১৫ বছর জেল, ওয়াইনস্টিনের

যা জানা জরুরি
- হলিউডের প্রাক্তন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে যৌন নিগ্রহের মামলায় ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিল নিউ ইয়র্কের আদালত।
- বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর সাজা ঘোষণা করেন বিচারক কার্টিস ফারবার।
- ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের ফ্ল্যাটে প্রাক্তন টেলিভিশন প্রযোজনা-সহকারী মিরিয়াম হ্যালিকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে এই মামলা চলছিল।
বিস্তারিত প্রতিবেদন
হলিউডের প্রাক্তন চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে যৌন নিগ্রহের মামলায় ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিল নিউ ইয়র্কের আদালত। বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর সাজা ঘোষণা করেন বিচারক কার্টিস ফারবার। ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের ফ্ল্যাটে প্রাক্তন টেলিভিশন প্রযোজনা-সহকারী মিরিয়াম হ্যালিকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে এই মামলা চলছিল। দীর্ঘ আপিল ও পুনর্বিচারের পর ফের সাজা হল ওয়াইনস্টিনের।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান হ্যালি। গত সাত বছর ধরে তাঁকে যে হয়রানি, অপমান এবং প্রকাশ্য কুৎসার মুখে পড়তে হয়েছে, তার কথাও বলেন তিনি। হ্যালির অভিযোগ, ওয়াইনস্টিন, তাঁর আইনজীবী এবং কয়েকজন পডকাস্ট উপস্থাপক প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন। এমনকি তাঁকে হেয় করার জন্য ওই উপস্থাপকদের টাকা দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
হ্যালির কথায়, নিগ্রহের পর থেকে যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাঁকে যেতে হয়েছে, তা তাঁর কাছে ‘ইতিমধ্যেই যাবজ্জীবন শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে’। সাজা নির্ধারণের সময় বিচারককে এই পরিস্থিতিও বিবেচনা করার অনুরোধ জানান তিনি।
অন্য দিকে, সরকারি কৌঁসুলিরা ওয়াইনস্টিনের জন্য ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং মুক্তির পরে আরও পাঁচ বছর নজরদারির আবেদন করেছিলেন। নিউ ইয়র্কের সহকারী ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নিকোল ব্লামবার্গ আদালতে বলেন, নিজের অপরাধের জন্য ওয়াইনস্টিন কখনও প্রকৃত অনুশোচনা দেখাননি।
তবে আদালতে নিজের বক্তব্যে ওয়াইনস্টিন দাবি করেন, হ্যালির প্রতি তাঁর আচরণের জন্য তিনি অনুতপ্ত। তাঁর কথায়, ‘অনেক অনুশোচনা নিয়েই আমি বেঁচে আছি। নিজের কৃতকর্মের জন্য আন্তরিক ভাবে ক্ষমা চাইছি।’
ওয়াইনস্টিনের আইনজীবীরা অবশ্য দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিরোধিতা করেন। তাঁদের দাবি, ৭৪ বছরের ওয়াইনস্টিনের শারীরিক অবস্থা দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার উপযুক্ত নয়। রক্তের ক্যানসার, হৃদ্রোগ-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে তাঁরা ন’বছরের সাজা চেয়েছিলেন।
সাজা ঘোষণার আগে বিচারক ফারবার বলেন, ওয়াইনস্টিনকে শুধু চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেই মনে রাখা হবে না, ‘মি টু’ আন্দোলনের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবেও তাঁর নাম থেকে যাবে। বিচারকের মতে, চলচ্চিত্রজগতে কাজ করার যে স্বপ্ন হ্যালির ছিল, ওয়াইনস্টিন সেই স্বপ্ন ও ক্ষমতার সম্পর্কের সুযোগ নিয়েছিলেন।
ওয়াইনস্টিনকে উদ্দেশ করে ফারবার বলেন, তাঁর হাতে সাফল্য ও সম্মান—সবই ছিল। অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগও ছিল। কিন্তু হ্যালিকে নিগ্রহের মাধ্যমে তিনি সেই সব বিসর্জন দিয়েছেন।
এই মামলার আইনি লড়াই অবশ্য বহু বছরের। ২০২০ সালে হ্যালিকে যৌন নিগ্রহ এবং অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখা জেসিকা ম্যানকে ধর্ষণের ঘটনায় ওয়াইনস্টিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল জুরি। সে বার তাঁকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত সেই দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায় বাতিল করে। আদালতের বক্তব্য ছিল, মূল অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন কয়েকজন মহিলাকেও সাক্ষ্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যাঁরা ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে পৃথক যৌন নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁদের সাক্ষ্য গ্রহণ বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মত দেয় আদালত।
এর পর ২০২৫ সালে ফের বিচার শুরু হয়। সেই বিচারেও হ্যালির বিরুদ্ধে যৌন নিগ্রহের ঘটনায় ওয়াইনস্টিনকে আবার দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সেই রায়ের ভিত্তিতেই বুধবার নতুন করে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ঘোষণা করল আদালত।
সূত্র ও সম্পাদকীয় নোট
প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট উৎস ও প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি আপডেট করা হতে পারে।



