দশ বছরের নেতৃত্বে ইতি, অধিনায়কত্ব ছাড়লেন বিশ্বকাপজয়ী হরমনপ্রীত

যা জানা জরুরি
- ভারতকে প্রথম মহিলা এক দিনের বিশ্বকাপ এনে দেওয়া অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন।
- মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি জানান, ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন।
- এর সঙ্গে শেষ হল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ নেতৃত্বের অধ্যায়।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
ভারতকে প্রথম মহিলা এক দিনের বিশ্বকাপ এনে দেওয়া অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেন। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি জানান, ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়কত্ব ছাড়ছেন। সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। এর সঙ্গে শেষ হল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটে তাঁর দীর্ঘ নেতৃত্বের অধ্যায়। তবে ক্রিকেটার হিসেবে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি।
সাঁইত্রিশ বছরের হরমনপ্রীতের কথায়, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং জীবনের অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের পরে তাঁর মনে হচ্ছে, এবার পরবর্তী অধ্যায়ে যাওয়ার সময় এসেছে। তিনি লিখেছেন, “আমার মনে হয়, আমি নিজের দায়িত্ব পালন করেছি।”
বিদায়ের ঘোষণায় সতীর্থদের প্রতি আস্থার কথাও জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তাঁর বিশ্বাস, ভারতীয় দল এখন ভাল জায়গায় রয়েছে। এই দলে প্রতিভা, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস আছে। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং সেই যাত্রার অংশও থাকতে চান। তাই নেতৃত্ব ছাড়ার আবেগের পাশাপাশি তাঁর মনে শান্তিও রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
হরমনপ্রীতের অধিনায়কত্বের দশ বছরের হিসাব মূলত টি-টোয়েন্টি দলকে ঘিরে। ২০১৬ সালে তিনি এই সংস্করণে নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন। মিতালি রাজের অবসরের পরে ২০২২ সালে এক দিনের দলের অধিনায়ক হন। পরবর্তী সময়ে টেস্টেও নেতৃত্ব দেন। ফলে তিন সংস্করণে একসঙ্গে দশ বছর অধিনায়ক ছিলেন, এমন নয়; বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দায়িত্ব বেড়েছে।
এই ঘোষণার আগে গুয়াহাটিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের একটি পর্যালোচনা বৈঠক হয়েছিল। সাম্প্রতিক কয়েক মাসে মহিলা দলের পারফরম্যান্স ও অগ্রগতি নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়। বোর্ডসচিব দেবজিৎ সইকিয়ার নেতৃত্বে আয়োজিত বৈঠকে হরমনপ্রীতের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সহঅধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা এবং প্রধান কোচ অমল মজুমদার। দলের সাম্প্রতিক পথচলা নিয়ে বোর্ডের আলোচনার পরেই নেতৃত্বে এই পরিবর্তন ঘটল। এখন দলের পরবর্তী পরিকল্পনায় অধিনায়ক নির্বাচন স্বাভাবিকভাবেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
অধিনায়ক হিসেবে হরমনপ্রীতের সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০২৫ সালে। দেশের মাঠে তাঁর নেতৃত্বেই প্রথমবার মহিলাদের এক দিনের বিশ্বকাপ জেতে ভারত। নবি মুম্বইয়ের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৫২ রানে হারিয়েছিল দল। বহু বছরের অপেক্ষা এবং একাধিক বিশ্বকাপের হতাশার পরে সেই জয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করে।
সেই ফাইনালে শেফালি বর্মার ৮৭ এবং দীপ্তি শর্মার ৫৮ রানের সাহায্যে ভারত সাত উইকেটে ২৯৮ রান তোলে। পরে বল হাতে পাঁচ উইকেট নেন দীপ্তি। দক্ষিণ আফ্রিকা থামে ২৪৬ রানে। হরমনপ্রীতের নেতৃত্বে ব্যক্তিগত দক্ষতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মেলবন্ধনেই আসে বহু প্রতীক্ষিত বিশ্বসেরার স্বীকৃতি। অধিনায়কের বিদায়ের ঘোষণায় তাই সেই ট্রফিজয়ের স্মৃতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ অপেক্ষার সাক্ষীও ছিলেন তিনি। ২০০৯ সালের বিশ্বকাপেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল হরমনপ্রীতের। ২০১৭ সালে লর্ডসের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের অল্প ব্যবধানে হারও দেখেছেন। নিজের পঞ্চম এক দিনের বিশ্বকাপে এসে অবশেষে ট্রফি হাতে তোলেন তিনি। ব্যক্তিগত ক্রিকেটজীবন এবং দেশের মহিলা দলের যাত্রা এভাবেই বারবার একসূত্রে মিলেছে।
সাম্প্রতিক এশিয়ান গেমসেও তাঁর নেতৃত্বে ভারত টানা দ্বিতীয়বার সোনা জিতেছে। ফলে অধিনায়কত্বের শেষ পর্যায়েও দলের সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত থাকলেন হরমনপ্রীত। এখন নেতৃত্বের দায়িত্ব বদলের সঙ্গে ভারতীয় মহিলা দলের সামনে নতুন অধ্যায় খুলবে। সেই পরিবর্তনের সময়ে তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে থাকতে পারে। নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট।
হরমনপ্রীত স্পষ্ট করেছেন, অধিনায়কত্ব ছাড়লেও খেলার প্রতি ভালবাসা অটুট। নেতৃত্বের বাড়তি চাপ সরিয়ে আবার ক্রিকেট উপভোগ করতে চান তিনি। ভারতের হয়ে তাঁর পরবর্তী পথ তাই এখন একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের পথ। বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের পরিচয় ইতিহাসে থাকবে, আর মাঠে চলবে দলের জন্য অবদান রাখার চেষ্টা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



