Home খবর পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ভ্রমণ নথি: বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা

পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়, ভ্রমণ নথি: বিদেশ মন্ত্রকের স্পষ্ট বার্তা

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
16 views 3 minutes read
A+A-
Reset
হাইলাইটস
  • পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়, ভ্রমণ নথি হিসেবে ব্যাখ্যা করল বিদেশ মন্ত্রক।
  • বিদেশে ভারতীয়দের জাতীয় পরিচয় ও পরিচিতি নিশ্চিত করাই পাসপোর্টের মূল উদ্দেশ্য।
  • নতুন চিপ-ভিত্তিক ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে বায়োমেট্রিক তথ্য ও উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
  • জালিয়াতি রোধ এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোই ই-পাসপোর্ট প্রকল্পের লক্ষ্য।
  • আগামী সপ্তাহে ‘হিউম্যান রিসোর্স মোবিলিটি ফোরাম’ আয়োজন করবে বিদেশ মন্ত্রক।

পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। বুধবার ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’-এ এই গুরুত্বপূর্ণ বার্তাই দিল বিদেশ মন্ত্রক। মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাসপোর্ট মূলত একটি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথি, যার কাজ বিদেশে ভারতীয় নাগরিকের জাতীয় পরিচয় ও পরিচিতি নিশ্চিত করা। এটি নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র বা চূড়ান্ত দলিল নয়।

১৯৬৭ সালের ২৪ জুন ‘পাসপোর্ট আইন’ কার্যকর হয়েছিল। সেই উপলক্ষে প্রতি বছর এই দিনটি ‘পাসপোর্ট সেবা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। এ বছরের অনুষ্ঠানে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা পাসপোর্ট ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তির হাতে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকা মানেই যে সেটি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ, এমন ধারণা সঠিক নয়। পাসপোর্ট বিদেশে ভ্রমণের অনুমোদিত নথি এবং এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয়তা সম্পর্কে বিদেশি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। তবে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রশ্নে অন্যান্য আইন ও নির্দিষ্ট নথির ভূমিকা রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিদেশ মন্ত্রক নতুন প্রজন্মের চিপ-ভিত্তিক ই-পাসপোর্টের কথাও তুলে ধরে। আধিকারিকদের মতে, এই ই-পাসপোর্টে সংরক্ষিত থাকবে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, যার মধ্যে রয়েছে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে পাসপোর্ট জাল করা বা তথ্য বিকৃত করার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

সরকারের দাবি, ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলিতে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে। একই সঙ্গে বিদেশি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতীয় পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতাও বাড়বে। বহু উন্নত দেশ ইতিমধ্যেই চিপ-ভিত্তিক পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। ভারতও সেই পথে এগোচ্ছে।

বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে পাসপোর্ট পরিষেবার ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়েছে, আবেদন প্রক্রিয়া ডিজিটাল হয়েছে এবং পরিষেবা প্রদানের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে পাসপোর্ট পাওয়া আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আধিকারিকরা আরও জানান, আগামী সপ্তাহে দুই দিনের ‘হিউম্যান রিসোর্স মোবিলিটি ফোরাম’ আয়োজন করা হবে। এর উদ্দেশ্য হল বিদেশে কর্মসংস্থানের বৈধ ও নিরাপদ পথ সম্পর্কে ভারতীয় নাগরিকদের সচেতন করা। একই সঙ্গে বিদেশি নিয়োগকারী সংস্থা এবং ভারতীয় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দক্ষ ও অদক্ষ ভারতীয় শ্রমশক্তির চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু সেই সুযোগের পাশাপাশি বেড়েছে অবৈধ অভিবাসন, মানবপাচার এবং ভুয়ো নিয়োগ সংক্রান্ত প্রতারণার ঝুঁকিও। বিদেশ মন্ত্রক মনে করছে, বৈধ অভিবাসনের পথ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো গেলে এই ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করা সহজ হবে।

পাসপোর্ট সেবা দিবসের মঞ্চ থেকে তাই একদিকে যেমন প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ পাসপোর্ট ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে, অন্যদিকে নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট সম্পর্কে প্রচলিত বিভ্রান্তিও দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের বার্তা স্পষ্ট—পাসপোর্ট একজন ভারতীয়ের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিচয়পত্র, কিন্তু নাগরিকত্বের একমাত্র প্রমাণপত্র নয়। নতুন ই-পাসপোর্ট এবং উন্নত পরিষেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভারতীয়দের আন্তর্জাতিক যাতায়াত আরও নিরাপদ, দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে বলেই আশা করছে কেন্দ্র।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles