দেশ

বিয়ন্ত হত্যা মামলা: রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ড লঘু করার বিরোধিতা কেন্দ্রের, শুনানি ২৮ অক্টোবর

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংহের হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত বলবন্ত সিংহ রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলানোর আবেদনের বিরোধিতা করল কেন্দ্রীয় সরকার।
  • বুধবার, ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের তরফে পাঞ্জাবের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়।
  • তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রাজোয়ানার হয়ে করা প্রাণভিক্ষার আবেদন ২০১২ সাল থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ঝুলে রয়েছে।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংহের হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত বলবন্ত সিংহ রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বদলানোর আবেদনের বিরোধিতা করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার, ৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের তরফে পাঞ্জাবের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বন্দি রাজোয়ানার হয়ে করা প্রাণভিক্ষার আবেদন ২০১২ সাল থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে ঝুলে রয়েছে। সেই দীর্ঘসূত্রতার প্রশ্ন তুলেই সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ২৮ অক্টোবর।

বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি অপরেশকুমার সিংহের বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। কেন্দ্রের পক্ষে হাজির ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজ। সরকারের বক্তব্য, পাঞ্জাবের বর্তমান পরিস্থিতিতে সাজা লঘু করার সিদ্ধান্তের নিরাপত্তাগত প্রভাব রয়েছে। কেন্দ্র আপত্তি জানানোর পরে মামলার মূল যুক্তিগুলি বিচার করার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এদিন মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা বা যাবজ্জীবনে বদলানোর চূড়ান্ত রায় দেয়নি আদালত।

শুনানিতে রাজোয়ানার আইনজীবী বছরের পর বছর মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। আবেদনকারীর বক্তব্য, প্রাণভিক্ষার আর্জি নিয়ে এত দীর্ঘ সময় সিদ্ধান্ত না হওয়াকে উপেক্ষা করা যায় না। এই বিলম্বের কারণেই মৃত্যুদণ্ড কমানোর আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রের আইনজীবী প্রস্তুতির জন্য সময় চান। এরপর বেঞ্চ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে মামলাটি শুনানির তালিকার শীর্ষে রাখার নির্দেশ দেয়। ফলে এবারও সিদ্ধান্তের অপেক্ষা বাড়ল।

মামলার সূত্রপাত ১৯৯৫ সালের ৩১ আগস্ট। চণ্ডীগড়ে পাঞ্জাবের সচিবালয়ের বাইরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংহ এবং আরও ১৬ জন। বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন দিলাওয়ার সিংহ। রাজোয়ানা ছিলেন বিকল্প আত্মঘাতী হামলাকারী হিসেবে প্রস্তুত। পাঞ্জাব পুলিশের প্রাক্তন কনস্টেবল রাজোয়ানাকে ওই বছরের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে তাঁর ভূমিকার জন্য ২০০৭ সালে বিশেষ আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়। ২০১০ সালে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট সেই সাজা বহাল রাখে।

২০১২ সালের ৩১ মার্চ তাঁর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তার আগে শিরোমণি গুরুদ্বার প্রবন্ধক কমিটি বা এসজিপিসি তাঁর হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করে। এরপর ফাঁসি কার্যকর করা স্থগিত হয়। অর্থাৎ, রাজোয়ানার কারাবাসের মেয়াদ এবং মৃত্যুদণ্ডের পরে অপেক্ষার মেয়াদ এক নয়। তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই বন্দি, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হয়েছিল অনেক পরে। প্রাণভিক্ষার আবেদন ঘিরে অনিশ্চয়তা চলেছে একটি পর্যায়ে।

২০১৯ সালে গুরু নানকের ৫৫০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কয়েকজন শিখ বন্দিকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নেয় কেন্দ্র। সেই প্রক্রিয়ায় রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবনে বদলানোর প্রস্তাব বিবেচনার কথাও উঠে আসে। কিন্তু প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়নি। পরবর্তী আইনি লড়াইয়েও জাতীয় নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যুক্তি সামনে এসেছে। ফলে সাজা লঘু করার সম্ভাবনা তৈরি হলেও রাজোয়ানার ক্ষেত্রে তার বাস্তব ফল মেলেনি।

এর আগে ২০২৩ সালের ৩ মে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর মৃত্যুদণ্ড কমানোর আবেদন মঞ্জুর করেনি। তৎকালীন রায়ে আদালত জানায়, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে রাখার বিষয়ে তখন নতুন নির্দেশ দেওয়া সমীচীন নয়। তবে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনমতো প্রাণভিক্ষার আবেদন আবার বিবেচনা করতে পারবে। সেই পুরনো সিদ্ধান্তের পরেও বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি; বর্তমান আবেদন ঘিরে তাই বিলম্বের প্রশ্ন ফের সামনে এসেছে।

এই মামলায় এখন বিবেচ্য বিষয় মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরে প্রাণভিক্ষার আবেদন নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রভাব। একদিকে কেন্দ্র নিরাপত্তার উদ্বেগ তুলছে, অন্যদিকে আবেদনকারী সেই অপেক্ষার ভিত্তিতে দণ্ড পরিবর্তন চাইছেন। মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবনে বদলানো মানেই স্বয়ংক্রিয় মুক্তি নয়; এখানে চাওয়া প্রতিকার হল শাস্তির ধরন বদল। বুধবারের শুনানিতে সেই প্রতিকার মেলেনি। আগামী ২৮ অক্টোবর দুই পক্ষের যুক্তি শোনার পর আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে। আপাতত রাজোয়ানার মৃত্যুদণ্ড এবং তাঁর প্রাণভিক্ষার আবেদন ঘিরে অনিশ্চয়তা, দুটিই বহাল

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

বিষয়:
লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles