হাইলাইটস:
- তিন বছরের সেন্সর জট ও বিতর্ক পেরিয়ে মুক্তি পেল ‘সতলুজ’।
- মানবাধিকার কর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত ছবির গল্প।
- দিলজিৎ দোসাঞ্জের দাবি, এই ছবি তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নিঃশেষ করে দিয়েছে।
- শুটিং শেষে নিজেকে স্বাভাবিক করতে আলাদা সময় নিতে হয়েছিল অভিনেতাকে।
- ৩ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিকভাবে জি৫ গ্লোবালে স্ট্রিমিং শুরু হয়েছে ছবিটির।
দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষা, সেন্সর জট, নাম পরিবর্তন এবং বিতর্ক—সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে দর্শকের সামনে এসেছে দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’। একসময় ‘পাঞ্জাব ৯৫’ নামে পরিচিত এই ছবিটি ৩ জুলাই থেকে আন্তর্জাতিকভাবে জি৫ গ্লোবালে স্ট্রিমিং শুরু করেছে।
তবে দিলজিৎের কাছে ‘সতলুজ’ শুধু আর একটি ছবি নয়। এটি তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলির একটি।
সম্প্রতি Variety India-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, “সত্যি বলতে, এটি আমার কেরিয়ারের সবচেয়ে কঠিন ছবিগুলির একটি। মানসিক ও শারীরিকভাবে এই ছবি আমাদের সবার কাছ থেকেই সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল।”
তাঁর কথায়, দীর্ঘ শুটিং, প্রতিকূল পরিবেশ এবং অত্যন্ত আবেগঘন দৃশ্যের চাপ সামলানো সহজ ছিল না। কিন্তু সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলেছিল ছবির বিষয়বস্তু। “শুটিং শেষ হওয়ার পরও সেই অনুভূতি আমাকে ছাড়েনি,” বলেন অভিনেতা।
দিলজিৎ আরও জানান, দীর্ঘ কেরিয়ারে এই প্রথম কোনও ছবির কাজ শেষ করে নিজেকে মানসিকভাবে পুনরুদ্ধার করার প্রয়োজন হয়েছিল। তাঁর কথায়, “এই প্রথম শুটিং শেষ হওয়ার পর নিজেকে আবার স্বাভাবিক করে তুলতে সময় নিতে হয়েছে।”
ছবিটি মানবাধিকার কর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন থেকে অনুপ্রাণিত। নব্বইয়ের দশকে পাঞ্জাবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ সামনে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন খালরা। সেই সংবেদনশীল ইতিহাসই ছবির মূল ভিত্তি।
মুক্তির আগেই ছবিটি বারবার বিতর্কে জড়িয়েছে। প্রথমে ‘পাঞ্জাব ৯৫’ নামে নির্মিত হলেও পরে নাম বদলে ‘সতলুজ’ রাখা হয়। সেন্সর বোর্ডের আপত্তি, একাধিক কাটছাঁটের দাবি এবং মুক্তি পিছিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ছবিটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
দিলজিৎের মতে, বাস্তব ঘটনার উপর নির্মিত এমন চরিত্রে অভিনয় করা শুধু সংলাপ বলার বিষয় নয়; চরিত্রের যন্ত্রণা, ভয় এবং সংগ্রাম নিজের ভেতরে বহন করতে হয়। আর সেই কারণেই ‘সতলুজ’ তাঁর মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। সমালোচকদের একাংশের মতে, বিতর্কের চেয়ে এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ছবির বিষয়বস্তু এবং দিলজিৎ দোসাঞ্জের সংযত, শক্তিশালী অভিনয়।