হাইলাইটস

  • তেজস্বী প্রকাশকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে দুই পরিবারের সম্মতি নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করলেন করণ কুন্দ্রা।
  • সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন অভিনেতা।
  • করণের মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে পরিবারের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া স্বাভাবিক এবং সম্মানের বিষয়।
  • দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে পরিণতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পারিবারিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য তাঁর।

টেলিভিশনের জনপ্রিয় জুটি করণ কুন্দ্রা ও তেজস্বী প্রকাশের সম্পর্ক নিয়ে অনুরাগীদের আগ্রহের শেষ নেই। ‘বিগ বস ১৫’-এর ঘরে শুরু হওয়া প্রেমের সম্পর্ক এখন বিয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছেছে বলে জল্পনা। সম্প্রতি করণ কুন্দ্রা জানিয়েছেন, তেজস্বীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে তিনি দুই পরিবারের সম্মতি ও আশীর্বাদ নিতে চান। এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ মনে করেন, প্রেমের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের অনুমতির প্রয়োজন নেই। সেই সমালোচনারই জবাব দিলেন অভিনেতা।

করণের বক্তব্য, তিনি এমন একটি পরিবারে বড় হয়েছেন যেখানে বয়োজ্যেষ্ঠদের মতামতকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাঁর মতে, বিয়ে শুধুমাত্র দু’জন মানুষের সম্পর্ক নয়, বরং দুটি পরিবারের বন্ধন। তাই জীবনের এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করা এবং তাঁদের আশীর্বাদ নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়।

অভিনেতা বলেন, “আমি বুঝতে পারি না কেন বিষয়টি নিয়ে এত বিতর্ক হচ্ছে। আমি যদি আমার বাবা-মায়ের মতামতকে গুরুত্ব দিই, তাহলে তাতে ভুল কোথায়? আমি তাঁদের সম্মান করি। তেজস্বীর পরিবারকেও একইভাবে সম্মান করি।”

করণের এই মন্তব্য অনেক অনুরাগীর কাছেই ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ধরা পড়েছে। তাঁদের মতে, আধুনিক সম্পর্কের মধ্যেও পারিবারিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। বরং পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়ার মাধ্যমে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশের দাবি, প্রাপ্তবয়স্ক দুই মানুষের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে পরিবারের ভূমিকা সীমিত হওয়া উচিত। তবে করণ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কারও অনুমতি চাইছেন না, বরং পরিবারের আশীর্বাদ ও সমর্থনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, এই দুইয়ের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

তেজস্বী প্রকাশ ও করণ কুন্দ্রা দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা জুটি। বিভিন্ন রিয়্যালিটি শো, প্রকাশ্য অনুষ্ঠান এবং সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে তাঁদের সম্পর্কের নানা মুহূর্ত অনুরাগীদের নজর কেড়েছে। ফলে তাঁদের বিয়ে নিয়ে জল্পনাও দীর্ঘদিনের।

করণের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, তিনি সম্পর্ককে পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে সেই পথে তিনি পরিবারের উপস্থিতি ও আশীর্বাদকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। আধুনিকতার সঙ্গে পারিবারিক মূল্যবোধের সমন্বয় ঘটিয়েই তিনি নিজের সিদ্ধান্তকে ব্যাখ্যা করেছেন।

ফলে বিতর্ক থাকলেও করণের বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—তাঁর কাছে বিয়ে শুধু প্রেমের পরিণতি নয়, দুই পরিবারের মিলনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাই তেজস্বীকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি করার আগে তিনি পরিবারের সম্মতি ও শুভেচ্ছাকে প্রাধান্য দিতেই স্বচ্ছন্দ।