হাইলাইটস
- ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ।
- ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, নিখোঁজদের খুঁজতে জোরদার অনুসন্ধান অভিযান চলছে।
- ওমান, আঞ্চলিক নৌবাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে ভারত।
- সাম্প্রতিক সময়ে আরব সাগর ও হরমুজ প্রণালী ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
- নিখোঁজদের পরিবারগুলির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে সরকার।
বাংলাস্ফিয়ার: ওমান উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় কয়েকজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নিখোঁজ নাবিকদের খুঁজে বের করতে বহুমুখী অনুসন্ধান অভিযান শুরু হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটার পর থেকেই ভারত সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ওমানের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট জাহাজ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধারকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। নিখোঁজ ভারতীয়দের দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি ওমান উপকূল সংলগ্ন আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে যাত্রা করছিল। সেই সময় সেটি হামলার মুখে পড়ে। হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন অঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক ও আধাসামরিক কার্যকলাপের জেরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ক্রমশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পরপরই জাহাজের কিছু নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে বিদেশ মন্ত্রক। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অনুসন্ধান অভিযান আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে।
ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ নাবিক সরবরাহকারী দেশ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে লক্ষাধিক ভারতীয় কর্মরত। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্রপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে ভারতীয় নাবিকদের উপর। গত কয়েক বছরে লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালী এলাকায় একাধিক হামলা, ড্রোন আক্রমণ এবং জাহাজ আটকানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পর থেকেই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক।
বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ভারতীয় দূতাবাসগুলিকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবারগুলিকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হচ্ছে যাতে তারা নির্ভরযোগ্য তথ্য পান এবং গুজবের শিকার না হন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে পশ্চিম এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ এখন বিশ্বের সবচেয়ে স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলির একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহণের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। ফলে সেখানে যে কোনও সংঘর্ষ বা হামলার ফলে আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক মহলেও ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা নিরাপদ নৌপরিবহণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠছে।
নিখোঁজ ভারতীয় নাবিকদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না তাঁদের পরিবারের। ভারত সরকারও জানিয়েছে, অনুসন্ধান অভিযান যতদিন প্রয়োজন চলবে এবং প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবরকম কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এখন সকলের নজর উদ্ধার অভিযানের দিকে। সমুদ্রের বুকে হারিয়ে যাওয়া ভারতীয় নাবিকদের দ্রুত সন্ধান মিলবে—এই আশাতেই দিন গুনছেন তাঁদের পরিবার, সহকর্মী এবং গোটা দেশ।