International

ভোটের আগে যুদ্ধবিরতি?

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালানো হবে না, ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
  • প্রায় আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে যখন ওয়াশিংটনকে একাধিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তখনই সামরিক পদক্ষেপে আপাতত বিরতির ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
  • তবে যুদ্ধ থামানোর এই ঘোষণা কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আর হামলা চালানো হবে না, ঘোষণা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। প্রায় আট মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে যখন ওয়াশিংটনকে একাধিক বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে, তখনই সামরিক পদক্ষেপে আপাতত বিরতির ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে যুদ্ধ থামানোর এই ঘোষণা কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার নিজের সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ওয়াশিংটন “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা চালাচ্ছে”। তাঁর বক্তব্য, ইরান “অর্থনৈতিক ও সামরিক—দুই দিক থেকেই অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে”। যদিও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের উদ্বেগও। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে হামলার পর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহণ করা হত। ফলে সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববাজারেও।

বৃহস্পতিবার অবশ্য ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ তেল পরিবহণ হচ্ছে। তাঁর কথায়, “শুধু গত রাতেই ২ কোটি ২০ লক্ষ ব্যারেল” তেল ওই জলপথ দিয়ে গিয়েছে। তাঁর আরও দাবি, “এর এক ব্যারেলও ইরান থেকে আসেনি কিংবা ইরানে যায়নি।” তবে এই পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই মেলেনি।

মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ট্রাম্পের ঘোষণা আরও স্পষ্ট। তিনি লিখেছেন, “আমেরিকায় ৩ নভেম্বর যে মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে চলেছে, তার আগে কোনও সময়েই আমরা ইরানে হামলা চালাব না।” একই পোস্টে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকতে দেওয়া হবে না!”

যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত, নাকি সাময়িক বিরতি?

সংঘাতের গতিপথ অবশ্য বারবার বদলেছে। ইসলামাবাদে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর এপ্রিলে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ জারি করে আমেরিকা। জুনে যুদ্ধ বন্ধের একটি চুক্তি হলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। জুলাইয়ে ফের অবরোধ কার্যকর করে ওয়াশিংটন। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় নতুন করে তীব্র হয় লড়াই। মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে রকেট উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাগুলিতে হামলা চালায়। জবাবে জর্ডন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে তেহরান।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের আগে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্পের ঘোষণা সামরিক উত্তেজনা কমানোর ইঙ্গিত দিলেও, তা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির ঘোষণা নয়। ইরানের সঙ্গে আলোচনার ফল কী দাঁড়ায়, তার উপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

বদলাচ্ছে ট্রাম্পের সুর

নির্বাচন যুদ্ধের গতিপথকে প্রভাবিত করছে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যেও বদল দেখা গিয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর, কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর আমেরিকা ও ইরান যখন ফের পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছিল, তখন সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, “নির্বাচন আমাকে প্রভাবিত করছে না।” তাঁর যুক্তি ছিল, তিনি নিজে এই নির্বাচনে প্রার্থী নন, যদিও নিজের দলকে জেতাতে সাহায্য করতে চান।

কিন্তু তার এক সপ্তাহ পর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনী সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ভোট শেষ হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধ শেষ হবে বলে আশা করছেন। তাঁর অভিযোগ, তেহরান অপেক্ষা করছে এই আশায় যে, কংগ্রেসে ক্ষমতার পালাবদল হলে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোনো সহজ হবে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, নির্বাচনের আগে আমেরিকায় তেলের দাম কমার সম্ভাবনা কম।

ভোটের অঙ্কে যুদ্ধের প্রভাব?

যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন জনমতের ছবিও ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রয়টার্স ও ইপসসের একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে হামলাকে সমর্থন করছেন। অন্য দিকে, প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে চার জনেরও বেশি মনে করছেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হবে।

ওই সমীক্ষায় রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হারেও পতনের ইঙ্গিত মিলেছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে তাঁর প্রতি সমর্থন ৮২ শতাংশ থেকে কমে ৭৩ শতাংশ হয়েছে বলে জানানো হয়। এই পরিসংখ্যান অবশ্য নির্দিষ্ট সময়ের সমীক্ষার ফল; তা দিয়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা যায় না।

নির্বাচনী পূর্বাভাস বিশ্লেষক নেট সিলভারের হিসাব অনুযায়ী, কংগ্রেসের নির্বাচনে কোন দলকে ভোট দেবেন, সেই প্রশ্নে বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার গড়ে রিপাবলিকানদের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। চলতি নির্বাচনী পর্বে দুই দলের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ব্যবধান বলে ওই হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যুদ্ধ, তেলের দাম এবং জনসমর্থন—তিনটি বিষয়ই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা না চালানোর ঘোষণা উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এই বিরতি কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুলবে, নাকি ভোটের পর ফের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হবে, তার উত্তর এখনও অজানা।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles