Home খবর ‘গোপন’ নির্দেশে সিল অ্যাকাউন্ট! সিজেপির এক্স হ্যান্ডেল ব্লক নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় অভিজিৎ দীপকে

‘গোপন’ নির্দেশে সিল অ্যাকাউন্ট! সিজেপির এক্স হ্যান্ডেল ব্লক নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় অভিজিৎ দীপকে

Authored By Diptyajit Roy Chowdhury
31 views 3 minutes read
A+A-
Reset
হাইলাইটস
  • সিজেপির এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট কেন ব্লক করা হয়েছে, তার কারণ জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।
  • পর্যালোচনা কমিটির শুনানিতে ব্লকিং অর্ডার দেখতে চাইলেও তা ‘গোপন’ বলে দেখাতে অস্বীকার করে কেন্দ্র।
  • কোন পোস্ট বা টুইট আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে, তাও জানানো হয়নি বলে দাবি।
  • তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, সংগঠনের পাকিস্তান-যোগের অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ।
  • স্বচ্ছতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত।

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র এক্স হ্যান্ডেল ভারতে ব্লক করার ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রশ্ন তুললেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বুধবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পর্যালোচনা কমিটির সামনে হাজির হওয়ার পর তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের অ্যাকাউন্ট কেন বন্ধ করা হয়েছে, সেই বিষয়ে সরকার কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে রাজি হয়নি। শুধু তাই নয়, যে সরকারি নির্দেশের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেটিও তাঁকে দেখানো হয়নি।

দীপকের দাবি, শুনানির সময় তিনি সরাসরি ব্লকিং অর্ডারের কপি চেয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রকের প্রতিনিধিরা জানান, সেই নথি ‘গোপনীয়’ বা ‘কনফিডেনশিয়াল’, তাই তা প্রকাশ করা যাবে না। এরপর তিনি জানতে চান, কোন পোস্ট বা টুইট সরকারের কাছে আপত্তিকর বলে মনে হয়েছে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও একই উত্তর দেওয়া হয়— বিষয়টি গোপনীয়, তাই কোনও তথ্য ভাগ করে নেওয়া সম্ভব নয়।

শুনানির পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে দীপকে বলেন, “আমার অ্যাকাউন্ট যদি নিষিদ্ধই করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন তা করা হয়েছে, সেটাও কি জানার অধিকার আমার নেই? কোন বক্তব্যের জন্য এই পদক্ষেপ, সেটাও যদি না জানানো হয়, তাহলে আমি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করব কীভাবে?” তাঁর মতে, প্রশাসনের এই অবস্থান স্বাভাবিক বিচারপ্রক্রিয়া এবং স্বচ্ছতার নীতির পরিপন্থী।

এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি বা রাজনৈতিক সংগঠনের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ক্ষেত্রে কারণ জানানো এবং সংশ্লিষ্ট পোস্ট চিহ্নিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু তথ্য প্রকাশ করা সবসময় সম্ভব নয় বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এদিকে, পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক পরে দাবি করেন, সিজেপির বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ বা সম্পর্ক থাকার অভিযোগ সামনে আসার পরই তদন্ত শুরু হয়। সেই তদন্তের ভিত্তিতেই এক্স অ্যাকাউন্ট ব্লক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও নথি বা প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

সরকারি সূত্রের এই দাবি নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কারণ, যদি জাতীয় নিরাপত্তা বা বিদেশি যোগসূত্রের মতো গুরুতর অভিযোগই ভিত্তি হয়ে থাকে, তাহলে সেই অভিযোগের প্রকৃতি সম্পর্কে অন্তত মৌলিক তথ্য প্রকাশ করা উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমালোচকদের বক্তব্য, শুধু “নিরাপত্তা” শব্দ ব্যবহার করলেই প্রশাসন সব ধরনের জবাবদিহি এড়িয়ে যেতে পারে না।

আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের নির্দিষ্ট ধারার অধীনে সরকার কোনও অনলাইন সামগ্রী বা অ্যাকাউন্ট ব্লক করতে পারে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিজের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া এবং সিদ্ধান্তের কারণ জানানো ন্যায়সঙ্গত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যদিও কিছু ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে তথ্য গোপন রাখার বিধানও রয়েছে।

সিজেপির পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তারা আইনি লড়াইয়ের পথেও হাঁটতে পারে। দীপকে জানিয়েছেন, সরকার যদি অভিযোগের ভিত্তি এবং ব্লকিং অর্ডার প্রকাশ না করে, তাহলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন সামাজিক মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল সেন্সরশিপ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে দেশজুড়ে তর্ক-বিতর্ক তুঙ্গে। সিজেপির অ্যাকাউন্ট ব্লকের প্রকৃত কারণ কী, সরকারের কাছে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, এবং সেই তথ্য আদালত বা জনসমক্ষে আদৌ প্রকাশ করা হবে কি না— এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles