শেষ দুশো মিটারে পাল্টে গেল সোনা, সতেরোর কোজিমার সামনে এবার বড় স্বপ্ন

যা জানা জরুরি
- চারশো মিটারের প্রথম অর্ধে এগিয়ে ছিলেন সতীর্থ।
- শেষ অর্ধে তাঁকে টপকে সোনা নিলেন সতেরো বছরের ইউমেকি কোজিমা।
- ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টোকিয়োর অ্যাকোয়াটিক্স সেন্টারে এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে জাপানের এই কিশোর সময় করেছেন ৪ মিনিট ৭.০২ সেকেন্ড।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
চারশো মিটারের প্রথম অর্ধে এগিয়ে ছিলেন সতীর্থ। শেষ অর্ধে তাঁকে টপকে সোনা নিলেন সতেরো বছরের ইউমেকি কোজিমা। ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ টোকিয়োর অ্যাকোয়াটিক্স সেন্টারে এশিয়ান গেমসের পুরুষদের ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মেডলিতে জাপানের এই কিশোর সময় করেছেন ৪ মিনিট ৭.০২ সেকেন্ড। প্রতিযোগিতার রেকর্ডের পাশাপাশি এটি বিশ্ব জুনিয়র রেকর্ডও বলে জানিয়েছে রয়টার্স ও বিশেষজ্ঞ সাঁতার-সংবাদমাধ্যম। জিজি প্রেসও তাঁর সময় এবং স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেছে।
জাপানেরই তোমোয়ুকি মাতসুশিতা ৪ মিনিট ৯.৬৪ সেকেন্ডে রুপো পান। চিনের ওয়াং শুনের ব্রোঞ্জের সময় ৪ মিনিট ১৪.৫৯ সেকেন্ড। অর্থাৎ কোজিমা ও মাতসুশিতার ব্যবধান ২.৬২ সেকেন্ড; ব্রোঞ্জজয়ীর সঙ্গে ব্যবধান আরও বড়। আয়োজক দেশের জন্য একই প্রতিযোগিতায় প্রথম দুই স্থান পাওয়াও উল্লেখযোগ্য। গেমসের অধিকাংশ খেলা আইচি অঞ্চলে হলেও সাঁতারের আয়োজন টোকিয়োয়—এই সাফল্যের নির্দিষ্ট স্থান তাই নাগোয়া নয়।
বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক ক্রেগ লর্ডের প্রকাশিত খণ্ডসময় অনুযায়ী, প্রথম বাটারফ্লাই এবং পরের ব্যাকস্ট্রোক—দুই অংশেই মাতসুশিতা দ্রুততর ছিলেন। অর্ধেক দূরত্বে কোজিমা পিছিয়ে পড়েন ১.৯২ সেকেন্ড। শুধু শুরুর অবস্থান দেখে ফল অনুমান করলে তাই ভুল হত। শেষ দুশো মিটারে প্রয়োজন ছিল একসঙ্গে ব্যবধান কমানো এবং গতি ধরে রাখা।
ব্রেস্টস্ট্রোকে ব্যবধানটি প্রায় মুছে ফেলেন কোজিমা। ওই একশো মিটারে তাঁর ১ মিনিট ৯.৭২ সেকেন্ডের বিপরীতে মাতসুশিতার লাগে ১ মিনিট ১১.৬১ সেকেন্ড। শেষ ফ্রিস্টাইলে কোজিমা করেন ৫৬.৮৯, মাতসুশিতা ৫৯.৫৪। দুটি শেষ অংশেই দ্রুততর ছিলেন কিশোর সাঁতারু। সোনা জয়ের গল্পটি তাই নিছক দ্রুত শুরু করে এগিয়ে থাকার নয়; পিছিয়ে থাকা অবস্থায় নিজের শক্তিশালী অংশগুলি কাজে লাগানোর।
ব্যক্তিগত মেডলি আসলে চার ধরনের সাঁতার মিলিয়ে একই খেলোয়াড়ের পরীক্ষা। ক্রমটি বাটারফ্লাই, ব্যাকস্ট্রোক, ব্রেস্টস্ট্রোক এবং ফ্রিস্টাইল। চারশো মিটারে প্রতিটি অংশ একশো মিটারের। রিলের মতো এখানে একজন নিজের অংশ শেষ করে অন্য সাঁতারুর হাতে দায়িত্ব দিতে পারেন না। আবার মেডলি রিলের ক্রমও আলাদা: সেখানে শুরু হয় ব্যাকস্ট্রোক দিয়ে। এই পার্থক্য বোঝা জরুরি, কারণ একই ‘মেডলি’ নাম থাকলেও একটি একক সাঁতারুর বহুমুখী দক্ষতার পরীক্ষা, অন্যটি চারজনের পৃথক দক্ষতা জুড়ে দলের লড়াই।
কোজিমার লক্ষ্য অবশ্য এশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে। রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, ফ্রান্সের লেয়ঁ মারশাঁর সঙ্গে ব্যবধান ধীরে ধীরে কমিয়ে একদিন তাঁকে হারাতে চান। মারশাঁ সেদিন স্থানীয় শিশুদের সাঁতার শেখানোর একটি কর্মসূচিতে টোকিয়োর পুলে ছিলেন। ফলে কিশোরের নতুন সাফল্যের দিনে তাঁর আদর্শও একই প্রাঙ্গণে উপস্থিত। তবে দুই সাঁতারু এই প্রতিযোগিতায় পরস্পরের বিরুদ্ধে নামেননি; ভবিষ্যতের লক্ষ্যকে সেদিনের সরাসরি দ্বৈরথ বলা যাবে না।
বিশ্লেষণ
কোজিমার ফলের সবচেয়ে শিক্ষণীয় দিক শেষ সময়ের চেয়ে তার ভিতরের বিন্যাস। প্রথম দুশোয় পিছিয়ে থেকেও ব্রেস্টস্ট্রোক ও ফ্রিস্টাইলে তিনি ম্যাচের ভাষায় বললে জয়ের জায়গা তৈরি করেছেন। মেডলিতে চারটি অংশের ভারসাম্য কত গুরুত্বপূর্ণ, খণ্ডসময়গুলি তার পরিষ্কার উদাহরণ। শুধু একটি ভঙ্গিতে দ্রুত হওয়া যথেষ্ট নয়; চারটি অংশ মিলিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছতে হয়।
একই কারণে তাঁকে এখনই ভবিষ্যতের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই। জুনিয়র রেকর্ড বয়সভিত্তিক সাফল্য, গেমস রেকর্ড নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতার সেরা—কোনওটিই সব বয়সের বিশ্বরেকর্ডের সমার্থক নয়। বড় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ধারাবাহিকতা, সুস্থ থাকা এবং আরও উন্নতি দরকার হবে। তাঁর নিজের বক্তব্যেও লক্ষ্যটি ধাপে ধাপে ব্যবধান কমানোর, এক লাফে সব জিতে নেওয়ার নয়।
টোকিয়োর এই সোনা সেই যাত্রায় একটি পরিমাপযোগ্য অগ্রগতি দিয়েছে। বয়সের কারণে বিস্ময় প্রকাশ করা সহজ; কোন অংশে উন্নতির জায়গা রয়েছে, তা খুঁজে বের করা বেশি কার্যকর। প্রশিক্ষণের অগ্রাধিকার ঠিক করতেও সেই হিসাবই কাজে লাগবে। প্রতিভার পরিচয় মিলেছে; এখন নজর থাকবে, সেই প্রতিভা পরের প্রতিযোগিতাগুলিতে কত নিয়মিত নিজের সময়কে নামাতে পারে। একটি ভালো দিনকে দীর্ঘ সাফল্যের ধারায় বদলানোই হবে পরবর্তী পরীক্ষা।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



