নীরুর নিশানায় ঐতিহাসিক সোনা, এশিয়াডে ভারতের ব্যক্তিগত সোনার অপেক্ষা শেষ

যা জানা জরুরি
- আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের একাদশ দিনে মহিলাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন নীরু ধান্ডা।
- মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বরের এই জয়ে চলতি আসরে প্রথম ব্যক্তিগত সোনা পেল ভারত।
- একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাপে প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
অবশেষে কাটল অপেক্ষা। আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের একাদশ দিনে মহিলাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাপ শুটিংয়ে সোনা জিতে ইতিহাস গড়লেন নীরু ধান্ডা। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বরের এই জয়ে চলতি আসরে প্রথম ব্যক্তিগত সোনা পেল ভারত। একই সঙ্গে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে মহিলাদের ব্যক্তিগত ট্র্যাপে প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হলেন তিনি। দলগত সাফল্যের পর ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতাতেও সর্বোচ্চ মঞ্চে পৌঁছে ভারতীয় শিবিরের দিনের প্রধান মুখ হয়ে উঠলেন নীরু।
এই সোনার ঐতিহাসিক তাৎপর্য আরও গভীর। এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ট্র্যাপে ভারতের আগের সোনাটি এসেছিল ১৯৭৮ সালে, ব্যাঙ্ককে রণধীর সিংয়ের হাত ধরে। পুরুষদের সেই সাফল্যের ৪৮ বছর পরে মহিলাদের বিভাগে নীরুর জয় দীর্ঘ ব্যবধান ঘোচাল। তাঁর হাত ধরে ভারতের ট্র্যাপ শুটিং পেল নতুন এক মাইলফলক।
বৃষ্টির মধ্যে ফাইনালেও শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন নীরু। প্রথম পাঁচটি লক্ষ্যেই আঘাত করেন তিনি। দশটি শটের পরে তাঁর সফল লক্ষ্যভেদের সংখ্যা ছিল নয়। পরের পাঁচটি শটেও নিখুঁত থেকে লড়াইয়ে নিজের অবস্থান মজবুত করেন। কুড়িটি শটের মধ্যে উনিশটি লক্ষ্যভেদ করে পদক নিশ্চিত করার পথে এগিয়ে যান ভারতীয় শুটার। প্রতিদ্বন্দ্বীরা একে একে ছিটকে যাওয়ার সময়ও নিজের ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন তিনি। দৃশ্যমানতায় বৃষ্টির প্রভাব পড়লেও তাঁর সোনার অভিযান থামেনি। শেষ পর্বে চিনের সুন ইউনংয়ের সঙ্গে তাঁর সোনার লড়াই জমে ওঠে। শেষ পাঁচটি শটের আগে দুই পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন নীরু, যা তাঁকে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রাখে।
ব্যক্তিগত সোনার কয়েক ঘণ্টা আগেই দলগত বিভাগে রুপো জিতেছিলেন নীরু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আশিমা আহলাওয়াত ও মণীষা কীর। ভারতীয় ত্রয়ীর সম্মিলিত স্কোর ছিল ৩২৮। চিন ৩৪৬ পয়েন্ট নিয়ে সোনা জেতে, আর ৩২৫ পয়েন্ট নিয়ে ব্রোঞ্জ পায় কুয়েত। ফলে একই দিনে একটি সোনা এবং একটি রুপো নিয়ে নিজের এশিয়াড অভিযানকে স্মরণীয় করে রাখলেন নীরু। ভারতের দিনের প্রথম পদকটিও এসেছিল এই মহিলা ট্র্যাপ দলের হাত ধরেই।
যোগ্যতা অর্জনের পর্বেও নীরুর পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি ১১৮ পয়েন্ট করে যুগ্মভাবে শীর্ষে থেকে আটজনের ফাইনালে জায়গা পান। এই স্কোর গেমসের যোগ্যতা অর্জন পর্বের রেকর্ডও স্পর্শ করে। আশিমা করেন ১০৬ এবং মণীষা ১০৪ পয়েন্ট। তাঁরা ব্যক্তিগত ফাইনালে উঠতে না পারলেও তাঁদের অবদানই ভারতকে দলগত রুপোর অবস্থানে পৌঁছে দেয়।
নীরুর সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্যের ধারাতেই এল এই জয়। চলতি বছর ইতালির লোনাটোতে আইএসএসএফ শটগান বিশ্বকাপে মহিলাদের ট্র্যাপে সোনা জিতেছিলেন তিনি। সেটি ছিল তাঁর প্রথম ব্যক্তিগত বিশ্বকাপ পদক। তার আগে এশীয় চ্যাম্পিয়নশিপেও সোনা পেয়েছেন। বিশ্বকাপের সাফল্যের পরে এশিয়ান গেমসের মঞ্চে এই জয় তাঁর উত্থানকে আরও দৃঢ় করল।
নীরুর সোনা জয়ের পরপরই ভারতের মোট পদক দাঁড়ায় ৪৭টিতে—পাঁচটি সোনা, ২১টি রুপো এবং ২১টি ব্রোঞ্জ। আগের চারটি সোনা এসেছিল পুরুষ ও মহিলা কাবাডি, মহিলা ক্রিকেট এবং শুটিংয়ের দশ মিটার এয়ার পিস্তল মিক্সড টিম বিভাগে। ব্যক্তিগত সোনার ঘরটি এত দিন খালি ছিল। একাদশ দিনে সেই ঘর পূরণ করলেন নীরু।
অন্যদিকে, পুরুষদের ট্র্যাপে দলগত পদক পায়নি ভারত। শপথ ভরদ্বাজ, কাইনান চেনাই এবং আহভার রিজভির দল ৩৩৯ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ হয়। তবে শুট-অফের বাধা পেরিয়ে ব্যক্তিগত ফাইনালে জায়গা করে নেন শপথ। মহিলাদের সাফল্যের পাশাপাশি পুরুষদের ব্যক্তিগত লড়াইয়েও তাই ভারতের আশা টিকে থাকে।
দিনের অন্য প্রতিযোগিতাতেও সুখবর আসে। মহিলাদের ৬৫ কেজি বক্সিংয়ের সেমিফাইনালে চিনের লি চু-কে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন পারভিন হুডা, নিশ্চিত করেন অন্তত রুপো। মহিলা স্কোয়াশ দল ইরানকে হারায় ৩-০ ব্যবধানে। তবে সকাল থেকে পাওয়া এই সাফল্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে থাকে নীরুর সোনাই। দলগত রুপো, ব্যক্তিগত সোনা এবং ইতিহাসে নতুন স্থান—এক দিনেই তিন প্রাপ্তি ভারতীয় শুটারের।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



