Home খবর ‘সাফল্যের কোনও ফর্মুলা নেই, আছে শুধু সাহস আর প্রার্থনা’— বক্স অফিসে প্রত্যাবর্তনের পর অকপট অক্ষয় কুমার

‘সাফল্যের কোনও ফর্মুলা নেই, আছে শুধু সাহস আর প্রার্থনা’— বক্স অফিসে প্রত্যাবর্তনের পর অকপট অক্ষয় কুমার

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
7 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস:

  • Welcome to the Jungle-এর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত অক্ষয় কুমার।
  • তিন দশকেরও বেশি কেরিয়ারেও প্রতি শুক্রবারকে এখনও ‘পরীক্ষার ফল’ বলে মনে করেন অভিনেতা।
  • বছরে একাধিক ছবি করার রহস্য হিসেবে জানালেন শৃঙ্খলা ও সময় ব্যবস্থাপনার কথা।
  • তাঁর কথায়, সাফল্যের কোনও নির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই— আছে শুধু সাহস, পরিশ্রম ও ঈশ্বরের আশীর্বাদ।

বলিউডে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একের পর এক বাণিজ্যিক সাফল্য, অ্যাকশন, কমেডি, দেশাত্মবোধক ছবি থেকে সামাজিক বার্তা— সব ধরনের চরিত্রেই নিজের স্বতন্ত্র ছাপ রেখেছেন অক্ষয় কুমার। কিন্তু এত দীর্ঘ পথ পেরিয়েও তিনি দাবি করেন, আজও কোনও নতুন ছবি মুক্তির আগে তাঁর ভয় কাটে না। বরং প্রতিটি শুক্রবার এখনও তাঁর কাছে পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিনের মতোই উদ্বেগের।

সম্প্রতি Welcome to the Jungle মুক্তির পর সেই কথাই আবার সামনে এল। ছবিটি মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তেই ৬৫ কোটিরও বেশি আয় করেছে। এমন এক সময়ে যখন বড় তারকাদের ছবিও প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে এই সাফল্য বলিউডের জন্যও স্বস্তির বার্তা। আর এই সাফল্যের মাঝেই হিন্দুস্তান টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ কেরিয়ার, কাজের ধরন, সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অক্ষয়। সাক্ষাৎকারের শুরুতেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনও শিরোনাম তৈরির জন্য কথা বলবেন না। তাঁর ভাষায়, যা বলবেন, মন থেকে বলবেন। সেই অকপটতাই ধরা পড়েছে গোটা আলোচনায়।

‘জয় মহাকাল’— সাফল্যের প্রথম প্রতিক্রিয়া

Welcome to the Jungle-এর দুর্দান্ত সূচনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অক্ষয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। তিনি শুধু বলেন, “জয় মহাকাল।” এই দুটি শব্দেই যেন তিনি ছবির সাফল্যের কৃতিত্ব ঈশ্বরের আশীর্বাদ এবং দর্শকের ভালোবাসার উপর ছেড়ে দিয়েছেন। বরাবরই ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিকতার কথা প্রকাশ্যে বলতে দ্বিধা করেন না অক্ষয়। তাই বড় সাফল্যের মুহূর্তেও তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল কৃতজ্ঞতার।

‘চারটে ছবি করার কোনও গোপন যন্ত্র নেই’

অক্ষয় কুমারকে নিয়ে বহু বছর ধরেই একটি ধারণা প্রচলিত— তিনি নাকি বছরে চার-পাঁচটি ছবি করে ফেলেন। অনেকেই মনে করেন, এত দ্রুত কাজ করার পিছনে নিশ্চয়ই কোনও বিশেষ কৌশল রয়েছে। এই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে উড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “অনেকে ভাবেন আমার বাড়িতে বুঝি এমন কোনও গোপন যন্ত্র আছে, যা বছরে চারটে ছবি তৈরি করে দেয়। বাস্তবে বিষয়টা একেবারেই তা নয়। এর পেছনে আছে শুধু সময়কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা এবং কঠোর শৃঙ্খলা।” অক্ষয় বরাবরই ভোরে ওঠা, নিয়মিত শরীরচর্চা, নির্দিষ্ট সময়ে শুটিং এবং ব্যক্তিগত জীবনকে সুশৃঙ্খল রাখার জন্য পরিচিত। তাঁর মতে, এই অভ্যাসই তাঁকে অন্যদের তুলনায় বেশি কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।

তিন দশক পরেও কমেনি দুশ্চিন্তা

দীর্ঘ কেরিয়ার মানেই কাজ সহজ হয়ে যায়— এই ধারণাকেও ভুল বলে মনে করেন অক্ষয়। তিনি বলেন, “অনেকে ভাবেন, এত বছর কাজ করার পরে সবকিছু আমার কাছে খুব সহজ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবটা ঠিক উল্টো। প্রতিটি শুক্রবার এখনও আমার কাছে পরীক্ষার ফল ঘোষণার দিনের মতো।” একজন প্রতিষ্ঠিত তারকা হওয়া সত্ত্বেও নতুন ছবি মুক্তির আগে তাঁর মনে এখনও উৎকণ্ঠা কাজ করে। দর্শক ছবিটি গ্রহণ করবেন কি না, সেই প্রশ্ন তাঁকে এখনও ভাবায়।

‘ভয় না থাকলে অবসর নেওয়ার সময়’

অক্ষয়ের মতে, শিল্পীর জীবনে উত্তেজনা ও উদ্বেগ দুটোই জরুরি। তিনি বলেন, “প্রতিটি নতুন ছবির আগে এখনও আমার মনে প্রজাপতি ওড়ে। যেদিন নতুন কাজ নিয়ে আর কোনও উত্তেজনা বা নার্ভাসনেস থাকবে না, সেদিনই বুঝব অবসর নেওয়ার সময় এসে গেছে।” অর্থাৎ, তাঁর কাছে সাফল্যের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কাজের প্রতি সেই প্রথম দিনের আগ্রহ ধরে রাখা।

নতুনদের মতো ক্ষুধা এখনও রয়েছে

অক্ষয় মনে করেন, দীর্ঘদিন শিল্পে টিকে থাকার একমাত্র উপায় হল নিজেকে কখনও সম্পূর্ণ সফল বলে না ভাবা। তাঁর ভাষায়, “আমি এখনও নতুনদের মতো ক্ষুধা নিয়ে কাজ করি।” এই ‘ক্ষুধা’ বলতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রমাণ করার ইচ্ছা। দর্শকের রুচি বদলায়, সিনেমার ভাষা বদলায়, বাজার বদলায়— তাই অভিনেতাকেও বদলাতে হয়।

সাফল্যের কোনও নির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই

অনেকেই মনে করেন অক্ষয় কুমারের সাফল্যের পিছনে কোনও নির্দিষ্ট ছক রয়েছে। কিন্তু তিনি নিজেই সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। তাঁর মতে, “কোনও গোপন ফর্মুলা নেই। আছে শুধু শৃঙ্খলা, ধারাবাহিকতা এবং নতুন অভিনেতার মতো কাজ করার ক্ষুধা।” এই কথার সঙ্গেই তিনি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উল্লেখ করেন— সাহস এবং প্রার্থনা। কারণ কোনও ছবি কতটা সফল হবে, তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। তাই কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্য এবং দর্শকের আশীর্বাদও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উত্থান-পতনের মধ্যেও লড়াই

গত কয়েক বছরে অক্ষয় কুমারের বেশ কিছু ছবি প্রত্যাশামতো ব্যবসা করতে পারেনি। সেই সময় তাঁর বছরে বহু ছবি মুক্তি দেওয়ার কৌশল নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। তবে তিনি কাজের গতি কমাননি। বরং একের পর এক নতুন বিষয়, নতুন চরিত্র এবং নতুন ঘরানায় নিজেকে পরীক্ষা করে গিয়েছেন। Welcome to the Jungle-এর সাফল্য সেই ধারাবাহিক চেষ্টারই ফল বলে মনে করছেন চলচ্চিত্র মহলের অনেকেই।

দর্শকের সঙ্গে সম্পর্কই সবচেয়ে বড় শক্তি

অক্ষয় কুমারের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে দর্শকের কথা। তাঁর বিশ্বাস, একজন অভিনেতার প্রকৃত বিচারক দর্শকই। তাই প্রতিটি নতুন ছবিকে তিনি নতুন পরীক্ষার মতোই দেখেন। তিন দশকেরও বেশি সময় পরেও তিনি যদি প্রতি শুক্রবার উদ্বিগ্ন থাকেন, তবে সেটাই তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ আত্মতুষ্টি নয়, বরং নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার ইচ্ছাই তাঁকে এখনও সমান প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে। সাক্ষাৎকারের শেষে অক্ষয়ের বার্তাটি তাই স্পষ্ট— সাফল্যের কোনও যাদুকরী ফর্মুলা নেই। প্রতিভার পাশাপাশি দরকার কঠোর পরিশ্রম, সময়ের মূল্য বোঝা, শৃঙ্খলা, ঝুঁকি নেওয়ার সাহস এবং ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস। তাঁর ভাষায়, “কোনও ফর্মুলা নেই— আছে শুধু সাহস, প্রার্থনা আর নতুনদের মতো ক্ষুধা নিয়ে এগিয়ে চলা।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles