Table of Contents
হাইলাইটস
- বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ ভিটামিন ডি ঘাটতিতে ভুগছেন।
- শুধু সাপ্লিমেন্ট খেলেই হবে না, শরীরে তার সঠিক শোষণও জরুরি।
- খাবারের ধরন, ডোজ নেওয়ার পদ্ধতি এবং কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যা ভিটামিন ডি শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
- হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দিমিত্রি ইয়ারানোভ তিনটি সাধারণ ভুলের কথা তুলে ধরেছেন।
- দীর্ঘদিন সাপ্লিমেন্ট খেয়েও রক্তে ভিটামিন ডি না বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ভিটামিন ডি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য রক্ষা থেকে শুরু করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশির কার্যকারিতা এবং হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, বিশ্বের বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও ভিটামিন ডি-র ঘাটতিতে ভুগছেন। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শে বা নিজের উদ্যোগে নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, কিন্তু মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর পরেও রক্তে ভিটামিন ডি-র মাত্রা আশানুরূপ বাড়ে না।
মার্কিন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও হার্ট-ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ ড. দিমিত্রি ইয়ারানোভ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ব্যাখ্যা করেছেন, কেন অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট প্রত্যাশিত ফল দেয় না। তাঁর মতে, সমস্যার মূল কারণ অনেক সময় সাপ্লিমেন্ট নয়, বরং সেটি গ্রহণের পদ্ধতি এবং শরীরে শোষণের প্রক্রিয়া।
১. খালি পেটে ভিটামিন ডি খাওয়া
ড. ইয়ারানোভের মতে, সবচেয়ে সাধারণ ভুলগুলির একটি হল খালি পেটে ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা। ভিটামিন ডি একটি ‘ফ্যাট-সলিউবল’ বা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। অর্থাৎ, এটি শরীরে ভালোভাবে শোষিত হতে হলে খাবারের সঙ্গে কিছু পরিমাণ স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকা দরকার।
যদি কেউ সকালে খালি পেটে বা শুধুমাত্র চা-বিস্কুটের সঙ্গে ভিটামিন ডি খান, তাহলে শরীর সেটির বড় অংশই সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছ, ডিম, দুধজাত খাদ্য, বাদাম, অ্যাভোকাডো বা অলিভ অয়েলযুক্ত খাবারের সঙ্গে ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শোষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
২. অনিয়মিত বা ভুল ডোজ গ্রহণ
অনেকেই মনে করেন, কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ভিটামিন ডি খেয়ে বন্ধ করে দিলেই ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। আবার কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত ডোজ গ্রহণ করেন। দু’টিই সমস্যার কারণ হতে পারে।
ড. ইয়ারানোভ বলেন, ভিটামিন ডি-র ঘাটতির মাত্রা, বয়স, ওজন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত অবস্থার উপর নির্ভর করে ডোজ নির্ধারণ করা উচিত। কারও ক্ষেত্রে দৈনিক ডোজ কার্যকর, আবার কারও জন্য সাপ্তাহিক বা মাসিক উচ্চমাত্রার ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। তাই রক্তপরীক্ষার ফল দেখে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
৩. শোষণে বাধা সৃষ্টি করে এমন রোগকে উপেক্ষা করা
ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট কাজ না করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অন্ত্রের কিছু রোগ, যেমন সিলিয়াক ডিজিজ, ক্রোনস ডিজিজ বা অন্যান্য শোষণজনিত সমস্যা থাকলে শরীর পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করতে পারে না।
এছাড়া স্থূলতা, লিভারের অসুখ বা কিডনির কিছু জটিলতাও ভিটামিন ডি-র কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। এই ধরনের অবস্থায় শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্ট বাড়িয়ে দিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। মূল রোগের চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে পরিকল্পিত চিকিৎসা প্রয়োজন।
কেন ভিটামিন ডি এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভিটামিন ডি ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে, ফলে হাড় শক্ত থাকে এবং অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমে। পাশাপাশি এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখে এবং কিছু গবেষণায় হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও এর সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
সূর্যালোক ভিটামিন ডি-র প্রধান উৎস হলেও আধুনিক জীবনযাত্রা, দীর্ঘ সময় ঘরের মধ্যে থাকা, দূষণ, সানস্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের শরীরে এর ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দীর্ঘদিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের পরেও যদি রক্তে ভিটামিন ডি-র মাত্রা না বাড়ে, তাহলে নিজের মতো করে ডোজ বাড়ানোর পরিবর্তে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। সঠিক সময়ে, সঠিক খাবারের সঙ্গে এবং উপযুক্ত মাত্রায় সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
অর্থাৎ, ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট ব্যর্থ হচ্ছে না; অনেক সময় আমরা সেটি এমনভাবে গ্রহণ করি, যাতে শরীর তার পূর্ণ উপকার পায় না। তাই ফল পেতে হলে শুধু সাপ্লিমেন্ট নয়, তার সঠিক ব্যবহারের দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।