দেশ

সুস্থ হচ্ছেন ক্যাপ্টেন স্মিত, ‘ভারতের নতুন নায়ক’কে সম্মান জানিয়ে মুম্বইয়ে ইজরায়েলের বিলবোর্ড

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • আকাশে প্রাণঘাতী হামলার মুখেও যাত্রীদের বাঁচাতে সাহায্য করা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
  • শনিবার, ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তিনি উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং ভাল ভাবে সেরে উঠছেন।
  • অন্যদিকে, তাঁর সাহসিকতাকে সম্মান জানিয়ে মুম্বইয়ে বিলবোর্ড দিয়েছে ইজরায়েলের কনসুলেট জেনারেল।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

আকাশে প্রাণঘাতী হামলার মুখেও যাত্রীদের বাঁচাতে সাহায্য করা ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। শনিবার, ৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তিনি উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং ভাল ভাবে সেরে উঠছেন। অন্যদিকে, তাঁর সাহসিকতাকে সম্মান জানিয়ে মুম্বইয়ে বিলবোর্ড দিয়েছে ইজরায়েলের কনসুলেট জেনারেল। কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচের বার্তা, ভারত এক নতুন নায়ক পেয়েছে, ইজরায়েল তাঁর নাম ভুলবে না।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে সহকারী পাইলটের হামলায় গুরুতর আহত হন স্মিত। জরুরি অবতরণের পরে প্রথমে সৌদি আরবে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরে তাঁকে আকাশপথে আবু ধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। তাঁর স্বাস্থ্য সম্পর্কে শনিবারের বার্তায় ভারতীয় দূতাবাস জানায়, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থার জন্য আমিরশাহি সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে দূতাবাস।

এর আগে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে স্মিত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন আমিরশাহিতে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল। আকাশবাণীকে তিনি জানান, পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁর মনোবল ভাল রয়েছে। তিনি স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছেন, হাসছেনও। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য, তাঁকে এই অবস্থায় দেখে স্বস্তি পেয়েছেন তাঁরা, বিশেষ করে তাঁর পরিবার। চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য নিশ্চিত করতে আমিরশাহির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দূতাবাসের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মিত্তল জানান, তাঁর প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় যাতে কোনও ঘাটতি না থাকে, তা দেখা হবে।

মুম্বইয়ে ইজরায়েলের কনসুলেট শুক্রবার স্মিতকে সম্মান জানিয়ে বিলবোর্ডটি দেয়। সমাজমাধ্যম এক্সে তার ছবি প্রকাশ করেন কনসাল জেনারেল রেভাচ। প্রাণ বাঁচানোর জন্য ক্যাপ্টেনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে সেখানে। নিজের বার্তায় রেভাচ জানান, স্মিতকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছে ইজরায়েল। বিপদের মুহূর্তে তাঁর ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা এভাবেই মুম্বইয়ের প্রকাশ্য পরিসরে তুলে ধরেছে কূটনৈতিক দফতরটি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত উড়ানে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ২৭ জন শিশু। আকাশে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সময়ে বিমানটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। এর পরে সেটি দ্রুত ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নেমে আসে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যের পরিবর্তে সৌদি আরবের তাবুকের প্রিন্স সুলতান বিন আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমানটি। যাত্রীদের নিরাপদে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।

ঘটনার যে বিবরণ প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে গুরুতর জখম অবস্থাতেও ককপিটের দরজা খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্মিতের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দরজা খোলার ফলে অন্যেরা ভিতরে ঢুকে সাহায্য করতে পারেন। যাত্রী এবং বিমানে থাকা অন্য পাইলটের সহায়তায় অভিযুক্তকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বিমানটিকেও নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়। ফলে বিপর্যয় এড়ানোর ঘটনায় ক্যাপ্টেনের পাশাপাশি সাহায্যকারী যাত্রী ও বিমানকর্মীদের ভূমিকাও সামনে এসেছে। ফ্লাইদুবাইয়ের প্রাথমিক বিবৃতিতেও বিমানে থাকা সংস্থার কর্মীদের নিরাপদ অবতরণের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। বিমানসংস্থাটি প্রথমে ঘটনাটিকে ককপিটে সংঘর্ষ বলে জানিয়েছিল। পরে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং বিমান দখলের চেষ্টার বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করে।

শুক্রবার হাসপাতাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথোপকথনে স্মিত নিজেই সেই মুহূর্তগুলির বিবরণ দেন। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য লড়ছিলেন তিনি। কিন্তু আহত হয়ে পড়ে থাকার মধ্যেও বুঝতে পারেন, বিমান নীচে নামছে এবং তাঁকে কিছু করতে হবে। তিনি জানান, ১৭ বছর বিমান চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর; গত ১১ বছর ক্যাপ্টেন হিসেবে কাজ করছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বিমানের পরিস্থিতি বুঝতে পারছিলেন। নিজের পাশাপাশি অন্য সকলের জীবন বাঁচানোর দায়িত্বের কথাও তখন তাঁর মনে হয়েছিল।

হামলার তদন্তে শনিবার আরও তথ্য জানায় আমিরশাহি। সে দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ আল শামসি জানান, সহকারী পাইলট ককপিটে জরুরি প্রয়োজনে রাখা কুড়ুল দিয়ে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করেন এবং বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা বলে চিহ্নিত করেছে। তবে হামলার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ও উদ্দেশ্য নির্ধারণের তদন্ত চলছে। বস্তুগত এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

স্মিতের পেশাগত জীবনেও দীর্ঘ প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার পরিচয় রয়েছে। মুম্বইয়ে জন্ম তাঁর। প্রথমে পরিবারের বস্ত্রব্যবসায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে বিমানচালনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। নিউজিল্যান্ডে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পাইসজেটে কাজ করেছেন স্মিত। সেখানে সিনিয়র কমান্ডার এবং অন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২২ সালের জুনে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বোয়িং ৭৩৭ চালানোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। স্পাইসজেটে থাকাকালীন সাড়ে ন’হাজার ঘণ্টারও বেশি বিমান চালিয়েছেন তিনি। তার মধ্যে ছয় হাজার চারশোর বেশি ঘণ্টা ছিলেন প্রধান চালকের দায়িত্বে। প্রশিক্ষক হিসেবে সহকর্মীদের দক্ষতা যাচাই, পরামর্শ দেওয়া এবং সংস্থার নিরাপত্তাবিধি মেনে কাজ নিশ্চিত করার দায়িত্বও সামলেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন। আমিরশাহির অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও ক্যাপ্টেন, বিমানকর্মী এবং সাহায্যকারী যাত্রীদের দ্রুত পদক্ষেপকে কৃতিত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে জানিয়েছে, তদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হলে সরকারি মাধ্যমেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এই অবস্থায় অযাচাইকৃত অনুমান ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানিয়েছে তারা।

ক্যাপ্টেনের আরোগ্যের খবরের সঙ্গে মুম্বইয়ের বিলবোর্ড তাই এই ঘটনার দুটি দিক তুলে ধরছে। একদিকে গুরুতর আঘাতের পরে হাসপাতালে তাঁর সেরে ওঠার লড়াই, অন্যদিকে যাত্রীদের বাঁচাতে তাঁর ভূমিকার প্রতি প্রকাশ্য কৃতজ্ঞতা। ভারতীয় দূতাবাস আপাতত তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সহায়তায় নজর রাখছে। ইজরায়েলি কনসুলেটের শুভেচ্ছাবার্তাতেও রয়েছে একই প্রত্যাশা—দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন ক্যাপ্টেন স্মিত।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles