বামেরা ভয় পায় না, বিক্রিও হয় না’: শিক্ষাঙ্গনে বিজেপি-আরএসএসের বিরুদ্ধে সরব নেহা

যা জানা জরুরি
- কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাভাবনার পরিসর বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা।
- সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সভায় তিনি বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ভয় এবং হিংসার পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তোলেন।
- সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক ঘটনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাভাবনার পরিসর বিপন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাম ছাত্র সংগঠনগুলির সভায় তিনি বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ভয় এবং হিংসার পরিবেশ তৈরির অভিযোগ তোলেন। সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক ঘটনাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে।
নেহার বক্তব্য, শাসকেরা মনে করছেন, বিরোধীদের ভয় দেখিয়ে অথবা কিনে নিয়ে প্রতিবাদের পথ বন্ধ করা যাবে। কিন্তু বামপন্থীদের ক্ষেত্রে সেই হিসাব মিলবে না। তাঁর কথায়, বামেরা ভয় পায় না, বিক্রিও হয় না। দেশ, বাংলা কিংবা বিশ্বের কোথাও অত্যাচারের বিরুদ্ধে একটি কণ্ঠস্বরও বেঁচে থাকলে বামপন্থার অস্তিত্ব থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সংবাদমাধ্যম, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই প্রতিষ্ঠানগুলি ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে এবং মানুষের অধিকার আক্রান্ত হচ্ছে।
এসআরএফটিআই প্রসঙ্গে নেহার অভিযোগ, জাতীয় গুরুত্বের এই প্রতিষ্ঠানে গত এক সপ্তাহে বারবার আক্রমণ চালিয়েছে আরএসএস ও তার সহযোগী সংগঠনগুলি। এর ফলে পড়ুয়াদের নিরাপত্তার পাশাপাশি উদার ও ধর্মনিরপেক্ষ মতপ্রকাশও হুমকির মুখে পড়ছে। প্রায় এক মাস আগে যাদবপুরের পড়ুয়াদের ঘিরে রেখে পাথর ও ডিম ছোড়ার অভিযোগও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলিতে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে।
নেহা বলেন, শক্তি প্রদর্শন করে ছাত্রদের ভয় দেখানোর চেষ্টা সফল হবে না। সংবিধান, বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষকেও নিশানা করেন তিনি। স্বাধীনতার জন্য পূর্ববর্তী প্রজন্মের আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে তাঁর বক্তব্য, মানুষের বিশ্বাস ভাঙা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলবে। গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে বামপন্থীরা লড়বেন।
দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের সঙ্গে বাংলার ছাত্রবিক্ষোভের সংহতির কথাও বলেন নেহা। তাঁর বক্তব্য, হামলা চালিয়ে প্রতিবাদীদের সরানো যাবে না; দিল্লিতে অত্যাচার হলে কলকাতা প্রতিবাদ করবে, কলকাতায় হলে অন্যত্রও প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। রবিবার রাতে দিল্লি পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়ে সোমবার কলকাতায় আসেন তিনি। দক্ষিণপন্থী সংগঠনের বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিমানবন্দর থেকে তাঁকে যাদবপুরে নিয়ে যান সিপিএম কর্মী-সমর্থকেরা। ভিড় বাড়তে থাকায় সভাস্থল বদলাতে হয়। শেষ পর্যন্ত যাদবপুরের কে পি বসু মেমোরিয়াল হলে সভাটি হয়।
সভায় এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্যও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্ন তোলেন। পাঠ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথের কবিতা সরিয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী আনার অভিযোগ উল্লেখ করে তিনি তার বিরোধিতা করেন। তাঁর বক্তব্যেও দিল্লি ও কলকাতার আন্দোলনের পারস্পরিক সংহতি বজায় রাখার আহ্বান ছিল।
এই রাজনৈতিক বক্তব্যের পটভূমিতে এসআরএফটিআইয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানান, ৪ অক্টোবর মূল ফটকের কাছে বাইরের একদল মানুষের জমায়েত ও গোলমালে নিরাপত্তার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের সময়মতো হস্তক্ষেপে জমায়েত ছত্রভঙ্গ হয় বলে জানায় প্রতিষ্ঠান। হিংসা, ভয় দেখানো কিংবা বেআইনিভাবে ক্যাম্পাসে ঢোকার প্রচেষ্টার নিন্দাও করেছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শান্তি ফেরানোর কাজ চলছে বলে তাদের বক্তব্য।
এসআরএফটিআইয়ের উপাচার্যের বক্তব্য, বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও অঞ্চল থেকে আসা পড়ুয়াদের বৈচিত্র্যই প্রতিষ্ঠানের সৃজনশীল পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। আহত পড়ুয়াদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং মূল ফটক ও সীমানায় নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ছাত্রদের উদ্বেগ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। তাঁরা যাতে ভয় ছাড়াই ক্লাস করতে এবং সৃজনশীল কাজে ফিরতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার। ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মীদের নিরাপত্তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিকে গভীর উদ্বেগজনক বলেও বর্ণনা করেছেন প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



