কমিশন নিয়ে উদ্বেগ: প্রতিনিধি কমিয়েও রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের অপেক্ষায় ‘ইন্ডিয়া’

যা জানা জরুরি
- নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ জানাতে চাইলেও এখনও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পায়নি বিরোধী…
- বিরোধীদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ করতেও তারা রাজি হয়েছে।
- কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী দলগুলি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে উদ্বেগ জানাতে চাইলেও এখনও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পায়নি বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। বিরোধীদের বক্তব্য, প্রস্তাবিত প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ১৫ থেকে কমিয়ে ১০ করতেও তারা রাজি হয়েছে। তা সত্ত্বেও সাক্ষাতের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির কাছে নিজেদের অভিযোগ সরাসরি তুলে ধরতে চাইছে বিরোধী দলগুলি।
প্রতিনিধিদলের আকার ছোট করার সম্মতি দেওয়ার পরেও অপেক্ষা চলায় সাক্ষাতের বিষয়টি রাজনৈতিক আলোচনায় এসেছে। তবে সময় এখনও না মেলার অর্থ আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর তথ্য নেই। বিরোধীদের দাবি এবং রাষ্ট্রপতি ভবনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে তাই আলাদা করেই দেখতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস জানিয়েছেন, এসআইআর বিতর্ক নিয়ে রাষ্ট্রপতিকে পাঠানো তাঁর আগের আবেদনের উত্তর এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি ভবন জানিয়েছে, বিষয়টি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য কেন্দ্রের আইন প্রণয়ন বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গত মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন তিনি।
ব্রিট্টাসের মতে, উপযুক্ত পদক্ষেপ হবে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করা। তবে জোট যখন সাক্ষাতের সময়ই পায়নি, তখন নিজের চিঠির উত্তর পাওয়াকেও উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করছেন তিনি। এখানে অবশ্য পার্থক্য রয়েছে: আবেদন সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া কিংবা কোনও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। ব্রিট্টাস জানিয়েছেন, বিরোধীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং আগামী দিনে প্রতিবাদের তীব্রতা আরও বাড়াবেন।
ব্রিট্টাসের চিঠিতে কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তি সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানের উল্লেখ ছিল। ফর্ম ৬ পরিবর্তন, ভোটার তালিকার তথ্যভান্ডারের নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা চেয়েছিলেন তিনি। যোগ্য ভোটারদের বাদ পড়া ঠেকানো এবং ভবিষ্যৎ বিচারবিভাগীয় ও সংসদীয় পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল ও প্রশাসনিক নথি সংরক্ষণের দাবিও তুলেছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার এই উদ্যোগের পটভূমিতে রয়েছে দিল্লিতে বিরোধীদের বিক্ষোভ। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, কমিশনের সদর দফতর নির্বাচন সদনের দিকে মিছিল করতে গিয়ে বাধা পান বিরোধী সাংসদেরা। পরে আকাশবাণী ভবন চত্বরে দীর্ঘ অবস্থান চলে। রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা-সহ একাধিক নেতাকে পুলিশ আটক করে। বিরোধীদের বক্তব্য, নির্বাচনী তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে, কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল চারটে পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষাতের সময় চায়নি। পরে দিল্লি পুলিশ প্রায় ২৪০ জন সাংসদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব জানায়। কমিশনের বক্তব্য, প্রস্তাবিত স্থান ও পদ্ধতি প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। স্মারকলিপি গ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মরত আধিকারিককে পাঠানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল, যা বিরোধীরা গ্রহণ করেননি।
এসআইআর ঘিরে বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ, তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। তাঁরা বাদ যাওয়া নাম ফেরানো, সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন। কমিশন অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের প্রক্রিয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ফলে একই ঘটনাকে ঘিরে দু’পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।
এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনসাধারণের আস্থার প্রশ্ন। ভোটার তালিকায় ভুল থাকলে তা সংশোধন জরুরি; আবার সংশোধনের সময়ে যোগ্য নাগরিকের নাম বাদ পড়লে তাঁর অভিযোগ শোনার ব্যবস্থাও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাই নির্দিষ্ট তথ্য, সিদ্ধান্তের নথি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যার গুরুত্ব রয়েছে।
আপাতত দুটি বিষয় পৃথকভাবেই সামনে রয়েছে—বিরোধী জোট রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কবে দেখা করতে পারবে এবং ব্রিট্টাসের আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কী পদক্ষেপ করবে। চিঠির উত্তর মেলায় একটি প্রশাসনিক অগ্রগতির খবর পাওয়া গেলেও, সাক্ষাতের অপেক্ষা এবং কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত, কোনওটিরই এখনও অবসান ঘটেনি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



