হাইলাইটস:

  • করাচির মোসামিয়াত চৌরঙ্গি এলাকায় বিস্ফোরণের পর শুরু হয় তীব্র গোলাগুলি।
  • হামলার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান রেঞ্জার্সের একটি কার্যালয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।
  • অন্তত তিন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত এবং তিন হামলাকারীও নিহত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি।
  • পুলিশ, কমান্ডো ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান চালায়।
  • ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে; হামলার দায় এখনো কোনও সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

বাংলাস্ফিয়ার: পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচি শনিবার সন্ধ্যায় প্রবল বিস্ফোরণ ও দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা ভারী গোলাগুলিতে কেঁপে ওঠে। শহরের মোসামিয়াত চৌরঙ্গি এলাকায় অবস্থিত পাকিস্তান রেঞ্জার্সের একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। বিস্ফোরণের পরপরই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের গুলির শব্দে গোটা এলাকা আতঙ্কে ছেয়ে যায়। ঘটনাস্থলের চারপাশে দ্রুত নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী।

প্রাথমিক খবরে জানা গেছে, হামলায় অন্তত তিন রেঞ্জার্স সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তিন সন্দেহভাজন জঙ্গিও নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিস্ফোরণের পরপরই বিশেষ কমান্ডো দল, দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী এবং অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারদিক ঘিরে ফেলে। আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে কাছাকাছি অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়।

সিন্ধ প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ ঘটনার বিষয়ে অবিলম্বে বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্ফোরণের প্রকৃতি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি এটিকে একটি পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা হিসেবেই বিবেচনা করছে। হামলাকারীরা কীভাবে উচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের এত কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হল, তা-ও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

করাচি দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের সবচেয়ে সংবেদনশীল শহরগুলির একটি। অতীতে জঙ্গি হামলা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শনিবারের হামলা দেখিয়ে দিল, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির হুমকি পুরোপুরি নির্মূল হয়নি।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিস্ফোরণের উৎস, ব্যবহৃত বিস্ফোরক এবং হামলাকারীদের পরিচয় খতিয়ে দেখছেন। পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে এই হামলা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নগরীগুলির একটিতে আধাসামরিক বাহিনীর স্থাপনাকে লক্ষ্য করে এমন আক্রমণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।