দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে ক্যাপ্টেনকে আক্রমণ করে বিমানটি ভেঙে ফেলার চেষ্টায় অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে আগেই বিমান চালানো থেকে বিরত রেখেছিল ওমান—উগ্রপন্থী মতাদর্শ নিয়ে উদ্বেগের কারণে। সেই নিষেধাজ্ঞার পরেও তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিমান সংস্থাটিতে চাকরি পান। এই তথ্য সামনে আসায় পাইলট নিয়োগের আগে তাঁর অতীত এবং নিরাপত্তাগত ঝুঁকি কতটা খতিয়ে দেখা হয়েছিল, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

তবে ওমানের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি এখনও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতেই প্রকাশিত হয়েছে। ওমান অন্য দেশ বা বিমান সংস্থাকে ওই উদ্বেগ জানিয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রশ্নের জবাবে ওমান সরকার এবং ফ্লাইদুবাই মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে এলবিসি। ফলে পূর্ববর্তী সতর্কতা কার কাছে পৌঁছেছিল, কিংবা নিয়োগের সময় কোনও তথ্য উপেক্ষিত হয়েছিল কি না, তার নির্দিষ্ট উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ উড়ানে ঘটনাটি ঘটে। সৌদি আরবের আকাশসীমায় বিমানটি আকস্মিকভাবে নীচে নামতে শুরু করে; সবচেয়ে তীব্র পতনে প্রায় তিরিশ সেকেন্ডের কিছু বেশি সময়ে উচ্চতা কমে ষোলো হাজার ফুটেরও বেশি। আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার ককপিটের দরজা খুলে দিলে যাত্রীরা ভিতরে ঢুকে সহকারী পাইলটকে কাবু করেন। বিমানে থাকা তখন ডিউটিতে না থাকা দুই পাইলট পরে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরবের তাবুকে নিরাপদে অবতরণ করান।

আবু ধাবির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাচ্ছার শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ভিডিও কলে সেই অভিজ্ঞতা জানান। তাঁর বক্তব্য, প্রচণ্ড আঘাতে পড়ে যাওয়ার পরেও বুঝতে পেরেছিলেন, উঠে দাঁড়িয়ে সাহায্যের পথ খুলতে না পারলে যাত্রীদের প্রাণ যাবে। ককপিটের দরজা পর্যন্ত পৌঁছনোর সেই মরিয়া চেষ্টাই অন্যদের হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়। নিজের দীর্ঘ বিমানচালনার অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ তাঁকে সংকটের মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তের নেতৃত্বে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ইজরায়েলি তদন্তকারীরাও যুক্ত বলে সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্ত কোনও গোষ্ঠীর সদস্য কি না স্পষ্ট নয়; ইরানের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণও এখনও মেলেনি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সম্ভাব্য যোগের কথা বলেছেন এবং ইরানি এজেন্টদের ভূমিকা প্রমাণিত হলে কঠোর আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও অভিযুক্তের উগ্রপন্থী হয়ে ওঠার দাবি করেছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে তার প্রমাণ দেননি।

আমিরশাহির প্রবীণ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ঘটনাটিকে বিপজ্জনক সন্ত্রাসবাদী কাজ বলেছেন। এপির হিসাবে, বিমানটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ও আটজন কর্মী ছিলেন। ঘটনার পরে আমিরশাহি থেকে ইজরায়েলগামী সব উড়ান বাতিল হওয়ায় আটকে পড়েন বহু যাত্রী। তাঁদের ফেরাতে শুক্রবার থেকে বিশেষ উড়ানের ব্যবস্থা হয়েছে। ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর দুবাই ইজরায়েলিদের জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠেছিল। সেই যোগাযোগেই এখন নিরাপত্তার ধাক্কা।

আমেরিকা–ইরান যুদ্ধে অস্থির পশ্চিম এশিয়ায় এই ঘটনা বিমানযাত্রার প্রতি আস্থার উপরও চাপ বাড়িয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রাজনৈতিক অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে ধরলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আড়াল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আপাতত সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন, এক দেশে বিমান চালানো নিয়ে আপত্তি ওঠার পর অন্য দেশে সেই ব্যক্তির নিয়োগ কীভাবে সম্ভব হল।

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটি সংস্থার দায় নির্ধারণে সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশগুলির মধ্যে পাইলটের নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য আদানপ্রদান, নিয়োগের যাচাই এবং সতর্কতার অনুসরণ কতটা কার্যকর, তা বোঝার জন্যও উত্তরটি প্রয়োজন। যাত্রী ও কর্মীদের সাহসে বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে; কিন্তু ভবিষ্যতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেই সাহসের উপর নির্ভর করে থাকা চলে না। তদন্তে তাই হামলার উদ্দেশ্যের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপও খতিয়ে দেখা হবে।