনায় বসতে কেন রাজি হচ্ছে না।”
দিপকের অভিযোগ, আন্দোলন শুরুর পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে একজন মন্ত্রীও এসে কথা বলেননি। কোনও সরকারি প্রতিনিধি দলও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর কথায়, এই নীরবতাই সরকারের প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে।
এই আন্দোলনের আর একটি দিকও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। শুরুতে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, তারা কোনও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলকে মঞ্চে জায়গা দেবে না। আন্দোলনকে সম্পূর্ণ নাগরিক উদ্যোগ হিসেবেই রাখতে চেয়েছিল তারা। কিন্তু দীর্ঘ অনশন, সরকারের অনীহা এবং জনসমর্থন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে সংগঠনটি এখন সেই অবস্থান কিছুটা শিথিল করেছে। যদিও এখনও তারা নিজেদের অরাজনৈতিক চরিত্র বজায় রাখার দাবি করছে।
তবে বিরোধী দলগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অনুপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে সরব হলেও, ওয়াংচুকের অনশন মঞ্চে এখনও পর্যন্ত তাঁর উপস্থিতি দেখা যায়নি। ফলে আন্দোলনের সমর্থকদের একাংশের মতে, এই প্রশ্নে বিরোধীদের সক্রিয়তা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরেই লাদাখের পরিবেশ, সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন। তাঁর বর্তমান অনশনও মূলত সরকারের সঙ্গে আলোচনার দাবিকে কেন্দ্র করেই। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, সংলাপই সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ, কিন্তু সরকার সেই পথেই হাঁটতে চাইছে না।
এদিকে অনশন যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ অনশনে পেশিক্ষয় শুরু হলে তা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করে। তবুও ওয়াংচুক নিজের অবস্থান থেকে সরতে নারাজ।
ফলে দিল্লির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সরকার নীরব, বিরোধীরা নিষ্ক্রিয়, আর এক অনশনকারী বারবার একই প্রশ্ন তুলে চলেছেন— সংলাপ শুরু করতে সরকারের আপত্তি কোথায়?