মমতার পায়ে চোট নিয়ে ‘মিথ্যা প্রচার’, তদন্তের ঘোষণা শুভেন্দুর

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ারঃ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে আঘাত পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক।
- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সেই সময়ে পা ভেঙে যাওয়ার দাবি করে নন্দীগ্রামের মানুষকে অপমান করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী।
- শনিবার নবান্নে একটি চিকিৎসা রিপোর্ট দেখিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, তাতে হাড় ভাঙার প্রমাণ নেই।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ারঃ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে আঘাত পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে ফের রাজনৈতিক বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সেই সময়ে পা ভেঙে যাওয়ার দাবি করে নন্দীগ্রামের মানুষকে অপমান করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার নবান্নে একটি চিকিৎসা রিপোর্ট দেখিয়ে শুভেন্দু দাবি করেন, তাতে হাড় ভাঙার প্রমাণ নেই। বিষয়টি সিআইডি খতিয়ে দেখছে এবং উপনির্বাচনের পরে নতুন করে তদন্ত করা হবে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু যে নথিটি দেখিয়েছেন, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী সেটি বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের রেডিয়োডায়াগনসিস বিভাগের ২০২১ সালের ১১ মার্চের রিপোর্ট। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, মমতার পায়ে হাড় ভাঙা কিংবা হাড়ের অবস্থান সরে যাওয়ার প্রমাণ মেলেনি বলে সেখানে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, চিকিৎসকদের রিপোর্টে হাড় না ভাঙার কথা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারে অন্য ছবি তুলে ধরা হয়েছিল। নন্দীগ্রামের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলার বিষয়টিও সামনে আনেন তিনি।
রাজ্যে উপনির্বাচনের জন্য আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর রয়েছে। শুভেন্দু জানান, এই মুহূর্তে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করবেন না। ভোটপর্ব শেষ হওয়ার পরে সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। আগামী ৯ অক্টোবরের পরে এ বিষয়ে আরও বলবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তদন্ত চলার কথা তিনি শনিবারই প্রকাশ্যে জানান। মিথ্যা অভিযোগের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যায়, মন্তব্য তাঁর।
এর আগের দিন নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে প্রচারে গিয়েও প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে তিনি ওই চিকিৎসা রিপোর্ট সংগ্রহ করেছেন। হাসপাতালটি তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরের অন্তর্গত এবং হাসপাতাল কমিটির সভাপতি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর ব্যাখ্যা, এক্স-রে প্লেট রোগীকে দিয়ে দেওয়া হলেও রিপোর্টের প্রতিলিপি হাসপাতালে থাকে। সেই প্রতিলিপিই তাঁর কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২১ সালের ১০ মার্চ। নন্দীগ্রামের বিরুলিয়ার রেয়াপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় বাঁ পা ও কোমরে আঘাত পান মমতা। প্রথমে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গাড়ির পাদানিতে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে অভিবাদন জানানোর সময় চার-পাঁচ জন গাড়ির দরজা ঠেলে দেন। পরে হাসপাতাল থেকে দেওয়া ভিডিয়োবার্তায় তিনি জানান, প্রবল ভিড়ের চাপে গাড়ির দরজায় তাঁর পা চেপে যায়। তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল।
সেই সময় প্রকাশিত চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিবরণে তাঁর বাঁ গোড়ালি ও পায়ের হাড় এবং লিগামেন্টে গুরুতর আঘাতের কথা জানানো হয়। অন্য কয়েকটি জায়গাতেও ব্যথা ও আঘাতের উল্লেখ ছিল। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ১২ মার্চ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মমতা। বাঁ পায়ে প্লাস্টার নিয়েই পরবর্তী নির্বাচনী প্রচার চালান হুইলচেয়ারে বসে। এই চিকিৎসার বিবরণ এবং এখন প্রকাশিত রিপোর্ট ঘিরেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শুভেন্দুর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তৃণমূল। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, মমতার পায়ে আঘাত লেগেছিল এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা তার সাক্ষী। তাঁর দাবি, হাড় ভাঙার সঙ্গে পেশি বা অন্যান্য নরম কলায় গভীর আঘাতের বিষয়টিকে এক করে দেখা যায় না। মমতার পায়ের ফোলা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। তৃণমূল মমতার আহত বাঁ হাঁটুর একটি পুরনো ছবিও প্রকাশ করেছে।
পাশাপাশি ব্যক্তিগত চিকিৎসা-তথ্য প্রকাশের প্রশ্ন তুলেছেন কুণাল। জাতীয় মেডিক্যাল কমিশনের বিধি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন। উপনির্বাচনের আগে এই অভিযোগ তোলাকে রাজনৈতিক কুৎসা বলে বর্ণনা করেছে তৃণমূল। রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন দলের মুখপাত্র।
আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন, গণনা ৯ অক্টোবর। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী নেই; সমর্থন করছে কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে। ভোটের ঠিক আগে পাঁচ বছরের পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে তদন্তের ঘোষণায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়েছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



