হাইলাইটস
- এআই অভিনেত্রী টিলি নরউড প্রথমবার পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির প্রধান চরিত্রে।
- ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ নির্মাণ করছে এআই-কেন্দ্রিক স্টুডিও পার্টিকল ৬।
- ‘টিলিভার্স’ নামের রহস্যময় ডিজিটাল জগৎকে ঘিরেই এগোবে ছবির গল্প।
- নির্মাতাদের দাবি, মানুষের সৃজনশীলতা ও এআই প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হবে ‘হাইব্রিড’ সিনেমা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি শুধু গল্প লিখবে বা ছবি তৈরি করবে? এবার সেই প্রশ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এআই অভিনেত্রী টিলি নরউড। ২০২৫ সালে আত্মপ্রকাশের পর আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসা এই ভার্চুয়াল অভিনেত্রী এবার প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে চলেছেন। ছবির নাম ‘মিসঅ্যালাইন্ড’। আন্তর্জাতিক বিনোদনমাধ্যম Variety-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবিটি নির্মাণ করছে এআই-কেন্দ্রিক স্টুডিও Particle 6।
‘টিলিভার্স’-এ টিলির নতুন অভিযান
‘মিসঅ্যালাইন্ড’ একটি কমেডি-ড্রামা, যেখানে বেড়ে ওঠার গল্পের সঙ্গে মিশে থাকবে পরিচয়, অস্তিত্ব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ঘিরে নানা দার্শনিক প্রশ্ন।
ছবির প্রেক্ষাপট ‘টিলিভার্স’— ক্লাউডের গভীরে অবস্থিত এক রহস্যময় ডিজিটাল জগৎ। সেখানে টিলির কোনও বাস্তব শরীর নেই, নেই নিজের স্মৃতি বা শৈশব। সে শুধু অন্যদের অভিজ্ঞতা ধার করে পৃথিবীকে বোঝার চেষ্টা করে।
গল্পে মোড় আসে, যখন ডার্ক ওয়েবের এক রহস্যময় বিদ্রোহী বট টিলিকে তার নিরাপত্তার গণ্ডি ভেঙে বেরিয়ে আসতে প্ররোচিত করে। সেই যাত্রায় টিলির মধ্যে জন্ম নিতে থাকে আবেগ, কৌতূহল, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং নিজের মতো করে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা। ধীরে ধীরে সে যেন আরও ‘মানুষ’ হয়ে উঠতে শুরু করে।
মানুষ ও এআই—দু’জনেই নির্মাতা
নির্মাতাদের দাবি, ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ পুরোপুরি এআই-নির্ভর কোনও প্রকল্প নয়। বরং এটি একটি ‘হাইব্রিড’ প্রযোজনা, যেখানে পরিচালক, চিত্রনাট্যকার, সম্পাদক ও অন্যান্য অভিজ্ঞ চলচ্চিত্রকর্মীরা এআই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবেন।
Particle 6-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী এলাইন ভ্যান ডার ফেলডেন বলেন, গত এক বছরের অভিজ্ঞতা তাঁদের বুঝিয়েছে, উন্নত মানের গল্প বলার ক্ষেত্রে এআই শক্তিশালী সহায়ক হলেও মানুষের সৃজনশীলতা, বিচারবোধ এবং অভিজ্ঞতার কোনও বিকল্প নেই। তাঁর মতে, ভবিষ্যতের সফল চলচ্চিত্র নির্মাতারা হবেন তাঁরাই, যাঁরা প্রযুক্তি ও মানবিক সৃষ্টিশীলতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারবেন। ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ সেই ভাবনারই বড় পরীক্ষা।
কে এই টিলি নরউড?
২০২৫ সালে প্রথমবার প্রকাশ্যে আসে টিলি নরউডের নাম। তখনই দাবি করা হয়, একটি প্রতিভা ব্যবস্থাপনা সংস্থা এআই-নির্মিত এই অভিনেত্রীকে চুক্তিবদ্ধ করতে চলেছে। সেই ঘোষণার পর চলচ্চিত্র জগতে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অভিনেতা সংগঠন থেকে শুরু করে নির্মাতাদের একাংশ প্রশ্ন তোলেন— এআই কি ভবিষ্যতে মানব অভিনেতাদের জায়গা দখল করবে?
পরবর্তীতে টিলি ‘AI Commissioner’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রযোজনায় অভিনয় করে, যেখানে তার সঙ্গে ছিল আরও কয়েকটি এআই-নির্মিত চরিত্র।
বর্তমানে ‘মিসঅ্যালাইন্ড’ প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাতাদের আশা, এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যৌথ সৃজনশীলতার নতুন সম্ভাবনারও সূচনা করবে।