Home SportsFIFA 2026 ইয়ামালের জাদুতে সৌদি আরবকে উড়িয়ে দিল স্পেন, জন্মদিনে কোচের জন্য নিখুঁত উপহার

ইয়ামালের জাদুতে সৌদি আরবকে উড়িয়ে দিল স্পেন, জন্মদিনে কোচের জন্য নিখুঁত উপহার

Authored By নির্ণয় চট্টোপাধ্যায়
20 views 3 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • লামিনে ইয়ামাল, মিকেল ওইয়ারসাবাল (২) ও আত্মঘাতী গোলে স্পেনের ৪-০ জয়।
  • কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে গোলশূন্য ড্রয়ের পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন স্পেনের।
  • ম্যাচের ২৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ এগিয়ে যায় ইউরোপীয় শক্তিধররা।
  • চোট কাটিয়ে ফিরে প্রথম একাদশে নেমেই গোল করেন ১৮ বছরের ইয়ামাল।
  • বল দখলে ৬৯ শতাংশ আধিপত্য, সৌদির গোলে মাত্র একটি শট অন টার্গেট।

কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে হতাশাজনক গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। কিন্তু বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তারা যেন নতুন রূপে ফিরে এল। আটলান্টার স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এবং শেষ পর্যন্ত ৪-০ ব্যবধানে জিতে নিজেদের শক্তির পরিচয় দিল।কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের ৬৫তম জন্মদিনে এর চেয়ে ভালো উপহার আর হতে পারত না। ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন প্রতিপক্ষকে চাপে রাখে। মাত্র ১০ মিনিটেই আসে প্রথম গোল। ডান দিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের নিখুঁত ক্রসে দূর পোস্টে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল জালে পাঠান লামিনে ইয়ামাল। গোলের পর হাঁটু গেড়ে মাঠে প্রার্থনার ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেন তরুণ তারকা। বিশ্বকাপে এত কম বয়সে উদ্বোধনী গোল করা ফুটবলারদের তালিকায় এখন তাঁর আগে রয়েছেন শুধু কিংবদন্তি পেলে।

ইয়ামালের উপস্থিতিই যেন স্পেনের আক্রমণে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছিল। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং সৃজনশীলতা সৌদি রক্ষণকে বারবার বিভ্রান্ত করেছে। চোটের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম একাদশে ফিরে মাত্র ৪৫ মিনিট খেলেই ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নির্ধারণ করে দেন তিনি।প্রথম গোলের পর স্পেন থামেনি। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে আয়মেরিক লাপোর্তে বল নামিয়ে দিলে ওইয়ারসাবাল কাছ থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান। দুই মিনিট পরই আবার গোল। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে মার্ক কুকুরেয়া বল ফেরত দেন, দানি ওলমোর হেডার থেকে সুযোগ পেয়ে ওইয়ারসাবাল দ্বিতীয় গোলটি করেন। ২৩ মিনিটেই স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-০।

কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে যেখানে পুরো ম্যাচে গোলের দেখা পায়নি স্পেন, সেখানে প্রথম ‘কুলিং ব্রেক’-এর আগেই তিনবার জাল খুঁজে পাওয়া তাদের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। ওইয়ারসাবাল হ্যাটট্রিকের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর দুর্দান্ত শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে|মাঝমাঠে রদ্রি ছিলেন স্বমহিমায়। তিনি ১১৩টি সফল পাস সম্পন্ন করেন এবং পুরো ম্যাচে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন। তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি ৯৯টির মধ্যে ৯৮টি পাস সফল করেন। পেদ্রি ও ওলমোও মাঝমাঠে সৌদিদের দিশেহারা করে রাখেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে চতুর্থ গোল। আরেকটি কর্নার ঠিকমতো সামলাতে ব্যর্থ হয় সৌদি আরব। কুকুরেয়ার ভলিতে বল হাসান তামবাক্তির গায়ে লেগে জালে ঢুকে যায়। কার্যত সেখানেই ম্যাচের পরিণতি নিশ্চিত হয়ে যায়।এরপর দে লা ফুয়েন্তে ধীরে ধীরে মূল খেলোয়াড়দের তুলে নেন। ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে বিশ্রাম দিয়ে মাঠে নামানো হয় নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল মেরিনোকে। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে ফেরার পথে থাকা এই দুই ফুটবলারের জন্যও মূল্যবান কিছু মিনিট নিশ্চিত করেন স্পেন কোচ।

ম্যাচের শেষদিকে নিকো উইলিয়ামসের অসাধারণ পাস থেকে ইয়েরেমি পিনো গোলের সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ফেরান তোরেস একটি গোল করলেও ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে সেটি বাতিল হয়।পরিসংখ্যানও স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্যের সাক্ষী। বল দখলে ছিল ৬৯ শতাংশ সময়। গোলের উদ্দেশে ২৩টি শট নেয় তারা, যার মধ্যে ৮টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে সৌদি আরব পুরো ম্যাচে মাত্র একটি শট অন টার্গেট রাখতে সক্ষম হয়। কর্নারেও স্পেন এগিয়ে ছিল ৬-১ ব্যবধানে।কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিত হোঁচটের পর সমালোচকদের জবাব দেওয়ার এর চেয়ে ভালো উপায় আর হতে পারত না। স্পেন যেন এই ম্যাচে ঘোষণা করে দিল—তারা এখনও বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। আর সেই বার্তার কেন্দ্রে ছিলেন লামিনে ইয়ামাল, যার প্রতিটি স্পর্শে ফুটে উঠছিল এক ভবিষ্যৎ মহাতারকার প্রতিশ্রুতি।

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles