Table of Contents
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ পুরীর গজপতি, ইসকনের বিরুদ্ধে তোপ
হাইলাইটস:
- বিদেশে রথযাত্রা নিয়ে ইসকনের সঙ্গে পুরীর শ্রীমন্দিরের পুরনো বিরোধ ফের সামনে।
- রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি গজপতি মহারাজের।
- অভিযোগ, শাস্ত্রবিধি না মেনে নির্ধারিত তিথির বাইরে রথযাত্রা হচ্ছে।
- গজপতি মহারাজের দাবি, এতে জগন্নাথ সংস্কৃতির মর্যাদা ও ঐতিহ্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
- ইসকনের বক্তব্য, বিদেশের বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই দিনক্ষণ ঠিক করা হয়।
বিদেশে রথযাত্রা আয়োজন ঘিরে বহুদিনের মতবিরোধ এবার নতুন মোড় নিল। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরীর গজপতি মহারাজ দিব্যসিংহ দেব রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পৃথক চিঠি লিখে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
গজপতি মহারাজের বক্তব্য, জগন্নাথদেবের রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি ভারতের শতাব্দীপ্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তাই এর শাস্ত্রসম্মত নিয়ম ও নির্ধারিত তিথি অক্ষুণ্ণ রাখা অত্যন্ত জরুরি।
কী অভিযোগ?
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসকন অনেক সময় পুরীর রথযাত্রার নির্ধারিত তিথি অনুসরণ না করে সুবিধামতো সপ্তাহান্ত বা সরকারি ছুটির দিনে রথযাত্রার আয়োজন করে। গজপতি মহারাজের দাবি, এতে উৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং ভক্তদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
তাঁর মতে, পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের আচার, রীতি ও উৎসবের একটি নির্দিষ্ট শাস্ত্রীয় কাঠামো রয়েছে। সেই ঐতিহ্য উপেক্ষা করে ভিন্ন সময়ে একই নামে রথযাত্রা আয়োজন করলে জগন্নাথ সংস্কৃতির মৌলিক চরিত্রই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
কেন্দ্রের কাছে কী দাবি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গজপতি মহারাজ কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন, সংস্কৃতি মন্ত্রক, পররাষ্ট্র মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নিয়ে বিদেশে রথযাত্রা আয়োজনের জন্য একটি স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করা হোক। তাঁর দাবি, জগন্নাথদেবের রথযাত্রার শাস্ত্রসম্মত পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
ইসকনের বক্তব্য কী?
অন্যদিকে, ইসকনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই আলাদা। সংগঠনের দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের কাছে জগন্নাথদেবের ভক্তি ও সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
ইসকনের মতে, অনেক দেশে প্রশাসনিক অনুমতি, আবহাওয়া, নিরাপত্তা ও স্থানীয় পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট তিথিতে রথযাত্রা করা সম্ভব হয় না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি তাদের দাবি, বিদেশে আয়োজিত রথযাত্রাকে কখনও পুরীর ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হয় না।
ধর্মীয় না সাংস্কৃতিক বিতর্ক?
পুরীর শ্রীমন্দির-ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, সুবিধার জন্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সময় পরিবর্তন করা ঠিক নয়। বিশেষ করে রথযাত্রার মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবের ক্ষেত্রে শাস্ত্রবিধি ও নির্দিষ্ট তিথি মেনে চলাই উচিত।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বিতর্কে দুটি বড় প্রশ্ন উঠে এসেছে— বিশ্বায়নের যুগে ভারতীয় ধর্মীয় ঐতিহ্যকে কীভাবে আন্তর্জাতিক স্তরে উপস্থাপন করা হবে এবং সেই প্রক্রিয়ায় প্রাচীন শাস্ত্র ও ঐতিহ্যের সীমারেখা কতটা অটুট রাখা সম্ভব।
এখন নজর কেন্দ্রের পদক্ষেপের দিকে। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এই আবেদন নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেয় কি না, অথবা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির মধ্যে আলোচনার পথ খুলে যায় কি না, সেটাই দেখার।
(সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)