বিজেপি বিধায়কদের রাঁচির হোটেলে সরাল, কংগ্রেসের দাবি—যোগাযোগে রয়েছেন কয়েকজন
হাইলাইটস
- ঝাড়খণ্ডের দুই রাজ্যসভা আসনে ভোট ১৮ জুন।
- বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ নিজেদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- কংগ্রেসের দাবি, এনডিএ শিবিরের কয়েকজন বিধায়ক এখনও বিরোধী জোটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
- ক্রস-ভোটিং ও ‘হর্স-ট্রেডিং’-এর আশঙ্কাতেই দুই শিবিরের তৎপরতা বেড়েছে।
- সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে থাকলেও কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না শাসক INDIA জোট।
ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভার দুইটি শূন্য আসনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ভোটের ঠিক আগে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ তাদের বিধায়কদের রাঁচির একটি হোটেলে স্থানান্তর করেছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, সংখ্যার ঘাটতি থাকায় বিজেপি ক্রস-ভোটিংয়ের আশায় রয়েছে এবং সেই কারণেই বিধায়কদের একজোট করে রাখা হচ্ছে।
এনডিএ শিবির অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা Babulal Marandi বলেছেন, ভোটের আগে কৌশল নির্ধারণ এবং দলীয় ঐক্য বজায় রাখতেই বিধায়কদের একত্রে রাখা হয়েছে। বিজেপি বিধায়করা দাবি করেছেন, কাউকে জোর করে হোটেলে রাখা হচ্ছে না; সবাই স্বেচ্ছায় সেখানে গিয়েছেন এবং ভোটের দিন পর্যন্ত একসঙ্গে থাকবেন।
অন্যদিকে, শাসক INDIA জোটও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী Hemant Soren-এর বাসভবনে জোটের বৈঠক হয়েছে। জেএমএম, কংগ্রেস, আরজেডি এবং সিপিআই(এমএল)-এর নেতারা ভোটের আগে নিজেদের বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা দাবি করেছেন, বিজেপি যাদের হোটেলে নিয়ে গেছে, তাঁদের মধ্যেই কয়েকজন বিধায়ক এখনও INDIA জোটের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও ওই দাবির পক্ষে প্রকাশ্যে কোনও প্রমাণ সামনে আনা হয়নি। তবু এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, ভোটের আগে উভয় পক্ষই সম্ভাব্য ক্রস-ভোটিং নিয়ে উদ্বিগ্ন।
সংখ্যার অঙ্কও এই উদ্বেগের কারণ। ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় INDIA জোটের মোট সদস্যসংখ্যা ৫৬। এর মধ্যে জেএমএমের ৩৪, কংগ্রেসের ১৬, আরজেডির ৪ এবং সিপিআই(এমএল)-এর ২ জন বিধায়ক রয়েছেন। অন্যদিকে এনডিএর শক্তি মাত্র ২৪—বিজেপির ২১, আজসু, জেডিইউ এবং এলজেপির একজন করে বিধায়ক। একটি রাজ্যসভা আসন জিততে প্রয়োজন ২৮টি প্রথম পছন্দের ভোট। ফলে এনডিএ প্রার্থীকে জেতাতে গেলে অতিরিক্ত ভোটের প্রয়োজন পড়বে।
এই কারণেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, বিজেপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী Parimal Nathwani-র জয় অনেকটাই নির্ভর করছে বিরোধী শিবিরে ভাঙন বা ক্রস-ভোটিংয়ের উপর। নাথওয়ানির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর থেকেই কংগ্রেস আপত্তি জানিয়ে আসছে এবং নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলেছে।
ভারতের রাজনীতিতে ভোটের আগে বিধায়কদের হোটেল বা রিসর্টে রাখার ঘটনা নতুন নয়। মহারাষ্ট্র, কর্নাটক, রাজস্থান কিংবা মধ্যপ্রদেশে অতীতে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। ঝাড়খণ্ডেও এবার সেই পুরনো কৌশলই ফিরে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি শুধু বিধায়কদের সুরক্ষিত রাখা নয়, বরং দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখারও একটি উপায়।
১৮ জুনের ভোটে শেষ পর্যন্ত কোনও চমক দেখা যায় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। সংখ্যার হিসাবে INDIA জোট এগিয়ে থাকলেও বিজেপি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর সেই কারণেই ঝাড়খণ্ডের রাজনীতি এখন কার্যত হোটেল-কেন্দ্রিক ‘রিসর্ট পলিটিক্স’-এর নতুন অধ্যায়ের সাক্ষী।