রাজ্য

আটক ৮০৪ কোটি টাকায় হাত দেওয়ার অনুমতি মিলল না, সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা মমতা শিবিরের

এক নজরে

যা জানা জরুরি

  • প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা জমা থাকা চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পেল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী।
  • বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি পি বি বরালের বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করেছে।
  • কলকাতা হাই কোর্ট অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিতে অস্বীকার করেছিল; সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত।

বিস্তারিত প্রতিবেদন

প্রায় ৮০৪ কোটি টাকা জমা থাকা চারটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পেল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ ও বিচারপতি পি বি বরালের বেঞ্চ তাদের আবেদন খারিজ করেছে। কলকাতা হাই কোর্ট অন্তর্বর্তী স্বস্তি দিতে অস্বীকার করেছিল; সেই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত।

শুনানিতে দলীয় প্রতীক নিয়ে চলতে থাকা বিরোধের প্রসঙ্গ উঠে আসে। আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশন তৃণমূলের প্রতীক স্থগিত রেখেছে। কোন গোষ্ঠী ওই তহবিল ব্যবহারের অধিকারী, সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। এই পরিস্থিতিতে চারটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার আবেদন গ্রহণ করেনি বেঞ্চ। ফলে, জমা অর্থ ব্যবহারের জন্য মমতা শিবির যে অনুমতি চাইছিল, তা আপাতত মিলছে না।

তবে সুপ্রিম কোর্ট মামলার মূল বিষয়ের যথার্থতা বিচার করেনি। বেঞ্চ জানিয়েছে, এই পর্যায়ে সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করে হাই কোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করবে না। কলকাতা হাই কোর্টকে দ্রুত শুনানি করার অনুরোধ জানিয়েছে আদালত। অর্থাৎ, বৃহস্পতিবারের সিদ্ধান্তে তহবিলের অধিকার নিয়ে চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়নি; মূল বিরোধের বিচার এখনও বাকি।

মমতা শিবিরের পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করেন, অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ থাকায় দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম বিপর্যস্ত হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের বিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পুলিশ দিয়ে আটকে দিলে সেই সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যকলাপই বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব। এই যুক্তিতে তিনি অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অনুমতি চান। তাঁর এই বক্তব্য ছিল আবেদনকারী পক্ষের অভিযোগ।

সিঙ্ঘভি জানান, দলের কাজকর্ম এবং খরচ চালাতে প্রতি মাসে অন্তত ১২ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। আবেদনের বিরোধিতা করে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, দলের মধ্যে গোষ্ঠীবিরোধ রয়েছে এবং একটি পক্ষ নিজেদের প্রকৃত তৃণমূল বলে দাবি করছে। তিনি জানান, মমতা গোষ্ঠীর এক ব্যক্তিগত সহায়কের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলিতে নগদ ৩৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এটি আদালতে উত্থাপিত অভিযোগ; অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নয়।

মামলার পটভূমিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা তোলা বা খরচ করার উপর নিষেধাজ্ঞা। এই ব্যবস্থাকেই বলা হচ্ছে ‘ডেবিট ফ্রিজ’। সংশ্লিষ্ট এফআইআরগুলিতে ত্রুটি রয়েছে বলে দাবি করে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে যায় মমতা শিবির। ২৭ অগস্ট হাই কোর্ট চারটি অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অন্তর্বর্তী অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। আদালতের বক্তব্য ছিল, এমন অনুমতি দিলে দৈনন্দিন খরচ সংক্রান্ত আগের ব্যবস্থার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

সেই আগের ব্যবস্থাটি ছিল অন্য তিনটি অ্যাকাউন্ট নিয়ে। পুলিশের নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ওই বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে দলের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর জন্য গত ৯ জুলাই হাই কোর্ট একজন বিশেষ আধিকারিক নিয়োগ করেছিল। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করা হলেও সুপ্রিম কোর্ট তা বহাল রাখে। ফলে, দৈনন্দিন খরচের ব্যবস্থা আদালত আগেই করেছে—এই যুক্তিতে আরও চারটি অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণভাবে পরিচালনার অনুমতি দেয়নি হাই কোর্ট।

বৃহস্পতিবারের নির্দেশের তাৎপর্য তাই দুটি পৃথক প্রশ্নে নিহিত। প্রথমটি, মামলার নিষ্পত্তির আগে দলীয় কাজ চালানোর খরচ কীভাবে মিটবে। দ্বিতীয়টি, দল ভাঙনের পর তহবিল ব্যবহারের অধিকার কোন পক্ষের থাকবে। প্রথম প্রশ্নে আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি ব্যবস্থা রয়েছে। দ্বিতীয় প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর এখনও আসেনি। সর্বশেষ নির্দেশে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর হাতেও ওই অর্থ তুলে দেওয়া হয়নি।

মমতা শিবিরের জন্য এর তাৎক্ষণিক ফল, চারটি অ্যাকাউন্টের উপর আরোপিত বাধা কাটাতে আরও বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষা করতে হবে। অন্যদিকে, হাই কোর্টে দ্রুত শুনানির অনুরোধ মামলাটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রেখেছে। দলীয় পরিচয়, তহবিলের অধিকার এবং পুলিশের তদন্ত—এই তিন বিষয়ের সংযোগেই এখন বিরোধটির পরবর্তী নিষ্পত্তি নির্ভর করছে।

সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট

প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।

লেখক / সম্পাদকীয় ডেস্ক

বাংলাস্ফিয়ার ডেস্ক

বিশ্বস্ত উৎস যাচাই করে পাঠকের জন্য সংবাদ ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে বাংলাSphere সম্পাদকীয় দল।

আরও লেখা →
সকালের খবর, একসঙ্গে

দিন শুরু হোক বাংলাSphere-এর সঙ্গে

বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের নিউজলেটারে যুক্ত হন।

ইমেলে সাবস্ক্রাইব করুন →
বাংলাস্ফিয়ার

বাংলাস্ফিয়ার একটি স্বাধীন বাংলা সংবাদ ও মতামতভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। দেশ, বিশ্ব, রাজনীতি, প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ খবর ও বিশ্লেষণ পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

Edtior's Picks

Latest Articles