হাইলাইটস:
- ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের নেতা-কর্মীদের প্রায় ৩০টি বৈঠকের তথ্য মিলেছে।
- ফাউন্ডেশনের কর্মীরা একাধিকবার এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার সুনামগত ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
- স্বাধীন তদন্তে এপস্টিনের যৌন পাচার চক্র সম্পর্কে গেটস বা ফাউন্ডেশনের জ্ঞাতসারে কোনও সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলেনি।
- তদন্তের পর ভবিষ্যতে অংশীদার ও দাতাদের যাচাইয়ের জন্য নতুন নীতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেটস ফাউন্ডেশন।
বাংলাস্ফিয়ার: গেটস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পরিচালিত একটি স্বাধীন তদন্তে জানা গেছে, ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী ও যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে ফাউন্ডেশনের নেতা ও কর্মীদের প্রায় ৩০টি বৈঠক হয়েছিল। ওই বৈঠকগুলির মধ্যে কয়েকটিতে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসও।
এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মার্কিন আইন সংস্থা উইলমারহেল (WilmerHale)-কে। এ বছরের মার্চে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টিন-সংক্রান্ত বিপুল নথি প্রকাশ করার পর গেটসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। সেই প্রেক্ষিতেই গেটস ফাউন্ডেশন এই পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়।
প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা তদন্তে ৫০ জনেরও বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে বিল গেটসও ছিলেন। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হয়।
তদন্তের সারাংশে বলা হয়েছে, গেটস বা গেটস ফাউন্ডেশন এপস্টিনের চলমান যৌন পাচার বা অন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানত বা তাতে অংশ নিয়েছিল এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে তদন্তে এমনও কোনও তথ্য মেলেনি যে, এপস্টিন ফাউন্ডেশনের নাম ব্যবহার করে নিজের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ফাউন্ডেশন জানত। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, এপস্টিনকে ফাউন্ডেশন কখনও কোনও অর্থও দেয়নি।
তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালে এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করার সময় বিল গেটস তাঁর অতীতের যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি জানতেন। ফাউন্ডেশনের কর্মীরাও একাধিকবার এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার ফলে প্রতিষ্ঠানের সুনামের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। সেই উদ্বেগ ফাউন্ডেশনের শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকি গেটসের কাছেও পৌঁছেছিল।
বিল গেটস আগেও একাধিকবার এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। এ বছর মার্কিন কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি বলেন, তিনি কখনও এপস্টিনের চলমান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কোনও ইঙ্গিত পাননি। তাঁর দাবি, ২০১১ সালে সমাজসেবা ও দাতব্য প্রকল্পে যুক্ত কয়েকজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এপস্টিন দাবি করেছিলেন, বিশ্বস্বাস্থ্যের জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহে তিনি সহায়তা করতে পারবেন। পরে গেটস বুঝতে পারেন, যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন না করেই তিনি সেই পরিচয় গ্রহণ করেছিলেন।
গেটস জানান, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরেই এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ শেষ হয়ে যায়।
তদন্তে আরও বলা হয়েছে, ফাউন্ডেশন ও এপস্টিনের মধ্যে আলোচনা মূলত দুটি বিষয়কে ঘিরে ছিল—একটি সম্ভাব্য ডোনর-অ্যাডভাইজড ফান্ড (Donor-Advised Fund) গঠন এবং এমন একটি অলাভজনক সংস্থার সঙ্গে গেটসের যোগাযোগ, যা পরে গেটস ফাউন্ডেশনের অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থায় পরিণত হয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, বৈঠকগুলিতে মূলত দাতাদের সম্পৃক্ত করা, পোলিও নির্মূল কর্মসূচি এবং সম্ভাব্য অর্থায়ন কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকগুলির সঙ্গে কোনও বেআইনি কর্মকাণ্ডের যোগসূত্রের প্রমাণ তদন্তে মেলেনি।
তদন্তের সুপারিশের ভিত্তিতে গেটস ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য দাতা, মধ্যস্থতাকারী, অর্থায়ন-সহযোগী এবং উপদেষ্টাদের জন্য কেন্দ্রীভূত যাচাই ব্যবস্থা, পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক ঝুঁকি চিহ্নিত ও দ্রুত ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে পাঠানোর নতুন প্রক্রিয়া।
বিল গেটস এক বিবৃতিতে বলেছেন, এই পর্যালোচনা অংশীদার, কর্মী ও অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। তাঁর কথায়, “মানুষের জীবন রক্ষা এবং আরও সুস্থ ও উৎপাদনশীল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ফাউন্ডেশনের কাজ আগের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে বিশ্বাস ও স্বচ্ছতার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।”