তেলেঙ্গানায় সেনার অস্ত্র চুরিতে আরও সাত গ্রেফতার, তিন জন কর্মরত সেনাকর্মী

যা জানা জরুরি
- তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ সেনানিবাস থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরির ঘটনায় আরও সাত জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
- শনিবার ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন কর্মরত সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর এলাকার দু’জন।
- গত ৩১ অগস্ট ভোরে বোল্লারামে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের ২০ নম্বর ব্যাটালিয়নের অস্ত্রভাণ্ডারে চুরির ঘটনা ঘটে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
তেলেঙ্গানার সেকেন্দ্রাবাদ সেনানিবাস থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ চুরির ঘটনায় আরও সাত জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শনিবার ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর তিন কর্মরত সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর এলাকার দু’জন। গত ৩১ অগস্ট ভোরে বোল্লারামে মাদ্রাজ রেজিমেন্টের ২০ নম্বর ব্যাটালিয়নের অস্ত্রভাণ্ডারে চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নতুন গ্রেফতারির ফলে এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে হল আট।
মালকাজগিরির পুলিশ কমিশনার বি সুমতি জানিয়েছেন, মূল অভিযুক্ত উপ্পুথোল্লা মল্লেশ ওরফে রাজু, বয়স ৩৭, ওই ব্যাটালিয়নেরই অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার। গত ১১ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি তেলেঙ্গানার নাগারকুর্নুল জেলার পাদারা মণ্ডলের উদুমেল্লি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর গ্রেফতারির প্রায় তিন সপ্তাহ পরে শনিবার বাকি সাত অভিযুক্তকে গ্রেফতারের কথা জানাল পুলিশ। ধৃতদের পরিচয়ও প্রকাশ করেছেন কমিশনার।
গ্রেফতার হওয়া তিন কর্মরত সেনাসদস্য হলেন ৩৬ বছরের সিপাহি কোন্ডুরি শেশুলু, ৩৪ বছরের জওয়ান বিনোদ কুমার এবং ৩৭ বছরের হাবিলদার কুচারাকান্তি প্রবীণ। শেশুলু ও বিনোদ অন্ধ্রপ্রদেশের মার্কাপুরম জেলার বাসিন্দা। প্রবীণের বাড়ি তেলেঙ্গানার মহবুবনগর জেলার রাজাপুর এলাকার গুন্ডলাপোট্টাপল্লিতে। পুলিশের অভিযোগ, এই তিন প্রাক্তন সহকর্মীর সহায়তা নিয়েই মল্লেশ অস্ত্রভাণ্ডারের তালা ভেঙে আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ সরিয়েছিলেন।
এই মামলায় পশ্চিমবঙ্গের যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা হলেন ব্যারাকপুরের বাসিন্দা, ৩২ বছরের অভি দে ওরফে ওবি এবং ২৭ বছরের বীরবল শ। বীরবল ব্যারাকপুর সেনানিবাসের কাছে আখের রসের দোকান চালান। অন্য দুই ধৃত উপ্পুথোল্লা মল্লিকার্জুন ও চেম্মাকার নিরঞ্জনের বয়স ৩৯ বছর। দু’জনেই নাগারকুর্নুলের পাদারার বাসিন্দা। মল্লিকার্জুন পেশায় রাজমিস্ত্রি, নিরঞ্জন একটি সাধারণ পণ্যের দোকান চালান।
পুলিশের দাবি, মল্লেশ তাঁর আত্মীয় মল্লিকার্জুন এবং বন্ধু নিরঞ্জনকে নিয়ে ব্যাঙ্ক, গয়নার দোকান ও বিত্তবান ব্যক্তিদের নিশানা করে ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই উদ্দেশ্যেই অস্ত্র সংগ্রহের ছক করা হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের অভি ও বীরবলের সঙ্গে চুরি করা অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে যোগাযোগ করেছিলেন মল্লেশ। অভিযোগ, তাঁরা অস্ত্র কিনতে রাজি হন।
তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিটি পিস্তলের জন্য তিন লক্ষ টাকা এবং প্রতিটি লম্বা আগ্নেয়াস্ত্রের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন অভি। গোলাবারুদের দাম আলাদা করে দেওয়ার কথাও ছিল। ফলে পুলিশের বয়ানে এই ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি এবং চোরাই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা, দু’টি দিকই উঠে এসেছে।
চুরির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ৩১ অগস্ট, অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার ঘরের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়ার পরে। খোয়া যাওয়া অস্ত্রের মধ্যে ছিল চারটি একে-২০৩ রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল এবং সাতটি পিস্তল। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে ওই অস্ত্র এবং ১,৯০০ রাউন্ডের বেশি গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। মল্লেশকে দশ দিন পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের পর নতুন গ্রেফতারিগুলি হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ৯ মিলিমিটার পিস্তলের ১,১৫৬ রাউন্ড, একে-২০৩ রাইফেলের ৭২০ রাউন্ড এবং ইনসাসের ৩৬ রাউন্ড গুলি। এ ছাড়া তিনটি দূরবিন ও পাঁচটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আদালতের অনুমতিতে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত মল্লেশকে হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ব্যারাকপুরে কর্মরত থাকার সময় থেকেই মল্লেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের অভিযুক্তদের যোগাযোগ ছিল। অভিযোগ, ২০২২ সালে বীরবলের মাধ্যমে অভির কাছ থেকে দশ হাজার টাকায় একটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি তাজা কার্তুজ কিনেছিলেন মল্লেশ। সেই অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে এখনও অভিযুক্তদের সঙ্গে কোনও সন্ত্রাসবাদী বা উগ্রপন্থী সংগঠনের যোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, সম্পত্তি লুটের অপরাধে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই অস্ত্র চুরি করা হয়েছিল। শনিবার গ্রেফতার হওয়া সাত জনকে স্থানীয় আদালতে পেশ করা হলে তাঁদের ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। অভিযোগগুলির বিচার এখনও বাকি।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



