হাইলাইটস:
- বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার ২০১০ সালের ফাইনালের গোলের কথা বললেন স্পেন কোচ।
- লামিনে ইয়ামালকে পরামর্শ: নিজের স্বাভাবিক খেলাই খেলো, চাপ নয়, আনন্দ নিয়ে মাঠে নামো।
- পেদ্রিকে আখ্যা দিলেন ‘জাদুকর’; বললেন, কঠিন কাজকে সহজ করে তোলাই প্রকৃত প্রতিভার পরিচয়।
- স্পেনের বর্তমান মধ্যমাঠকে বিশ্বের সেরা বলে দাবি; ২০১০ সালের কিংবদন্তি দলের সঙ্গে তুলনাও টানলেন।
- জীবনের মূলমন্ত্র ‘সম্মান’; আর প্রিয় খাবার আলুর অমলেটে পেঁয়াজ একেবারেই নয়।
স্পেনের অনুশীলন শেষ হয়েছে ডালাসের কটন বোল স্টেডিয়ামে। পরদিন পর্তুগালের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচ। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নোত্তর পর্বে বসে স্পেনের প্রধান কোচ Luis de la Fuente ছিলেন একেবারেই নির্ভার। শুরুতেই মজা করে প্রশ্নপত্রের দিকে তাকিয়ে বলেন, “প্রশ্নগুলো ছেঁকে নিয়েছেন তো?” তারপর একে একে উত্তর দেন সমর্থকদের পাঠানো নানা প্রশ্নের।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্য কোনটি—এই প্রশ্নে তাঁর উত্তর ছিল স্পষ্ট। তাঁর কাছে সেই মুহূর্ত Andrés Iniestaর ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের জয়সূচক গোল। তিনি বলেন, স্পেনের মানুষের কাছে সেই গোলের আবেগের তুলনা হয় না। তখন তিনি নিজ বাড়ি বা যেখানে ছিলেন, সেখান থেকেই জাতীয় দলের প্রতিটি ম্যাচ দেখতেন। পরিবারের সবাই মিলে খেলা দেখা ছিল তাঁদের বাড়ির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
কেপ ভার্দের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই দলটিকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস ছিল, এই বিশ্বকাপে এমন অনেক দল নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করবে যাদের নাম আগে তেমন শোনা যায়নি। কেপ ভার্দে সেই উদাহরণগুলোর অন্যতম।
Lamine Yamal যদি আবার Nuno Mendesর মুখোমুখি হয়, তাহলে কী পরামর্শ দেবেন? জবাবে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় ম্যাচই একজন ফুটবলারের চরিত্র গড়ে দেয়। তাঁর মতে, গত এক বছরে ইয়ামাল অনেক পরিণত হয়েছে। আগের সেই কিশোর নেই, এখন সে ম্যাচ অনেক ভালো পড়তে পারে। তাঁর বার্তা, “নিজের মতো খেলো, খেলাটাকে উপভোগ করো।”
দলে Borja Iglesiasর ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন স্পেন কোচ। তিনি জানান, সুযোগ কম পেলেও বোরহা দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনুশীলনে তাঁর উপস্থিতিই অন্যদের আরও উন্নতি করতে বাধ্য করে। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে তাঁকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে হয়।
স্পেন দলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক পটভূমি থেকে উঠে আসা ফুটবলারদের প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ফুটবল সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। বিশ্বায়নের যুগে নানা সংস্কৃতি, ধর্ম ও পরিচয়ের মানুষের মিলন ঘটছে, আর ফুটবল সেই সংহতির শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর মতে, এই খেলার আসল শক্তি মানুষকে একত্র করা।
স্প্যানিশ ভাষায় তাঁর প্রিয় শব্দ কী? উত্তরে তিনি বলেন, “সম্মান”। তাঁর ভাষায়, “সম্মানকে ভিত্তি করে সবকিছু গড়ে তোলা যায়। সহাবস্থানের ভিত্তিও সম্মান। খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমার প্রতিটি সম্পর্কের কেন্দ্রেও এই মূল্যবোধই রয়েছে।”
জাতীয় দলের কোচ হিসেবে সবচেয়ে কঠিন কাজ কী—এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “দল নির্বাচন।” কৌশল বা পরিকল্পনার চেয়ে বেশি কঠিন হল কাকে দলে রাখা হবে আর কাকে বাদ দিতে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া।
স্পেনের বর্তমান মধ্যমাঠকে তিনি বিশ্বের সেরা বলে দাবি করেন। Pedri, Rodri, Martín Zubimendi, Fabián Ruiz, Dani Olmo, Mikel Merino, Álex Baena, Gavi—প্রতিটি পজিশনে তাঁদের একাধিক বিশ্বমানের বিকল্প রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ২০১০ সালের কিংবদন্তি স্প্যানিশ মধ্যমাঠের সঙ্গে বর্তমান দলের তুলনা টেনে বলেন, মানের দিক থেকে এই দলও খুব কাছাকাছি।
পেদ্রিকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল সবচেয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, “সে একজন জাদুকর। সবচেয়ে কঠিন কাজগুলো এমনভাবে করে যেন সেগুলো খুব সহজ। প্রকৃত প্রতিভার এটাই সংজ্ঞা। মাঠে সে এমন সব পাস দেখতে পায়, যা অন্যরা কল্পনাও করতে পারে না।”
সুখের রং কী—এমন ব্যতিক্রমী প্রশ্নের উত্তরে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষ বুঝতে শেখে আসলে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কাছে সুখের রং হল জীবন, সুস্বাস্থ্য, পরিবার এবং বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়।
সবশেষে এল একেবারে হালকা প্রশ্ন—স্প্যানিশ আলুর অমলেটে পেঁয়াজ থাকবে কি থাকবে না? হেসে তিনি জানিয়ে দেন, “একেবারেই না। আমার মা পেঁয়াজ পছন্দ করতেন না, আমিও তাঁর সেই স্বাদই পেয়েছি। আলুর অমলেট আমার প্রিয় খাবারের একটি, তবে অবশ্যই পেঁয়াজ ছাড়া।”