বন্যাবিধ্বস্ত মালদহে ২৪২ কোটির সাহায্য, ৩.১৪ লক্ষ নতুন বাড়ির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

যা জানা জরুরি
- বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মালদহের মানুষের জন্য প্রায় ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
- বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, মানিকচকে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মানিকচক, রতুয়া এবং ইংরেজবাজারের ২৪ হাজার ৫৯৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসছে।
- দুর্গাপুজোর আগে দুর্গতদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন পোশাকও তুলে দেওয়া হয়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বন্যা ও নদীভাঙনে বিপর্যস্ত মালদহের মানুষের জন্য প্রায় ২৪২ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, মানিকচকে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, মানিকচক, রতুয়া এবং ইংরেজবাজারের ২৪ হাজার ৫৯৫টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এই সহায়তার আওতায় আসছে। দুর্গাপুজোর আগে দুর্গতদের হাতে ত্রাণসামগ্রী ও নতুন পোশাকও তুলে দেওয়া হয়।
ঘোষণা অনুযায়ী, বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য পরিবারপিছু দেওয়া হবে এক লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ ৯০ হাজার টাকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ক্ষতিপূরণের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। ক্ষতির মাত্রা অনুযায়ী সাহায্যের এই ব্যবস্থায় ঘরবাড়ি মেরামত এবং নতুন করে সংসার গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন দুর্গতরা।
পুজোর মুখে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের জন্য নতুন জামাকাপড়, মশারি, ত্রিপল এবং খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। পাঁচ দিনের খাবারও দেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণশিবির ও কমিউনিটি কিচেন চালু রয়েছে। ঘরছাড়া মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি উৎসবের সময় তাঁদের পাশে থাকার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন হেলিকপ্টারে ভূতনি ও রতুয়ার বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, প্রায় কুড়ি মিনিট ধরে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাম, রাস্তাঘাট ও বাঁধের অবস্থা দেখেছেন এবং মোবাইলে সেই দৃশ্য রেকর্ড করেছেন। দুর্গতদের দুর্দশার স্থায়ী সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি জানান, কেবল ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেই সরকারের দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না।
আবাসন নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মালদহ জেলাজুড়ে আরও তিন লক্ষ ১৪ হাজার ৬০২টি নতুন বাড়ি তৈরির কথা জানান তিনি। এই আবাসন পরিকল্পনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য ঘোষিত ক্ষতিপূরণ পৃথক উদ্যোগ। ফলে ২৪২ কোটি টাকার ত্রাণ প্যাকেজ থেকেই সমস্ত নতুন বাড়ি তৈরি হবে, এমন অর্থ এই ঘোষণার নয়।
আবাস প্রকল্পে অর্থ বণ্টনের প্রসঙ্গে শুভেন্দুর দাবি, ধর্মের ভিত্তিতে কোনও ভেদাভেদ করা হয়নি; যোগ্য উপভোক্তারাই সাহায্য পেয়েছেন। তিনি জানান, আগের সরকার ৬৭ হাজার ১১৩ জনকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল। যাচাইয়ের পরে বর্তমান সরকার ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তি দিয়েছে। বেআইনিভাবে সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে মালদহের উন্নয়নের অন্য কয়েকটি পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে ৩৫৩টি আদর্শ গ্রাম গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ২৯টি গ্রামে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজেস’ কর্মসূচি চালু করা। জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে সরকার মানুষের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
বন্যা ও গঙ্গার ভাঙন মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইআইটি কানপুরকে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একটি দল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছে। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভূতনি, রতুয়া ও ইংরেজবাজারের মানুষের এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেনি। বর্তমান সরকার সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মালদহ ও মুর্শিদাবাদে ভাঙন প্রতিরোধের জন্য কেন্দ্রের কাছে প্রায় তিন হাজার ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। জল নামার পরে কাজ শুরুর কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে নাবার্ড, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কসহ বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থের ব্যবস্থা করা হবে।
বাঁধ মজবুত করার পরিকল্পনাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, প্রায় এক হাজার ৪০০ মিটার বাঁধ ভেঙে গঙ্গার জল এলাকায় ঢুকেছে। প্রায় দুই হাজার ২০০ মিটার অংশ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিনের ঘোষণায় তাই তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতের বন্যা ও ভাঙন ঠেকানোর প্রতিশ্রুতিও জায়গা পেয়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



