জিএসটি আদায় ২.০৩ লক্ষ কোটি, দেশীয় লেনদেনের অংশ সর্বনিম্ন

যা জানা জরুরি
- সেপ্টেম্বরে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি আদায় দুই লক্ষ কোটি টাকার সীমা পেরোলেও রাজস্বের উৎসে পরিবর্তন সামনে এসেছে।
- বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মোট জিএসটি সংগ্রহ হয়েছে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা।
- কিন্তু মোট আদায়ে দেশীয় লেনদেনের অংশ নেমেছে ৬৭.৮ শতাংশে, যা এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
সেপ্টেম্বরে পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি আদায় দুই লক্ষ কোটি টাকার সীমা পেরোলেও রাজস্বের উৎসে পরিবর্তন সামনে এসেছে। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ মোট জিএসটি সংগ্রহ হয়েছে ২ লক্ষ ৩ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। গত বছরের একই মাসের তুলনায় বৃদ্ধি ১৪.৭ শতাংশ। কিন্তু মোট আদায়ে দেশীয় লেনদেনের অংশ নেমেছে ৬৭.৮ শতাংশে, যা এখনও পর্যন্ত সর্বনিম্ন। বিপরীতে, আমদানি থেকে সংগৃহীত করের অংশ বেড়ে হয়েছে সর্বোচ্চ ৩২.২ শতাংশ। (
দেশের ভিতরের ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে সেপ্টেম্বরে জিএসটি এসেছে ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। এক বছর আগে এই অঙ্ক ছিল ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ দেশীয় উৎসের রাজস্ব বেড়েছে ১০.১ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি থেকে কর আদায় ২৫.৯ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৬৫ হাজার ৫২৫ কোটি টাকায়। আমদানির কর বৃদ্ধির গতি দেশীয় লেনদেনের তুলনায় আড়াই গুণেরও বেশি হওয়ায় মোট সংগ্রহে দুই উৎসের অনুপাত বদলেছে।
এই হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, দেশীয় অংশ কমার অর্থ দেশীয় কর আদায়ের পরিমাণ কমে যাওয়া নয়। টাকার অঙ্কে সেই সংগ্রহ বেড়েছে। তবে আমদানিনির্ভর কর অনেক দ্রুত বাড়ায় মোট রাজস্বে দেশীয় ব্যবসার আপেক্ষিক অবদান কমেছে। ফলে সামগ্রিক জিএসটি বৃদ্ধিকে দেশের বাজারে কেনাকাটা বা উৎপাদন একই হারে বাড়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
গ্রান্ট থর্নটন ভারতের কর বিশেষজ্ঞ মনোজ মিশ্রের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আমদানিসংক্রান্ত করের দ্রুত বৃদ্ধির পিছনে মুদ্রার বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক পণ্যমূল্য এবং আমদানির ধরন কাজ করছে। টাকার দাম কমলে ডলারে কেনা পণ্যের জন্য ভারতীয় মুদ্রায় বেশি খরচ হয়। ফলে আমদানির পরিমাণ অপরিবর্তিত থাকলেও করযোগ্য মূল্য বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়লেও একই প্রভাব পড়ে। তাই বেশি কর আদায় মানেই সমপরিমাণ বেশি পণ্য এসেছে, এমন সিদ্ধান্ত টানা যায় না।
কর ফেরত বা রিফান্ডের হিসাবও এবারের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। সেপ্টেম্বরে মোট রিফান্ড হয়েছে ২৭ হাজার ১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। রিফান্ড বাদ দেওয়ার পরে নিট জিএসটি রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। এই নিট সংগ্রহ বেড়েছে ১৮.১ শতাংশ। অর্থাৎ মোট আদায়ের তুলনায় নিট রাজস্ব বৃদ্ধির হার বেশি হওয়ার একটি কারণ কর ফেরতের পরিমাণ কমে যাওয়া।
বিশেষ করে দেশীয় ক্ষেত্রে রিফান্ড ১৩.৫ শতাংশ কমেছে। কর পরামর্শদাতা বিবেক জালান মনে করছেন, এই প্রবণতার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন, কারণ কর ফেরত আটকে থাকলে ব্যবসার চলতি মূলধনে চাপ পড়তে পারে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যান থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে রিফান্ড আটকে রাখার সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। আবার গোটা অর্থবর্ষের প্রথমার্ধে মোট রিফান্ড প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন কর বিশেষজ্ঞ প্রতীক জৈন।
এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর, চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছয় মাসে মোট জিএসটি আদায় হয়েছে প্রায় ১২.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ১১.৬ শতাংশ বেশি। রিফান্ড বাদ দিলে এই সময়ে নিট রাজস্ব প্রায় ১০.৬৬ লক্ষ কোটি টাকা, বৃদ্ধি ১০.৪ শতাংশ। ছয় মাসের হিসাবে রাজস্ব বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলেও দেশীয় ব্যবসা ও আমদানির অবদান আলাদা করে দেখার প্রয়োজন তাই থাকছে।
সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান সরকারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সেই বৃদ্ধির স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। আমদানির মূল্য, টাকার বিনিময় হার এবং কর ফেরতের গতির উপর নির্ভর করে আগামী মাসগুলির সংগ্রহ বদলাতে পারে। দেশের বাজারের শক্তি বুঝতে তাই মোট জিএসটির সঙ্গে দেশীয় লেনদেনের বৃদ্ধি, উৎপাদন এবং মানুষের প্রকৃত কেনাকাটার তথ্যও মিলিয়ে দেখতে হবে। বিশেষত মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বাদ দিয়ে চাহিদার প্রকৃত পরিবর্তন বোঝা জরুরি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



