হাইলাইটস:

  • শেষ ১১ মিনিটে জোড়া গোল করে নরওয়েকে ২-১ জয় এনে দিলেন এরলিং হালান্ড।
  • প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠল নরওয়ে।
  • প্রথমার্ধে পেনাল্টি নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস।
  • বদলি হিসেবে নেমে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ দুই গোলেই সহায়তা করেন।
  • যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেও ব্রাজিলকে বাঁচাতে পারেননি জুনিয়র নেইমার।
  • কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হতাশাজনক পারফরম্যান্সে।

বাংলাস্ফিয়ার: বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল নরওয়ে। ফুটবল মহাশক্তি ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে নায়ক হয়ে উঠলেন এরলিং হালান্ড। শেষ ১১ মিনিটে তাঁর জোড়া গোলেই ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ হল।

প্রথমার্ধে গোলশূন্য থাকলেও ম্যাচে উত্তেজনার অভাব ছিল না। তৃতীয় মিনিটেই প্যাট্রিক বার্গের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নরওয়ে। কিন্তু সহকারী রেফারির অফসাইডের সিদ্ধান্ত ভিডিও পর্যালোচনার পর বহাল থাকায় গোলটি বাতিল হয়।

এরপর ব্রাজিল বড় সুযোগ পায়। দ্রুত আক্রমণে মাতেউস কুনহাকে বক্সে ফেলে দেন ক্রিস্টোফার আজের। মাঠের রেফারি প্রথমে পেনাল্টি না দিলেও ভিডিও সহায়তায় সিদ্ধান্ত বদলান। কিন্তু সেই সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন ব্রুনো গিমারায়েস। তাঁর দুর্বল শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড।

প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি এবং মার্টিন ওডেগার্ড—তিনজনই গোলের সুযোগ পেলেও দুই গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় স্কোরলাইন বদলায়নি।

বিরতির পর নরওয়ের কোচ স্টোলে সোলবাক্কেন একসঙ্গে দুই উইঙ্গার বদলে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ ও অস্কার ববকে নামান। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। শেলদেরুপের গতি ও সৃজনশীলতায় ব্রাজিলের রক্ষণ বারবার বিপাকে পড়তে থাকে।

৮১তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বাঁ দিক থেকে শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে আকাশে ভেসে উঠে গ্যাব্রিয়েল মাগালিয়াঁয়েসকে হারিয়ে শক্তিশালী হেডে জাল খুঁজে নেন হালান্ড। অ্যালিসনের কোনও সুযোগই ছিল না।

ব্রাজিল তখন মরিয়া হয়ে সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায়। কিন্তু রক্ষণে ফাঁক রেখে আক্রমণে ওঠার মাশুল দিতে হয় যোগ করা সময়ে। শেলদেরুপের বাড়ানো বল বক্সের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিচু শটে দ্বিতীয় গোল করেন হালান্ড। টুর্নামেন্টে সেটি ছিল তাঁর ষষ্ঠ ও সপ্তম গোল।

ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে জুনিয়র নেইমার স্পট-কিক থেকে ব্যবধান কমালেও তখন আর প্রত্যাবর্তনের সময় ছিল না। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই চোখের জলে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিল তারকা।

বল দখলে নরওয়ের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে তারা ৬৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখে, যেখানে ব্রাজিলের দখল ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ। গোলমুখে নরওয়ে সাতটি কার্যকর আক্রমণ গড়ে তোলে, ব্রাজিলের তুলনায় তাদের আক্রমণও ছিল অনেক বেশি সংগঠিত।

স্টোলে সোলবাক্কেনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে এই জয়কে। গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা নরওয়ে দল এবার বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল। আর হালান্ড আবারও দেখিয়ে দিলেন, বড় ম্যাচের বড় তারকা কেন তিনিই।

অন্যদিকে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলের জন্য এই হার বড় ধাক্কা। সুযোগ নষ্ট, কৌশলগত ভুল এবং আক্রমণে ধার না থাকায় বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। কোয়ার্টার ফাইনালে এবার নরওয়ের সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ, কিন্তু হালান্ডের দুরন্ত ফর্মে তাদের স্বপ্ন এখন আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে উজ্জ্বল।