হাইলাইটস
- ২০২৬ বিশ্বকাপে এই প্রথমবারের মতো খেলছে জর্ডন।
- এর আগে নয়বার চেষ্টা করেও বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছতে পারেনি দেশটি।
- মরক্কোর কোচ জামাল সেল্লামির অধীনে এশিয়ার বাছাইপর্বে দুর্দান্ত সাফল্য।
- গ্রুপ জে-তে জর্ডনের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া।
- দলের সবচেয়ে বড় ভরসা রেনের তারকা উইঙ্গার মুসা আল-তামারি।
- চোটের কারণে বিশ্বকাপ মিস করছেন গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার ইয়াজান আল-নাইমাত।
জর্ডনের ফুটবল ইতিহাসে ২০২৬ সাল এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ব্যর্থতা এবং হতাশার পর অবশেষে বিশ্বকাপের মূলপর্বে পৌঁছেছে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ। এর আগে নয়বার বিশ্বকাপে ওঠার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি জর্ডন। সবচেয়ে কাছাকাছি তারা পৌঁছেছিল ২০১৪ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে, যখন আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফে উঠে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে শক্তিশালী উরুগুয়ের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়।
এবারের গল্প অবশ্য সম্পূর্ণ আলাদা।
এশিয়ান বাছাইপর্বের দ্বিতীয় রাউন্ডে জর্ডন নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে শেষ করে। ছয় ম্যাচে চারটি জয়, একটি ড্র এবং একটি পরাজয় নিয়ে তারা সংগ্রহ করে ১৩ পয়েন্ট। এরপর তৃতীয় রাউন্ডে আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয় দলটি। দক্ষিণ কোরিয়ার পিছনে গ্রুপ বি-তে দ্বিতীয় স্থান দখল করে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলে।
বিশেষ করে ওমানের বিরুদ্ধে ৩-০ গোলের জয় তাদের যোগ্যতা অর্জনের পথকে মসৃণ করে দেয়। বাছাইপর্বে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ফরোয়ার্ড আলি অলওয়ান, যিনি একাই করেন নয়টি গোল।
দলের প্রধান কোচ মরক্কোর জামাল সেল্লামি। তিনি সাধারণত ৩-৪-৩ ছকে দল সাজান। গোলবারের নিচে আস্থা জোগান ইয়াজিদ আবুলাইলা। রক্ষণভাগের নেতা এফসি সিউলের ডিফেন্ডার ইয়াজান আল-আরব। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন আবদাল্লাহ নাসিব এবং মোহাম্মদ আবুয়ালনাদি।
মাঝমাঠে নিযার আল-রাশদান ও নূর আল-রাওয়াবদেহ দলের ভারসাম্য রক্ষা করেন। দুই প্রান্তে উইং-ব্যাক হিসেবে খেলেন ইসাম আল-সামিরি এবং মোহান্নাদ আবু তাহা। দ্রুতগতির আক্রমণ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে জর্ডনের আসল অস্ত্র নিঃসন্দেহে মুসা আল-তামারি। ফরাসি ক্লাব Stade Rennais FC-এর হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো এই উইঙ্গার বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় ফুটবল তারকা। তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং কাউন্টার-অ্যাটাকে প্রতিপক্ষকে ভেঙে ফেলার ক্ষমতার উপরই অনেকটা নির্ভর করছে জর্ডনের সাফল্য।
আল-তামারির পাশে আক্রমণে থাকবেন আলি অলওয়ান এবং অভিজ্ঞ মাহমুদ আল-মারদি।
তবে বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কাও খেয়েছে দলটি। তারকা স্ট্রাইকার ইয়াজান আল-নাইমাত গত ডিসেম্বরে হাঁটুর এসিএল চোটে আক্রান্ত হন। ফলে তিনি পুরো বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গিয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে জর্ডনের আক্রমণভাগকে দুর্বল করেছে।
তবুও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না জর্ডনের ফুটবলাররা। মুসা আল-তামারি বলেছেন, “জর্ডনের ফুটবলাররা তাদের দৃঢ়তা এবং লড়াইয়ের মানসিকতার জন্য পরিচিত। আমরা কাউকে আমাদের ছাপিয়ে যেতে দিই না।”
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে জর্ডনের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন পরীক্ষা। গ্রুপ জে-তে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন Argentina national football team, শক্তিশালী Austria national football team এবং অভিজ্ঞ Algeria national football team।
বিশেষ আকর্ষণ অবশ্য আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ম্যাচ। কারণ সেই ম্যাচে জর্ডনের খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হতে হবে কিংবদন্তি Lionel Messi-র।
কোচ জামাল সেল্লামি বলেছেন, “মেসির বিরুদ্ধে খেলা এক অনন্য অভিজ্ঞতা। আমাদের ফুটবলারদের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তার আগে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। মেসির বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।”
বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়ায় চাপ থাকবেই। কিন্তু জর্ডনের কাছে এই টুর্নামেন্ট শুধুমাত্র কয়েকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ নয়। এটি একটি দেশের ফুটবল স্বপ্নপূরণের গল্প। আর যদি আল-তামারি ও তাঁর সতীর্থরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারেন, তাহলে ২০২৬ বিশ্বকাপে জর্ডন হয়তো শুধু অংশগ্রহণকারী হিসেবেই নয়, চমকপ্রদ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে পারে।