হাইলাইটস:
- বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়তে নতুন পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের।
- লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব।
- সংস্থাগুলির মূলধন সংগ্রহ ও সম্প্রসারণে সুবিধা হবে।
- স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কর্পোরেট শাসন আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য।
বাংলাস্ফিয়ার: রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ আরও শক্তিশালী করতে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে আর্থিকভাবে সক্ষম করে তুলতে নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে সরকার। বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যে সব রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (পিএসইউ) ধারাবাহিকভাবে লাভ করছে, সেগুলিকে পর্যায়ক্রমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
সরকারের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি বাজার থেকে সরাসরি মূলধন সংগ্রহ করতে পারবে। নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগ, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সহজ হবে। একই সঙ্গে সরকারের ওপর আর্থিক চাপও কিছুটা কমবে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলে সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট আর্থিক ও প্রশাসনিক মানদণ্ড মেনে চলতে হবে। নিয়মিত আর্থিক হিসাব প্রকাশ, স্বাধীন নিরীক্ষা এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থরক্ষার মতো বিষয়গুলি বাধ্যতামূলক হবে। এর ফলে সংস্থাগুলির কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাজারভিত্তিক পরিচালনার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ ইতিবাচক ভূমিকা নিতে পারে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক সংস্থা ইতিমধ্যেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে সফলভাবে মূলধন সংগ্রহ করেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েই রাজ্যও একই পথে হাঁটতে চাইছে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, তালিকাভুক্তিকরণের অর্থ বেসরকারিকরণ নয়। সংস্থাগুলির উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত অংশীদারিত্ব বাজারে ছাড়া হতে পারে, কিন্তু মালিকানার মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত খুলতে পারে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি সম্পর্কে ইতিবাচক বার্তা যাবে। বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিল্পোন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্য পূরণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।