Home খবর হোয়াইট হাউসে ইউএফসি আসরে ট্রাম্পকে হত্যার ছক

হোয়াইট হাউসে ইউএফসি আসরে ট্রাম্পকে হত্যার ছক

Authored By বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক
5 views 4 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • হোয়াইট হাউসে ইউএফসি অনুষ্ঠানে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার অভিযোগে আটজন গ্রেপ্তার।
  • তদন্তে জানা গেছে, অন্তত ১৯ জনের একটি উগ্র ডানপন্থী নেটওয়ার্ক এই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল।
  • টিকটকে পরিচয়, পরে সিগন্যাল ও সিমপ্লেক্সের মতো এনক্রিপ্টেড মাধ্যমে পরিকল্পনা এগিয়েছিল।
  • ড্রোনে বিস্ফোরক হামলা, স্নাইপার দিয়ে গুলি এবং পরে হোয়াইট হাউসে হামলার পরিকল্পনা ছিল।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি আমেরিকার উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির ভেতরের গভীর বিভাজনের প্রতিফলন।

হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ইউএফসি প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার যে ষড়যন্ত্র ভেস্তে দেওয়ার দাবি করেছে আমেরিকার বিচার বিভাগ, তার নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। আদালতের নথি বলছে, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা ছিল না; বরং টিকটকে পরিচিত হওয়া একদল উগ্র ডানপন্থী তরুণের সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রান্ত। তদন্তকারীদের দাবি, এই গোষ্ঠীর সদস্যরা প্রথমে টিকটকে যোগাযোগ গড়ে তোলে। পরে একে অপরের পরিচয় ও মতাদর্শ যাচাই করে তারা সিগন্যাল ও সিমপ্লেক্সের মতো এনক্রিপ্টেড বার্তা আদানপ্রদানের মাধ্যমে গোপন দলে যোগ দেয়। সেখানে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা অনুযায়ী সদস্যদের বিভিন্ন স্তরে ভাগ করা হয়। কয়েকজন সদস্য সরাসরি দেখা করে অস্ত্রচালনা ও কৌশলগত প্রশিক্ষণও নেন।

এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ১৯ বছরের টাইসেন প্রপার। ওহাইওর একটি ছোট শহরে বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করার পর পরিবারের দেওয়া প্রায় তিন হাজার ডলার তিনি অস্ত্র, গুলি, দেহরক্ষার বর্ম এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম কিনতে ব্যয় করেন। তাঁর বাবা-মা ছেলের আচরণে সন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেন। তদন্তকারীদের মতে, সেই সিদ্ধান্তই বড় ধরনের রক্তপাত ঠেকাতে সাহায্য করেছে। আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা ছিল প্রথমে হোয়াইট হাউসের কাছে একটি বিক্ষোভের আয়োজন করে নিরাপত্তা বাহিনীর মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়া। এরপর ড্রোনে বহন করা বিস্ফোরক দিয়ে ইউএফসি অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা। আতঙ্কে অতিথিরা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা বন্দুকধারীরা ট্রাম্প-সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালাত। এরপর দ্বিতীয় দফায় আরও হামলাকারী হোয়াইট হাউসে ঢোকার চেষ্টা করত। এক অভিযুক্তের ভাষায়, এটি হওয়ার কথা ছিল “রক্তের বন্যা”।

এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তদন্তকারীরা বলছেন, অন্তত ১৯ জন এই পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনেকের বয়স কুড়ি থেকে তিরিশের মধ্যে। ঘটনার পরপরই ইরান যুদ্ধ এবং ফুটবল বিশ্বকাপের খবরে বিষয়টি আড়ালে চলে গেলেও তদন্তের নথি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কারণ, অভিযুক্তরা নিজেদের উগ্র ডানপন্থী বলে পরিচয় দিলেও তাদের লক্ষ্য ছিলেন রিপাবলিকান নেতারাই। তারা আমেরিকা-ইজরায়েল ঘনিষ্ঠতার বিরোধী ছিল এবং ইজরায়েলপন্থী প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলিকে আমেরিকার রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বলে মনে করত।

আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য এই ষড়যন্ত্রের গুরুত্ব কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পরিকল্পনাটি খুব বেশি এগোয়নি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সময়মতো ব্যবস্থা নিয়েছে। অন্যদিকে কয়েকটি রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, অভিযুক্তদের বক্তব্যে বামপন্থী ষড়যন্ত্রতত্ত্বের প্রভাবও ছিল। তবে উগ্রবাদ নিয়ে গবেষণা করা বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। বর্তমান আমেরিকার উগ্র ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলির একটি অংশ ট্রাম্প প্রশাসনকেও “দুর্নীতিগ্রস্ত অভিজাতদের সরকার” বলে মনে করে এবং সরকারবিরোধী অবস্থান থেকেই সহিংসতার পথে হাঁটতে চায়।

আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন Adolf Hitler-এর প্রশংসা করতেন এবং ইহুদিবিদ্বেষী নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, আমেরিকার সরকার এক গোপন অভিজাত চক্রের নিয়ন্ত্রণে, যারা শিশু বলি দেয় এবং দেশকে ধ্বংস করছে। এই বিশ্বাসের সঙ্গে ধর্মীয় ভাষা, শয়তান-সংক্রান্ত কল্পনা এবং ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণা জড়িয়ে গিয়েছিল। এক অভিযুক্তের মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলে সম্প্রতি ধর্মের প্রতি অত্যন্ত আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজেকে সাবেক সেনাসদস্য পরিচয় দেওয়া কয়েকজন অনলাইন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসেন। আদালতের নথি বলছে, ওই গোষ্ঠী উগ্র ধর্মীয় ও সরকারবিরোধী মতাদর্শ প্রচার করত। তদন্তকারীরা তাঁর ডায়েরিতে এমন লেখাও পেয়েছেন, যেখানে সরকারের বিরুদ্ধে শয়তানপূজার অভিযোগ এবং শিশু বলির মতো ভিত্তিহীন দাবি করা হয়েছে।

উগ্রবাদ বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আমেরিকার উগ্র ডানপন্থী শিবিরের ভেতরে বড় ধরনের আদর্শগত বিভাজন তৈরি হয়েছে। একপক্ষ ট্রাম্প ও ইজরায়েলকে সমর্থন করলেও অন্যপক্ষ মনে করে ট্রাম্প “আমেরিকা আগে” নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধ এবং পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এই বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প এতদিন বিভিন্ন ডানপন্থী গোষ্ঠীকে এক ছাতার নিচে ধরে রাখতে সক্ষম হলেও ইরান, ইজরায়েল এবং তথাকথিত “এপস্টিন নথি” নিয়ে অবস্থান পরিবর্তনের ফলে সেই ঐক্যে বড় ফাটল ধরেছে। তরুণ উগ্রবাদীদের একাংশ এখন ট্রাম্পকেও “প্রতিষ্ঠানের অংশ” হিসেবে দেখছে।

তদন্তকারীরা বলছেন, এই হামলার পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তা ভেস্তে যায়। কয়েকজন অভিযুক্ত ওয়াশিংটনে পৌঁছাতেই পারেননি, এমনকি একজন গাড়ির সমস্যায় আটকে পড়েন। তবু তাঁদের কাছ থেকে হাজার হাজার রাউন্ড গুলি ও বিপুল অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, এই গোষ্ঠীই শেষ নয়। একই ধরনের উগ্র মতাদর্শে অনুপ্রাণিত হাজার হাজার তরুণ অনলাইনে সক্রিয় থাকতে পারে। তাঁদের মতে, পরিবার বা কাছের মানুষের সতর্কতাই অনেক সময় সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা ঠেকানোর একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles