Home খবর এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের সতর্কবার্তা, আগামী এক বছরে বাড়তে পারে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি

এল নিনোর প্রত্যাবর্তনের সতর্কবার্তা, আগামী এক বছরে বাড়তে পারে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি

by বাংলাস্ফিয়ার
0 comments 5 views 2 minutes read
A+A-
Reset

হাইলাইটস

  • খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে এল নিনো, জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।
  • কয়েকটি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে।
  • খরা, তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
  • আগামী ৯ থেকে ১২ মাস বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চরম অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
  • কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির উপরও পড়তে পারে বড় প্রভাব।

বিশ্ব আবারও একটি শক্তিশালী এল নিনোর মুখোমুখি হতে চলেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গড়ে ওঠা এই প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনাটি খুব শীঘ্রই শুরু হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের একাংশের মতে, এটি যদি প্রত্যাশিত শক্তি অর্জন করে, তাহলে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

এল নিনো হল এমন একটি আবহাওয়াগত প্রক্রিয়া, যা পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে এবং বিশ্বজুড়ে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। এর ফলে কোথাও ভয়াবহ খরা, কোথাও আবার অস্বাভাবিক বন্যা ও অতিবৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী ৯ থেকে ১২ মাসে পৃথিবীর বহু অঞ্চলেই চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাবে। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সরাসরি এর প্রভাব অনুভব করতে পারে। কিছু এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী খরা কৃষি উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, অন্যদিকে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করতে পারে।

ভারতের ক্ষেত্রেও এল নিনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে দেখা গিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনো প্রায়শই বর্ষার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্ষার বৃষ্টিপাত কমে গেলে কৃষি উৎপাদন, জলাধারের জলস্তর এবং খাদ্যশস্যের সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও প্রতিটি এল নিনোর প্রভাব একরকম হয় না, তবু আবহাওয়াবিদরা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছেন।

এল নিনোর আরেকটি বড় প্রভাব হল বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি। এমনিতেই মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তার উপর এল নিনো অতিরিক্ত উষ্ণতা যোগ করলে নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এর ফলে তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা দুটোই বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সতর্কবার্তা স্পষ্ট—এল নিনোকে শুধুমাত্র একটি আবহাওয়াগত ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর প্রভাব খাদ্য উৎপাদন, জ্বালানি চাহিদা, জনস্বাস্থ্য, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

তাই আগামী কয়েক মাস বিশ্বজুড়ে সরকার, কৃষি বিশেষজ্ঞ এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থাগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এল নিনো কতটা শক্তিশালী হবে, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট—চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে এবং তার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সময় এখনই।

Author

You may also like

Leave a Comment

Description. online stores, news, magazine or review sites.

Edtior's Picks

Latest Articles