১১ দিনে আন্দোলন, মুখ খুললেন হেমন্ত সোরেন: ‘যুবকদের পাশে আছে সরকার’

যা জানা জরুরি
- ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন বুধবার ১১তম দিনে পড়ল।
- রাজধানী রাঁচিতে অবস্থান, বিক্ষোভ এবং অনশন ঘিরে আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হওয়ার পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।
- তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার যুবসমাজের পাশে রয়েছে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে কোনও আপস করা হবে না।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ঝাড়খণ্ডে সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন বুধবার ১১তম দিনে পড়ল। রাজধানী রাঁচিতে অবস্থান, বিক্ষোভ এবং অনশন ঘিরে আন্দোলন ক্রমশ তীব্র হওয়ার পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সরকার যুবসমাজের পাশে রয়েছে এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে কোনও আপস করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার সমানভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, যাঁরা পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছেন, তাঁদের স্বার্থ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আন্দোলনকারীদের প্রধান অভিযোগ, বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে এবং প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের দাবি, পুরো ঘটনার সিবিআই তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে স্বচ্ছভাবে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়া হোক। গত কয়েক দিন ধরে বহু চাকরিপ্রার্থী অনশনেও বসেছেন, ফলে আন্দোলনের চাপ আরও বেড়েছে।
সরকার ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের তদন্তে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দায়িত্ব দিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই এগোবে এবং কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে রেয়াত করা হবে না। তবে আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, সিআইডি নয়, স্বাধীন কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তেই মানুষের আস্থা বেশি থাকবে।
এই আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিজেপি অভিযোগ করেছে, ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই অনিয়ম চলছে এবং সরকারের ব্যর্থতার ফলেই যুবকদের রাস্তায় নামতে হয়েছে। দলটি আগে থেকেই বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বিভিন্ন মহল থেকেও প্রতিক্রিয়া আসছে। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীদের প্রতি ‘নৈতিক সমর্থন’ জানিয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। এর ফলে বিষয়টি শুধু রাজ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এখন নজর সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সন্তুষ্ট হন কি না, নাকি তদন্তের পাশাপাশি তাঁদের দাবিগুলি পূরণের জন্য আরও নির্দিষ্ট ঘোষণা চাইবেন, সেটাই আগামী কয়েক দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আপাতত ১১ দিন পেরিয়েও আন্দোলন থামার কোনও ইঙ্গিত মেলেনি। বরং চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়ে দিয়েছেন, স্বচ্ছ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



