International

দাম কমাতে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ছে জি৭, ভোটের আগে স্বস্তির আশা ট্রাম্পের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • জ্বালানির চড়া দাম সামলাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেলসহ মোট ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল জি৭।
  • শুক্রবার, ২ অক্টোবর, শিল্পোন্নত দেশগুলির নেতারা এই সিদ্ধান্তে সম্মত হন।
  • নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই ঘোষণা রাজনৈতিক স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

জ্বালানির চড়া দাম সামলাতে জরুরি মজুত থেকে ডিজেলসহ মোট ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিল জি৭। শুক্রবার, ২ অক্টোবর, শিল্পোন্নত দেশগুলির নেতারা এই সিদ্ধান্তে সম্মত হন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে এই ঘোষণা রাজনৈতিক স্বস্তির সুযোগ তৈরি করেছে। তবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচ কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁর সভাপতিত্বে ভিডিয়ো বৈঠকের পরে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা বা আইইএ-র সমন্বয়ে অবিলম্বে মজুত ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। চার মাস ধরে চলবে এই উদ্যোগ। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হবে। অর্থাৎ, পুরো ১০ কোটি ব্যারেল একসঙ্গে বাজারে আসছে না; জরুরি চাহিদা মেটাতে ডিজেলকে প্রথমে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

আমেরিকায় ডিজেলের দাম কতটা উদ্বেগজনক, তা স্পষ্ট অটোমোবাইল সংস্থা এএএ-র পরিসংখ্যানে। শুক্রবার প্রতি গ্যালন ডিজেলের জাতীয় গড় দাম ছিল ৬.৩৭ ডলার। গত ২২ সেপ্টেম্বর তা রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে পৌঁছেছিল। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে জ্বালানির দাম দ্রুত কমানোর চাপ বাড়ছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপকে জরুরি ডিজেল মজুত ছাড়তে চাপ দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তা না হলে আমেরিকা ডিজেল রফতানি বন্ধ করতে পারে, এমন হুঁশিয়ারিও ছিল। মার্কিন সরবরাহের উপরে নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় ইউরোপের কাছে সেই সম্ভাবনা উদ্বেগের। সমঝোতার পরে অবশ্য ট্রাম্প জানিয়েছেন, রফতানি নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে না। ভোটের আগে এই সিদ্ধান্তকে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

যৌথ বিবৃতিতে জি৭ দেশগুলি নিজেদের মধ্যে জ্বালানি রফতানিতে বিধিনিষেধ না চাপানোর অঙ্গীকার করেছে। অন্য উৎপাদক দেশগুলিকেও নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, একাধিক শোধনাগার যাতে একই সময়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ না থাকে, তার সমন্বয় করা হবে। সম্ভব হলে সাময়িকভাবে শোধনাগারের উৎপাদন বাড়ানো হবে। বড় পরিশোধন ক্ষমতাসম্পন্ন দেশগুলিকেও বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপগুলি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে আইইএ-কে ২০ দিনের আগেই একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে সঙ্কট মোকাবিলার সুপারিশ এবং ফুরিয়ে যাওয়া মজুত কীভাবে আবার পূরণ করা হবে, তার দিকনির্দেশও সেই প্রতিবেদনে চাওয়া হয়েছে।

বাজারে ইতিমধ্যেই কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। শুক্রবার মার্কিন অপরিশোধিত তেলের মাপকাঠি ডব্লিউটিআই-এর দাম ১.৯০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯১.১১ ডলারে থামে। তবে ব্রেন্টের দর কমেছে মাত্র ০.০৬ শতাংশ, হয়েছে ১০২.২৫ ডলার। রয়টার্সকে স্যাক্সো ব্যাঙ্কের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন জানিয়েছেন, চাপের বড় জায়গা এখন পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ; মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় শোধনাগারের ক্ষমতা এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে শুধু অপরিশোধিত তেল বাড়ালেই ডিজেলের ঘাটতি মিটবে না।

কিছু প্রশ্ন অবশ্য এখনও রয়ে গিয়েছে। কোন দেশ কতটা তেল বা ডিজেল ছাড়বে, তার পূর্ণ বিভাজন জানানো হয়নি। মার্চে ঘোষিত মজুত ছাড়ার প্রতিশ্রুতির অবশিষ্ট অংশের কতটা এই ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত, সেটিও স্পষ্ট নয়।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের দফতর জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে তার সুফল পাম্পের দামেও পৌঁছচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখা হবে। এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: বাজারদর কমা এবং ক্রেতার বিল কমা একই মুহূর্তে ঘটে না। মজুত ছাড়ার সময়সূচি, সরবরাহ পৌঁছনো এবং শোধনাগারের উৎপাদন মিলিয়েই বাস্তব ফল নির্ধারিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, জরুরি ভাণ্ডার খালি করলে আপাতত দাম কমতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতের সঙ্কট সামলানোর সুরক্ষা দুর্বল হবে। পরে সেই মজুত আবার পূরণ করতে হবে। তাই ট্রাম্পের জন্য এটি স্বস্তির খবর হলেও দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নের নিষ্পত্তি এই ঘোষণায় হচ্ছে না।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles