হাইলাইটস:

  • অনুমোদিত নকশা ও বাস্তব নির্মাণের মধ্যে গুরুতর অমিলের সন্ধান কেএমসির।
  • কংক্রিটের স্তম্ভের বদলে ব্যবহার করা হয়েছিল ইস্পাতের খুঁটি ও বিম।
  • প্রাথমিক তদন্তে নির্মাণসামগ্রীর গুণমান নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
  • কাঠামোর ভার বহনে দুর্বলতা থেকেই বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।
  • পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত রিপোর্টের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাস্ফিয়ার: তারাতলায় গুদাম ধসের ঘটনায় কলকাতা পুরসভার (কেএমসি) প্রাথমিক তদন্তে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, যে নকশা অনুমোদিত হয়েছিল সেখানে ভারবহনকারী কংক্রিটের শক্ত স্তম্ভের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্মাণের সময় সেই স্তম্ভের পরিবর্তে ইস্পাতের খুঁটি ও বিম ব্যবহার করা হয়। এই বড় ধরনের বিচ্যুতিই কাঠামোর স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

কেএমসির প্রকৌশলীরা ধ্বংসস্তূপ পরীক্ষা করে দেখেছেন, গুদামটির প্রধান ভার বহন করছিল ইস্পাতের পোস্ট। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তাঁদের ধারণা, অতিরিক্ত চাপের মুখে এই ইস্পাতের খুঁটি ও বিম বেঁকে যায় এবং তারপরই গোটা কাঠামো ধসে পড়ে। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত কি না, সেটিও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। ব্যবহৃত কংক্রিটের মান নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত বালু মেশানো নিম্নমানের কংক্রিট ব্যবহারের ইঙ্গিত মিলেছে। একই সঙ্গে ইস্পাতের গুণমান এবং সংযোগস্থলগুলির শক্তিও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

কেএমসি সূত্রের খবর, অনুমোদিত নকশা থেকে কেন এবং কীভাবে এই পরিবর্তন করা হল, তা জানতে নির্মাতা সংস্থা, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্মাণ চলাকালীন পর্যবেক্ষণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় এসেছে।

পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চূড়ান্ত ফরেনসিক ও প্রকৌশল বিশ্লেষণের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। যদি প্রমাণিত হয় যে অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।