সংসদীয় কমিটির দুই সভাপতিপদই হারাল তৃণমূল, দায়িত্ব পেলেন বিদ্রোহী কাকলি

যা জানা জরুরি
- বাংলাস্ফিয়ারঃ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে দু’টি সভাপতিপদই হারাল তৃণমূল কংগ্রেস।
- বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো হয়েছে দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে।
- অন্যদিকে, রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কমিটিতে কীর্তি আজাদের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদার।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
বাংলাস্ফিয়ারঃ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পুনর্গঠনে দু’টি সভাপতিপদই হারাল তৃণমূল কংগ্রেস। বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো হয়েছে দলের রাজ্যসভার সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় এসেছেন বিজেপির সুধাংশু ত্রিবেদী। অন্যদিকে, রাসায়নিক ও সার বিষয়ক কমিটিতে কীর্তি আজাদের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেত্রী কাকলি ঘোষদস্তিদার। শনিবার, ৩ অক্টোবর এই রদবদল হয়।
রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণন এবং লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় স্থায়ী কমিটিগুলি পুনর্গঠন করেছেন। পরিবর্তনের ফলে তৃণমূলের হাতে থাকা একটি কমিটির নেতৃত্ব সরাসরি বিজেপির কাছে গেল। অন্যটির দায়িত্ব পেলেন মূল দলের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো এক সাংসদ। ফলে সংসদীয় কমিটির নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর কাকলির নেতৃত্বে তৃণমূলের একদল সাংসদ স্পিকারের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি, তাঁরা ত্রিপুরাভিত্তিক ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া বা এনসিপিআইয়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। লোকসভায় পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতিও চান তাঁরা। তবে ওই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিষয়ে স্পিকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সেই সিদ্ধান্তের আগেই কাকলির হাতে কমিটির দায়িত্ব এল।
এই রদবদলের প্রতিবাদে রাজ্যসভার চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের সংসদীয় নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর বক্তব্য, উচ্চকক্ষে বিজেপি ও কংগ্রেসের পরেই তৃণমূল তৃতীয় বৃহত্তম দল। তা সত্ত্বেও তাদের সভাপতিপদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ডেরেক মনে করিয়েছেন, ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ সালে এই দায়িত্ব তৃণমূলের হাতেই ছিল। তাঁর অভিযোগ, ২০১৯ সালেও তৃতীয় বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও একইভাবে বঞ্চিত হয়েছিল তৃণমূল। পরে সেই পরিস্থিতির সংশোধন হলেও এখন আবার আগের অবস্থায় ফিরতে হচ্ছে। সংসদের গণতান্ত্রিক পরিসর সংকুচিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বিজেপি নিজেদের কয়েকটি কমিটির নেতৃত্বও বদলেছে। কর্মিবর্গ, জনঅভিযোগ, আইন ও বিচার বিষয়ক কমিটিতে ব্রিজ লালের জায়গায় এসেছেন সুজিত কুমার। শ্রম বিষয়ক কমিটিতে বাসবরাজ বোম্মাইয়ের পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন শশাঙ্ক মণি ত্রিপাঠী। রেল বিষয়ক কমিটিতে সি এম রমেশের জায়গা নিয়েছেন সুধীর গুপ্ত। অর্থাৎ, পুনর্গঠনে তৃণমূলের দু’টি পদ হারানোর পাশাপাশি শাসক দলের মধ্যেও দায়িত্বের পুনর্বণ্টন হয়েছে।
তবে অন্য কয়েকটি বিরোধী দলের সাংসদেরা তাঁদের দায়িত্ব ধরে রেখেছেন। বিদেশ বিষয়ক কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন কংগ্রেসের শশী তারুর এবং কৃষি বিষয়ক কমিটিতে চরণজিৎ সিংহ চান্নি। শিক্ষা, মহিলা, শিশু ও যুব বিষয়ক কমিটির দায়িত্বে রয়েছেন মুকুল ওয়াসনিক। শিল্প বিষয়ক কমিটিতে ডিএমকের তিরুচি শিবা এবং খাদ্য, উপভোক্তা ও গণবণ্টন বিষয়ক কমিটিতে কানিমোঝি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কমিটির নেতৃত্বেও থাকছেন সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব।
সংসদে এমন কমিটি রয়েছে ২৪টি। এর মধ্যে আটটি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এবং ১৬টি লোকসভার স্পিকারের অধীনে। উভয় কক্ষের সাংসদেরা এগুলিতে থাকেন। মেয়াদ এক বছর; তারপর কমিটিগুলি নতুন করে গঠন করা হয়ে থাকে। বিভাগীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের বাজেট, নীতি এবং তাদের কাছে পাঠানো বিল খতিয়ে দেখে। প্রয়োজনমতো সরকারি আধিকারিক ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য শুনে সংসদের কাছে সুপারিশ করে। তাই এই কমিটিগুলির সভাপতিপদ সংসদীয় নজরদারির কাজে গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অধিবেশনের বিতর্কে নয়, মন্ত্রকের কাজ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয় এখানে। কমিটির নেতৃত্ব বদল সেই প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বও অন্য হাতে তুলে দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু রাজ্যসভায় দলের সংখ্যাগত অবস্থান এবং সভাপতিপদ হারানোর সিদ্ধান্ত। অন্য বিরোধী দলগুলির একাধিক পদ অক্ষুণ্ণ থাকলেও তৃণমূলের দু’টি পদই চলে গিয়েছে। আবার কাকলির নিয়োগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিদ্রোহী সাংসদদের স্বীকৃতির অনিষ্পন্ন প্রশ্ন। ফলে নিয়মিত কমিটি পুনর্গঠনের এই পর্ব তৃণমূলের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ভাঙন ও সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিরোধের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



